ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মাদক নির্মূলে ইসলামের বিধান
ড. আবদুল আলীম তালুকদার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ৩:৫৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 92

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির পাশাপাশি আরও একটি সমস্যা মহামারির মতোই প্রকট আকার ধারণ করেছে, তা হলো মাদকাসক্তি বা নেশা; যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজব্যবস্থা এমনকি রাষ্ট্র ধ্বংসেরও একটি অশনিসঙ্কেত। আমাদের দেশে কমবেশি সব বয়সি লোকের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা লক্ষ করা গেলেও তা ইদানীংকালে কিশোর ও যুব সমাজ তথা তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা মানবতার জন্য রীতিমতো হুমকিস্বরূপ। ইসলামে নেশা বা মাদকদ্রব্য গ্রহণকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব দ্রব্য গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে, তন্দ্রাচ্ছন্নতা ও আসক্তিতে পরিণত হয়, মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়ে, মত্ততা জন্মায়, বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় তাই মাদক অর্থাৎ যা নেশা সৃষ্টি করে তা-ই মাদক। সুরা মায়িদার ৯০নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ ছাড়া কিছু নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাকো। যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।’

নেশাজাতীয় দ্রব্য বা মদ্যপান মানুষের ফিতরাত ও স্বভাবের বিপরীতমুখী কাজ। যা মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে দিয়ে পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত করে। এ মর্মে সুরা বাকারার ২১৯নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তারা আপনাকে মদ, জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলে আপনি বলুন, উভয়টিতে রয়েছে মহাপাপ।’ মরণঘাতী মাদকদ্রব্য বা নেশা শুধু যে ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে তা না বরং এর বিরূপ প্রভাব পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপরও ঝেঁকে বসে। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে কলুষিত করার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে এই নেশা। আমরা অত্যন্ত অসহায়ের মতো লক্ষ করছি যে, মাদকের বিষাক্ত ছোবল প্রতিনিয়ত ধ্বংস করে দিচ্ছে অসংখ্য সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিভাকে। মাদকাসক্তির প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে সমাজে হরহামেশা বেড়েই চলেছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড, ঝগড়াবিবাদের মতো চরম অস্থিরতা; তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে পাপাচার-দুরাচার, অপরাধ-অপকর্ম, পারিবারিক কলহ-অশান্তি, সামাজিক বিশৃঙ্খলতা, আত্মিক কলুষতা, ধর্মীয় মূল্যবোধের বিচ্যুতি ও বেহায়াপনা।

বর্তমানে প্রচলিত নেশাজাতীয় দ্রব্যগুলো হলো- হেরোইন, ফেনসিডিল, মরফিন, পেথেড্রিন, এলএসডি, সিসা, কোকেন, গাঁজা, তাড়ি, নানা ব্র্যান্ডের দেশি-বিদেশি মদ, আফিম, ইয়াবা, মারিজুয়ানা, রেকটিফাইড স্পিরিট, আইকা গাম ইত্যাদিসহ বিভিন্ন ধরনের ড্রাগ; যার দ্বারা যুব-তরুণ সমাজ নেশায় আসক্ত হচ্ছে। এই নেশাজাত দ্রব্য পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা মোতাবেক এসব নেশাদায়ক দ্রব্যসহ আরও যেসব জিনিস গ্রহণ করলে মানুষ নেশায় আসক্ত হয়, তা গ্রহণ করা হারাম। এতে কবিরা গুনাহ হয়। যার গুনাহ খালেছ নিয়তে তাওবা ছাড়া ক্ষমা হয় না।

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে ১০টি বিষয়ে উপদেশ প্রদান করেছেন, (তন্মধ্যে একটি হলো) কখনও শরাব তথা মদ পান করবে না। কেননা, তা সব প্রকার অশ্লীল কর্মের উৎস। (আহমদ)। তামাকজাত দ্রব্যের (বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, তামাক পাতা, গুল ইত্যাদি) নিকোটিন মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের সংস্পর্শে এলে নেশার সৃষ্টি করে, অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। সেজন্য এসবে কেউ আসক্ত হলে সে তা সহজে ছাড়তে পারে না। তা ছাড়া তামাকজাত নানান দ্রব্য গ্রহণের কারণে ফুসফুসের নানান রোগ, ক্যানসার, হার্টের বিভিন্ন জটিলতাসহ স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা জীবনবিধ্বংসী ও বিপুল পরিমাণে অর্থের অপচয়কারী। তাই বর্তমান সময়ে অধিকাংশ আলেমের মতে, এসব মাদকদ্রব্য তথা নেশা গ্রহণ করা বৈধ নয়। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘প্রতিটি নেশাদার বস্তুই মাদক আর সব মাদকদ্রব্যই হারাম।’ (মুসলিম, মিশকাত)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা মদ্যপান করবে না। কেননা এটা সব মন্দের চাবিকাঠি।’ (ইবনে মাজা)

মাদকের নেশার ভয়াবহতা সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ব্যভিচারীর ঈমান থাকে না, মদ্যপান করার সময় মদ্যপানকারীর ঈমান থাকে না এবং চোর চৌর্যবৃত্তি করার সময় তার ঈমান থাকে না। (বুখারি ও মুসলিম)।

তা ছাড়া মিরাজের রাতে নবী (সা.)-কে বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি দেখানো হয়েছিল। সেখানে মাদক তথা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণকারীদেরও শাস্তি দেখানো হয়েছে। সেখানে তিনি লক্ষ করেন যে, নেশাগ্রস্ত লোকেরা জাহান্নামিদের শরীর থেকে নির্গত দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা পুঁজ পান করছে।’ (বুখারি ও মুসলিম)। সুতরাং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী, যা কিছু মস্তিষ্কের সংস্পর্শে এসে জ্ঞান-বুদ্ধিকে বিপর্যস্ত ও নেশাগ্রস্ত করে তোলে তা-ই হারাম। চাই তা তরল হোক, বায়বীয় হোক কিংবা কঠিন পদার্থই হোক না কেন। মহান আল্লাহ মানব সম্প্রদায়কে মরণঘাতী নেশার হাত থেকে পরিত্রাণ দান করে সুন্দর এই পৃথিবীর বুকে সুস্থ-সবল জীবনযাপন করার তৌফিক দান করুন।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, শেরপুর সরকারি, মহিলা কলেজ, শেরপুর

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  মাদক  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]