ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১ ৩ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বিশ্বের কোথাও স্বামীর সমান আয় নেই স্ত্রীর
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৪০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 32

বিশ্বজুড়েই আয় বৈষম্যের শিকার নারীরা। নতুন এক সমীক্ষা অনুযায়ী, যেখানে পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী, সেখানে স্বামীদের আয় সবসময়ই বেশি। পৃথিবীর এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে স্ত্রীরা অন্তত স্বামীদের সমান আয় করেন।

১৯৭৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চার দশক ধরে চলে এই গবেষণা। এতে অংশ নেয় ৪৫টি দেশের দম্পতি। তাদের আয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে এই ফল পান গবেষকরা। পরিবারে উপার্জনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ  বৈষম্যের ওপর প্রথমবারের মতো পরিচারিত বৈশ্বিক জরিপ এটি। ব্যাঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের সেন্টার ফর পাবলিক পলিসির অধ্যাপক হেমা স্বামীনাথন এবং অধ্যাপক দীপক মালগান এ গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সি স্বামী-স্ত্রীর আয়ের তথ্য নেওয়া হয়েছে। দাতব্য সংস্থা লুক্সেমবার্গ ইনকাম স্টাডি (এলআইএস)  এসব তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করেছে।

অধ্যাপক স্বামীনাথন বলেন, ‘প্রচলিতভাবে দারিদ্র্যের হার নির্ধারণে পরিবারকে একটি একক হিসেবে দেখা হয়। সাধারণভাবে একটি পরিবারের মোট আয়কে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে হিসাব ধরা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারই বড় একটি বৈষম্যের কেন্দ্র এবং আমরা তার মোড়ক খুলতে চেয়েছি।’

গবেষণা প্রতিবেদনে পরিবারকে ‘ব্ল্যাকবক্স’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অধ্যাপক স্বামীনাথন বলেন, ‘আমরা ভেতরে দেখছি না। কিন্তু ভেতরে দেখলে কী দেখতে পাব সেটাই বের করছি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের রমবাজারে বৈষম্যের বিষয়টি সবারই জানা। সাধারণভাবে কর্মক্ষেত্রে খুব কম নারীকেই দেখা যায় এবং তারা খুব কমই পূর্ণকালীন কোনো কাজে অংশ নেন। এই প্রেক্ষাপটে পুরো বিশ্বে নারী-পুরুষ আয়  বৈষম্যের চিত্রটি বুঝতে এ সমীক্ষা চালানো হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক স্বামীনাথন ও মালগান।

অধ্যাপক স্বামীনাথন বলেন, ‘লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে নর্ডিক দেশগুলোকে আশার আলো হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু সেখানে অবস্থাটা কেমন? শ্রমবণ্টন এবং গৃহস্থালির সম্পদ বণ্টনে সেটা কী সমান?’

সার্বিক বৈষম্য এবং পরিবারের ভেতরের বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে ক্রম অনুযায়ী দেশগুলোর র‍্যাংকিং করেছেন এই দুজন গবেষক। তাদের সমীক্ষায় বিভিন্ন দেশে ধনী এবং দরিদ্র পরিবারগুলোয় দীর্ঘকাল বৈষম্য বিদ্যমান থাকতে দেখা গেছে।

অধ্যাপক মালগান বলেন, ‘সাম্প্রতিক তথ্য পর্যালেচনায় দেখা যায়, এমন একটি দেশও নেই যেখানে চাকরিজীবী দম্পতিদের মধ্যে স্ত্রীরা স্বামীদের সমান উপার্জন করেন, সেটা সবচেয়ে ধনী কিংবা উন্নত দেশেও নেই।’ তিনি বলেন, এমনকি বিশ্বে সবচেয়ে কম লিঙ্গ বৈষম্যের নর্ডিক দেশগুলোতেও আমরা দেখেছি উপার্জনের ক্ষেত্রে নারীদের অংশীদারিত্ব ৫০ শতাংশের কম।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের কম আয়ের কারণ কিছুটা সর্বজনীন। সাধারণত পুরুষদের উপার্জনকারী ও নারীদের সংসারী বা গৃহিণী হিসেবে ভাবা হয়। অনেক নারীই বাচ্চা হওয়ার পরে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। অনেক দেশেই একই কাজের জন্য নারীদের বেতন পুরুষদের চেয়ে কম হয়। বাড়ির কাজ ও বাচ্চা দেখাশোনা করা নারীদের কাজ বিবেচনা করা হয়।

২০১৮ সালে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীরা দিনের ৭৬.২ শতাংশ সময়ই ব্যয় করেন বিনা বেতনের কাজে। যা পুরুষদের চেয়ে তিনগুণ বেশি। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই হার ৮০ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বিনা বেতনে  দেখাশোনার কাজ নারী ক্ষমতায়নে প্রধান বাধা। তাদের কম আয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা। অধ্যাপক স্বামীনাথন বলেন, পরিবারের স্ত্রীর কাজ অদৃশ্য, কিন্তু টাকা তো দৃশ্যমান। তাই যেসব পরিবারে স্ত্রী উপার্জন করেন তাদের মতামতের গুরুত্ব থাকে বেশি। এতে করে যেকোনো দাবি করতে পারেন তিনি।

অধ্যাপক মালগান বলেন, এই বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে। তবে চার দশকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরিবারের ভেতরে এই বৈষম্য ২০ শতাংশ কমে এসেছে। এটাকে এ গবেষণার সবচেয়ে ‘আশাব্যঞ্জক’ বিষয় বলে গবেষকরা মনে করছেন।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]