ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : সময়োচিত ঘোষণা, প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৫০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 69

গত রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র স্থাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট শুরু করা যাবে। দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে রূপপুরের পর পদ্মার ওপারে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মার ওপারে যদি আমরা আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারি, তা হলে বিদ্যুতের জন্য আর কোনো অসুবিধা হবে না। তারপরও আমরা বহুমুখী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে যাচ্ছি এজন্য যে, মানুষ যেন বিদ্যুৎ সুবিধা পায়। পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্যই ব্যবহার করব। পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। সেটা গ্রামের মানুষের কাছে যাবে। তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে।

কাজ সম্পন্ন হলে রূপপুর কেন্দ্রে দুটি ইউনিটে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার কথা। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর প্রক্রিয়ায় এই চুল্লি স্থাপন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রূপপুরের এই পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছে রাশিয়া। ভিভিআর-১২০০ মডেলের এই রিঅ্যাক্টরে পরমাণু জ্বালানি পুড়িয়ে মূল শক্তি উৎপাদন করা হবে এবং ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে একক প্রকল্প হিসেবে এটি সবচেয়ে বড় কোনো অবকাঠামো। মহামারি করোনার মধ্যেও এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দিন-রাত সেখানে কাজ চলছে।

বলা বাহুল্য, বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা দিচ্ছে রাশিয়ার আণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম। তারাই প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করবে এবং ইউরেনিয়াম জ্বালানি ব্যবহারের পর বর্জ্য ফেরত নিয়ে যাবে। এখানে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। পারমাণবিক চুল্লির কাছে যারা কাজ করবেন তাদেরও অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে।

দেশের ৯৯ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের যত আর্থিক সচ্ছলতা আসবে, তাদের চাহিদাও বাড়তে থাকবে। তা ছাড়া আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। সেখানে শিল্পায়ন হবে। যত বেশি শিল্পায়ন হবে, তত বেশি বিদ্যুতের চাহিদাও তৈরি হবে। সেটা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালনের পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি।

বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আইন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এই আইন করে আমরা বেসরকারি খাতটা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। শিল্পপতিরা যাতে ছোট ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারেন, সেটাও আমরা অনুমোদন দিয়েছি। সেক্ষেত্রে আমরা বিশেষ আইনও করি। এ ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত সরকার সেটা বন্ধ করে দেয়। নানা প্রতিক‚লতা অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র স্থাপনের উদ্বোধন করেছেন।

আমাদের দেশে উন্নত অনেক দেশের মতো সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদ নেই। আমাদের আছে বিশাল জনশক্তি, সমৃদ্ধ কৃষি এবং মানুষের ইচ্ছাশক্তি। এগুলোর সমন্বয়েই আজকের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা সরকারের টানা তিন মেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। উন্নয়নের রোল মডেলের যে তকমা আমরা অর্জন করেছি তা ধরে রাখতে গেলে আমাদের আরও পথ হাঁটতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, আমাদের এ অর্জন আরও প্রসারিত হবে। তার জন্য বহুরৈখিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আগামী সময়ের কথা ভেবে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষণা করায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশ পারমাণবিক ক্লাবে যুক্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]