ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

গর্ভাবস্থার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের খাবার
চামিলি জান্নাত
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ৬:৪৮ এএম আপডেট: ১৪.১০.২০২১ ৬:৫৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 332

সন্তানের বেড়ে ওঠার পেছনে প্রথম আশ্রয় মা। গর্ভাবস্থায় মায়ের কাছ থেকে একটু একটু করে খাবার গ্রহণ করে সন্তান। তাই শুরুতেই প্রসূতি মায়ের পুষ্টির দিকটি লক্ষ রাখতে হবে। সুস্থ-স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের জন্য গর্ভবতী মায়ের যথাযথ পরিচর্যা জরুরি। গর্ভকালে প্রথম তিন মাস মা-সন্তানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় প্রসূতি নারীর শরীরে নানা সমস্যা দেখা যায়। তাই এ সময় হবু মায়ের সুস্বাস্থ্য এবং সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।

গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা ৩৬ সপ্তাহ। শুরুতেই রইল হবু মায়ের ১ থেকে ৩ মাসের খাবার ও টিপস।

পরিবর্তন : মুডসুয়িং, হরমোনাল পরিবর্তন ও টেস্ট বাড চেঞ্জ হয়। শারীরিক গঠন এই সময়ে তেমন একটা উপলব্ধি করা যায় না। বমি বমি অনুভব হয় এবং প্রায়ই বমি হয়।

খাবার
- এ সময়ে বেশি ওজন এবং খাওয়া-দাওয়া বাড়ানোর দরকার নেই।
- ফলমূল ও এই সময়ের শাকসবজি খাবেন।
- মাছ-মাংস অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত ডায়েট করবেন।
- এক গ্লাস দুধ অথবা একটি রুটি বাড়াতে পারেন।

সাপ্লিমেন্ট
মাতৃগর্ভে ৩০ দিন বয়সে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র সুসংগঠিত হয়ে থাকে। এ সময় মায়ের শরীরে ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি থাকলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক গঠনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিতে পারে।


ফলিক অ্যাসিড : গর্ভাবস্থার তিন মাস আগে থেকে তিন মাস পর্যন্ত ফলিক অ্যাসিড খাওয়া যেতে পারে। ৪০০ মাইক্রোগ্রাম প্রতিদিন (অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন)।

যা খাবেন না
কম রান্নায় মাংস ও ডিম, বেশি মার্কারি যুক্ত মাছ, প্রসেসিং ফুড এবং অ্যালকোহল ইত্যাদি।

গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ধাপে খাবার ও কিছু টিপস
দ্বিতীয় ধাপের সময়কাল ১৩ সপ্তাহ থেকে পরবর্তী ১২ সপ্তাহ।

পরিবর্তন
এ সময়ে টেস্ট বাডের তেমন পরিবর্তন হয় না। শারীরিক গঠন এ সময় থেকে উপলব্ধি করা যায়। মুডসুইং তুলনামূলক কম হয়।

ক্যালরি
সাধারণত সম্পূর্ণ ক্যালরি ২২০০ গ্রাম থাকলে ৩০০ গ্রাম বাড়াতে হবে।

ওজন
যারা কম ওজন নিয়ে প্রেগন্যান্সি শুরু করেন, তাদের নরমালি ১২ থেকে ১৪ কেজি ওজন বাড়বে। যাদের বিএমআই ২৬ থেকে ২৯ তাদের সর্বোচ্চ ওজন ৭ থেকে ৮ কেজি বাড়বে। যাদের বিএমআই ত্রিশের বেশি তাদের সর্বোচ্চ ওজন ৫ থেকে ৬ কেজি বাড়বে।

খাবার
ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খেতে হবে কারণ, এটি বিষণ্নতা ও ডাইমেনসিয়া প্রতিরোধ করে ও গর্ভজাত সন্তানের অঙ্গহানি রোধ করে।
ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার : সবুজ পাতা সমৃদ্ধ খাবার যেমন- পুঁইশাক, পাটশাক, মুলাশাক, সরিষা শাক, পেঁপে, লেবু, ব্রকলি, মটরশুঁটি, শিম, বরবটি, বাঁধাকপি, গাজর ইত্যাদি। আম, জাম, লিচু, কমলা, আঙ্গুর, স্ট্রবেরি ইত্যাদি। বিভিন্ন ধরনের ডাল যেমন- মসুর, মুগ, মাষকালাই, বুটের ডাল ইত্যাদিতে ফলিক অ্যাসিড প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। এ ছাড়াও রয়েছে সরিষা, তিল, তিসি, সূর্যমুখীর বীজ, লাল চাল, লাল আটা ইত্যাদি।

ভালোমানের প্রোটিন খেতে হবে। যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, ডাল প্রতিদিন। সপ্তাহে এক থেকে দুদিন সামুদ্রিক মাছ খাবেন। যাতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ডি,ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। অন্যথায়, শিশু ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন-ডির ঘাটতি নিয়ে জন্ম নেবে।

কালারফুল সালাদ ও টকদই খাবারে রাখবেন যা, কনস্টিপেশন ও গ্যাসফর্ম রোধ করে। যেহেতু এ সময়ে কনস্টিপেশন বেশি হয়। তা ছাড়া দই যেমন- প্রো-বায়োটিক তেমনি ক্যালসিয়াম, ফসফরাস সমৃদ্ধ।

সপ্তাহে কমপক্ষে দুই থেকে তিন দিন বাদাম খাবেন এক-দুই অউন্স করে। কারণ,বাদামে আছে গুড ফ্যাট, যা বাচ্চার ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করে। তা ছাড়া বাদামে আছে, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন -ডি, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সময়।

সাপ্লিমেন্ট :
এ সময় থেকে খাওয়া শুরু করা উচিত প্রতিদিন, ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট দুটি, আইরন ট্যাবলেট- একটি (আয়রন লেভেল অনুযায়ী), ভিটামিন ট্যাবলেট একটি।
টিপস

ক্যালরি বাড়াতে হবে শুধু ভিটামিন ও মিনারেলস দিয়ে, কার্বহাইড্রেট দিয়ে নয়। রান্নার তেল ফরটিফাইড ভিটামিন-এ ভিটামিন-ডি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত রাখা ভালো।

গুড ফ্যাট হিসেবে শুধু বাদাম, রান্নার তেল বা পনির নিতে পারেন। প্রতিদিন একটি লেবু, একটি কাঁচামরিচ, ভিটামিন-সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের চাহিদা পূরণ করে থাকে।

লেখক : পুষ্টিবিদ


আরও সংবাদ   বিষয়:  গর্ভাবস্থা   




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com