ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শেখ রাসেল দিবস ঘিরে যত আয়োজন
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১, ৯:০৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 118

আর পাঁচ দিন পর শেখ রাসেল দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরম আদরের ছোট সন্তান শেখ রাসেল। রাসেলের স্মরণে আগামী ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস পালিত হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দিনটিকে রাসেল দিবস ঘোষণা করেন। রাসেল দিবসটি যথাযথ পালনের জন্য সম্প্রতি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণসহ এক ডজন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 

অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি স্কুল-কলেজে শেখ রাসেল কর্নার তৈরি, সিটি ও পৌরসভা এলাকায় ডিজিটাল লাইব্রেরি তৈরি, আগামী তিন বছরের মধ্যে ৫ হাজার ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, ওইদিন দক্ষিণ প্লাজায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুইজ প্রতিযোগিতা, বৃত্তি চালু করা, স্মৃতিচারণমূলক প্রামাণ্যচিত্র তৈরি, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছোট আকারে শেখ রাসেল ডিকশনারি তৈরি, একটি মুর‌্যাল তৈরি, কনসার্টের আয়োজন, সেমিনার, এতিমখানায় বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা ও পথশিশুদের ডেটাবেজ তৈরি করা। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজন করা।

সভা সূত্রে জানা গেছে, শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, শেখ রাসেলকে স্মরণ ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নির্মমভাবে হত্যা করার ইতিহাস পৌঁছে দিতে হবে। বাংলাদেশের সব স্কুল থেকে পর্যায়ক্রমে মিউজিয়াম পরিদর্শন করা প্রয়োজন। যেন সেই কাহিনি শিশুদের মনে প্রভাব ফেলে। 

আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল স্মৃতি জাদুঘর ৩০ দিনের একটি ভিজিট প্রোগ্রাম ডিজাইন করবে। এই আলোচনার সঙ্গে একমত পোষণ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব। তিনি প্রতিটি স্কুলে বঙ্গবন্ধু কর্নারের পাশাপাশি শেখ রাসেল কর্নার রাখার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ডিজিটাল কুইজ করার প্রস্তাব রাখেন। 

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সভায় উল্লেখ করা হয়, স্পিকার সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবেন। 

ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, শেখ রাসেলের ক্লাসরুম আছে। সে কোন ক্লাসে বসেছে, তার যেসব শিক্ষক বেঁচে আছেন তাদের কিছু স্মৃতিচারণ যদি জাতীয়ভাবে দেখানো যায়। এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শেখ রাসেলের সহপাঠী, শিক্ষকমণ্ডলী যারা বেঁচে আছেন তাদেরকে নিয়ে একটি স্মৃতিচারণমূলক প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে রাসেলের নামে বৃত্তি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের পক্ষ থেকে আলোচনায় উঠে আসে, শেখ রাসেলের নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করা যায় কি না। একই সঙ্গে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছোট আকারে একটি ডিকশনারি তৈরি করা যেতে পারে। ওয়ার্ড প্রসেস গেম যেখানে বাচ্চারা সারাবছর খেলবে। আর সেই পয়েন্ট কাউন্ট হবে তার পরের বছরের এক দিন। অর্থাৎ শেখ রাসেলের দিবসে যার যত বেশি পয়েন্ট হবে তাদেরকে পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া শেখ রাসেলের জন্য একটি ওয়েবসাইট খোলার প্রস্তাব আসে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শেখ রাসেল ডিকশনারি তৈরি হবে। গেম বানানো হবে। বছরে এক দিন পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়াও একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হবে।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়, শেখ রাসেল দিবসে শিশুদের লেখা নিয়ে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা। তবে সেদিন সব স্কুলে আলোচনা সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সারা দেশের সব ল্যাবের মধ্যে যারা সবচেয়ে ভালো করেছে তাদেরকে ওই দিবসে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 
জননিরাপত্তা বিভাগের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যার সময় যে পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে রাসেলকে কেড়ে নেয় তার একটি অডিও ভিজ্যুয়ালসহ প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা হবে। 

আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে বেশ কিছু আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হবে। যেখানে শেখ রাসেলের ১০ বছরের জীবনে এক রিকশাওয়ালাকে শিঙাড়া খাওয়ানোর বিষয়টি তুলে ধরা হবে। 

আইসিটি বিভাগের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পথশিশুদের ডাটাবেজ করা হবে। আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ৫০০ বাচ্চাকে পথ থেকে পরিবার, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

ঢাবির কর্মসূচি : ১৮ অক্টোবর ‘শহীদ শেখ রাসেল’ দিবস পালন করবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়। মঙ্গলবার বিশ^বিদ্যালয়ের জনসংযোগ অধিদফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন। বেলা ১১টায় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কু অ্যান্ড কলেজে কেক কাটা এবং শহীদ শেখ রাসেলের শিশু-কিশোর জীবনের ওপর আলোকপাত করে এক আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]