ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

১৬ বছরের দুঃস্বপ্ন ঘুচল না
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ৪:২৯ এএম আপডেট: ১৪.১০.২০২১ ৬:৩৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 42

ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে পারেনি জামাল ভূঁইয়ারা। ম্যাচের শেষদিকে বক্সের মধ্যে শূন্যে ভাসা বলের দখল নিতে গিয়ে ফলোথ্রুতে মাটিতে পড়ে যান নেপাল ফরোয়ার্ড। বাংলাদেশের কারও সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা টিভি রিপ্লেতেও দেখা যায়নি। তারপরও বাংলাদেশের বিপক্ষে পেনাল্টির নির্দেশ দিলেন উজবেকিস্তানের রেফারি আখরল রিসকুলায়েভ। রেফারির বদান্যতায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করতে কোনো ভুল করেননি নেপালের অঞ্জন বিস্তা। আর এই গোলেই সাফ চ্যািম্পয়নশিপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠল নেপাল, ঘুচল না বাংলাদেশের ১৬ বছরের দুঃস্বপ্ন (সাফে বাংলাদেশ সর্বশেষ ফাইনাল খেলেছে ২০০৫ সালে)। এর দায় ম্যাচ শেষে রেফারির ঘাড়েই চাপালেন বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন।

বুধবার মালদ্বীপের রাজধানী মালের রাশমি ধান্দু স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষদিকে রেফারির দু’দুটো সিদ্ধান্ত শেষ করে দিয়েছে বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা। ৯ মিনিটের মাথায় গোল করে যে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন সুমন রেজা। তার গোলে জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। শেষবেলায় রেফারির কারণে সেই পথ বদলে গেল। ম্যাচ শেষে তাই রেফারির দুটো ভুলকেই সামনে টেনে এনেছেন কোচ ব্রুজন। তার শিষ্যদের ফাইনালে উঠতে না পারার কারণ হিসাবে রেফারিকেই দুষেছেন এই স্প্যানিশ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বুজন বলেছেন, আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি। ম্যাচে রেফারি নিরপেক্ষ ছিলেন না।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটের মাথায় নেপালের একটি আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানো আনিসুর রহমান জিকো। এ সময় বক্সের বাইরে অগত্যা বল লেগে যায় বাংলাদেশ গোলরক্ষকের হাতে। রেফারি সরাসরি লালকার্ড দেখান জিকোকে। ১০ জনের দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ। একজন কম নিয়েও লড়াই চালিয়ে যায় ব্রুজনের শিষ্যরা। কিন্তু ৮৬ মিনিটের মাথায় ঘটে যায় চূড়ান্ত সর্বনাশ। ম্যাচের শেষদিকে হতাশার চেহারাটাই ফুটে উঠছিল নেপালি প্লেয়ারদের মাঝে। কিন্তু পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়ে তাদের সেই হতাশা কাটিয়ে দিলেন উজবেক রেফারি। ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া এ দুটো ঘটনা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কোচ ব্রুজন। তার ভাষায়, বক্সের বাইরে জিকো প্রথমে পা দিয়ে বল স্পর্শ করেছে। এরপর বল তার হাত স্পর্শ করেছে। এটা কোনোভাবেই তার ইচ্ছাকৃত নয়। এটাতে কোনোভাবেই লাল কার্ড হয় না। আর পেনাল্টির সিদ্ধান্তটিও ছিল ভুল।’

রেফারির দুটো সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেছে, এটা যেমন সত্যি, পাশাপাশি আরও কিছু সত্য কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। ম্যাচের নবম মিনিটেই লিড নেয় বাংলাদেশ। এ সময় অধিনায়ক জামালের ফ্রি কিক বিপক্ষ দলের একজনের শরীরে লেগে চলে আসে অরক্ষিত সুমন রেজার কাছে। লক্ষ্যভেদ করতে কোনো ভুল করেননি ঘরোয়া ফুটবলে উত্তরা বারিধারার এই ফরোয়ার্ড। লিড নেওয়ার পর পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেন বাংলাদেশ কোচ ব্রুজন। ফুটবল ম্যাচে মাত্র এক গোলের পুঁজি নিয়ে প্রতিপক্ষকে ৮০-৮৫ মিনিট আটকে রাখা, এতে আত্মঘাতী হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। কেননা যেকোনো সময় বিপদ ঘটে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলাও ছিল বড্ড বেশি দৃষ্টিকটু। বল নেপাল সীমানার মাঝমাঠ অতিক্রম করেছে কদাচিৎ। আর বাংলাদেশের এই অতিরক্ষণ মানসিকতার সুযোগ নিয়েছে নেপাল। আক্রমণের পর আক্রমণ করে গেছে দলটি। বাংলাদেশ শিবিরের অতিরক্ষণ মানসিকতার সঙ্গে যোগ হয়েছে ফাউল করে খেলার প্রবণতা। আসর জুড়েই ব্রুজন শিষ্যদের মধ্যে দেখা গেছে এই প্রবণতা। এর খেসারতও দিতে হয়েছে। কার্ড জটিলতায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাওয়া যায়নি অপরিহার্য প্লেয়ারদের। যেমন নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের মর্যাদায় উন্নীত হওয়া ম্যাচে ছিলেন না ডিফেন্সের অন্যতম নির্ভরতা ইয়াসিন আরাফাত। আগের ম্যাচে খেলতে পারেননি রাকিব হোসেন।

ভারতের বিপক্ষে শেষ ৩০ মিনিট খেলতে হয়েছে ১০ জন নিয়ে। নেপালের বিপক্ষেও তাই। প্রায় প্রতি ম্যাচেই কার্ড জটিলতায় পড়েছে বাংলাদেশ। তারপরও বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবলারদের সতর্ক করা হয়নি। নেপালের ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেটা আর নতুন করে বলার কিছুই নেই। তারপরও পুরনো পথ থেকে সরে আসেনি ব্রুজন শিষ্যরা। সব কথার এক কথা- নেপালের বিপক্ষে নেতিবাচক মানসিকতার চূড়ান্ত প্রদর্শনী করেছে বাংলাদেশ দল। রেফারির দায় স্বীকার নিয়েও বলা যায়, ফুটবলকে জেতানোর খেলা খেলেনি জামালরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]