ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

আবারও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার ফেসবুক
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ১:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 156

সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াবার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ফেসবুক। বিগত এক দশকে দেশে ছড়িয়ে পড়া সকল সাম্প্রদায়িক সংঘাতের কেন্দ্রে ছিলো এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় মিথ্যা ও সংঘাতপূর্ণ তথ্য বন্ধের বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার কথা বারবার জানালেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। এ ধরনের 'প্রোপাগান্ডা' বা মিথ্যা ছড়ানোর জন্য যেই ক্ষয়-ক্ষতি হয়, সে বিষয়েও কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করেনি এই টেক জায়েন্ট।

সম্প্রতি ফেসবুক ছেড়ে আসা কর্মকর্তা ও হুইসেলব্লোয়ার ফ্রান্সেস হাউজেন জানান, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিচ্ছে ফেসবুক। তিনি আরও জানান, কীভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে নিরাপদ করা যায় তা ফেসবুকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন। কিন্তু তারা সেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো আনবেন না, কারণ মানুষের চেয়ে তাদের কাছে মুনাফা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে বিগত এক দশকে কয়েকটি সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে এসব হামলার পটভূমি তৈরি করা হয়েছে। ২০১২ সালে দেশে বৌদ্ধদের ওপর সবচাইতে বড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উৎস ছিলো এই সোশ্যাল মিডিয়া। কক্সবাজার জেলার রামুতে ২০১২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর ফেসবুকে একটি ছবি ট্যাগ করার ঘটনা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায়। উত্তম বড়ুয়া নামে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের এক যুবকের ফেসবুকে কোরআন অবমাননার ছবি কেউ ট্যাগ করে দেয়। এর জের ধরে রামুতে বৌদ্ধ স্থাপনা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িঘরে হামলা করা হয়। দশটিরও বেশি বৌদ্ধ বিহার ও প্রায় ২৫টি বাড়িতে হামলা হয়েছিলো। এই ফেসবুক নামের কোনো ব্যক্তিকে অবশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং এই ঘটনায় কারও শাস্তির খবরও পাওয়া যায়নি।

২০১৬ সালের ৩০শে অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুকে 'ইসলাম বিদ্বেষী ছবি' পোস্টের অভিযোগ তোলা হয় রসরাজ নামের এক হিন্দু ব্যক্তির নামে। এ সময় তাকে মেরে পুলিশে দেওয়া হয়, জেলও হয় তার। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐ এলাকায় হিন্দু পরিবারের তিনশোর বেশি ঘর-বাড়িতে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। জেল থেকে বের হয়ে এই রসরাজ জানান, ফেসবুক কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা তিনি জানেন না। এর পাসওয়ার্ড সম্পর্কেও তার কোনো জ্ঞান নেই!

২০১৭ সালের ১০ই নভেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়াতে ফেসবুক থেকে ছড়ানো গুজবের জের ধরে এক জনের মৃত্যু হয়। এ সময়ও ফেসবুকে থেকে নবীকে অবমাননার অভিযোগ তোলা হয় এক হিন্দু তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে গঙ্গাচড়ায় কয়েকদিন মাইকিং করে হামলা হয়েছিলো হিন্দুদের বাড়িঘরে।

২০১৯ সালেও একইভাবে হামলার চেষ্টা করা হয় ভোলার বোরহানউদ্দিনে। শুধুমাত্র এ ক্ষেত্রে পুলিশ আসল পোস্ট দাতাদের গ্রেফতারে সক্ষম হয় যে কোনো বড় হামলার আগে। এক হিন্দু ব্যক্তির আইডি হ্যাক করে দুইজন মুসলিম ব্যক্তি পোস্টটি করে বলে সে সময় জানা যায় এবং সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়।

কিন্তু বুধবার (১৩ অক্টোবর) কুমিল্লার ঘটনায় পুলিশকে রাতে ৯৯৯-এ কল করে জানানো হয় মণ্ডপে কোরআন থাকার ঘটনা এবং সকালে এসে পুলিশ যখন তা উদ্ধার করতে আসে, ততক্ষণে সেখানে অনেক মানুষের জমায়েত হয়ে রয়েছে। মুসলিমদের পবিত্রগ্রন্থ কোরআন সেখানে কীভাবে গেলো, এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না রেখে কুমিল্লার বিভিন্ন মণ্ডপে হামলার পরিকল্পনা চলতে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রায় ৮ থেকে ১০ জন বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভে এসে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করলেও তাদের বিরত করা, আটক করা বা বিষয়গুলোকে প্রতিহত করার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার কোনো চেষ্টা ছিলো না, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে সচেতন মহলে। এ ছাড়াও দায়িত্ব পালনের কথা জানালেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এ ধরনের বিদ্বেষমূলক পোস্ট, ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবাধে প্রচার হতে দিচ্ছে যা পক্ষান্তরে ফ্রান্সেস হাউজেনের দাবিকেই সমর্থন জানাচ্ছে।

ফেসবুকের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা রয়েছে দেশের বাইরে ও ভিতরে। দেশের অভ্যন্তরে একাধিক সাংবাদিক ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ফেসবুক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

গাজী নাসিরুদ্দিন আহমেদ লেখেন, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়ায় ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত বলে আমি মনে করি। তার এই পোস্টের কমেন্টে অনেকেই দাবি জানান, ফেসবুক থেকে ধর্মীয় সকল বিষয় তুলে দেওয়া উচিত।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফেসবুক   গুজব   সাম্প্রদায়িকতা   ভুয়া নিউজ  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]