ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ৬ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

কালো আখে আগ্রহ বাড়ছে চুয়াডাঙ্গার চাষিদের
মাহফুজ মামুন, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ৭:০৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 87

বাইরের আবরণ দেখতে কালো হলেও ভেতরের অংশ সাদা, নরম ও বেশ রসালো। মিষ্টির পরিমাণও অন্যান্য জাতের আখের তুলনায় বেশি। ফিলিপাইনের এ জাতের আখ চাষ এখন ছড়িয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন অঞ্চলে। লাভবান হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার চাষিদের। তাদের দাবি- অন্য ফসলের চেয়ে আখ চাষ লাভজনক। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ প্রায় দেড় লাখ টাকা। বাজারে প্রচলিত আখ থেকে ভিন্ন হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদাও ব্যাপক। তারা মাঠ থেকেই প্রতি পিস আখ বিক্রি করে থাকেন ৫০-৬০ টাকায়। চুয়াডাঙ্গায় আখের চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলা থেকে ক্রেতারা মাঠ থেকে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হারিছ চৌধুরী ২০১৮ সালে প্রথম ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করেন। তিনি সদর উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে এ জাতের আখের চারা পান। প্রথমে তিন কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আখ চাষ করেন হারিছ চৌধুরী। ফলন, আখের মান ভালো, বাজারে চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় পরের বছর সাড়ে চার বিঘা জমিতে আখ চাষ করেন। আখের চারা তৈরি করে জেলার অন্য কৃষকদের কাছেও বিক্রি করেন তিনি। প্রতিটি চারা ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা চারা নিয়ে যাচ্ছেন।

এক বিঘা জমিতে আখ চাষের জন্য আড়াই হাজার চারা রোপণ করতে হয়। এখান থেকে ৯-১০ হাজার পিস আখ পাওয়া যায়। একটি চারা থেকে ৮-১১টি আখ পাওয়া যায়। এই আখ চাষ করতে হয় উঁচু জমিতে। জমি ভালোভাবে চাষ দিতে হয় প্রথমে। তারপর লম্বা লম্বা সারি করে আখের চারা রোপণ করতে হয়। নিয়মিত আখ ক্ষেত পরিচর্যা করতে হয়। রোগ-বালাই তুলনামূলক কম। আখ রোপণের ১০ মাস পর বাজারে বিক্রির উপযুক্ত হয়।

আখ চাষি হারিছ চৌধুরী বলেন, প্রথমে অল্প জমিতে এ জাতের আখ চাষ করি। আখের ফলন ভালো হওয়ায় চাষে আরও আগ্রাহী হয়ে উঠি। বড় পরিসরে আখ চাষ করার জন্য নিজেই চারা তৈরি করে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে এ মৌসুমে আখ লাগাই। এবার ৬ লাখ টাকা লাভ হতে পারে। আখ চাষ দেশে ছড়িয়ে দিতে চারা উৎপাদনও করছি। আখ ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিক আরশেদ বাবু বলেন, হারিছের আখ ক্ষেতে নিয়মিত কাজ করি। আগাছা পরিষ্কার, পাতা কাটা, সার ও কীটনাশক ছিটাই। দিন হাজিরা পাই তিনশ টাকা।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় একশ বিঘা জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। আখ চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রতিটি আখ লম্বায় ১৫-২০ ফুট হয়ে থাকে। আখ যাতে ভেঙে না পড়ে, সে জন্য বাঁশ, সুতা ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করতে হয়। মাচা না দিলে ঝড় ও বাতাসে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একশ বিঘা জমি থেকে এ মৌসুমে প্রায় ৯ লাখ পিস আখ উৎপাদন হবে। আখ খেতে মিষ্টি, রসালো ও নরম। লম্বায় অনেক বড় ও মোটা হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ি গ্রামের আখ চাষি সোহান আলি জানান, দুই বিঘা জমিতে ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করেছি। আখের চারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে অন্য কৃষকদের কাছে। আখ চাষ লাভজনক। নতুন উদ্যোক্তারা আখ চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

রোয়ালমারি গ্রামের কৃষক মফিজ জোয়ার্দ্দার বলেন, এক বিঘা জমিতে এ বছর আখ চাষ করব। চারা তৈরি করার জন্য ১৩০টি ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ কিনে আনলাম দিননাথপুর গ্রাম থেকে। ৫০ টাকা করে প্রতি পিস আখের দাম। অন্য ফসল চাষ লাভজনক না হওয়ায় আখ চাষ করব।

ঢাকার সাভারের আখ ক্রেতা জলিল বেপারি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় কালো জাতের আখ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চাহিদা রয়েছে অনেক। তিন হাজার পিস আখ কিনে ট্রাকে করে সাভারে নিয়ে যাচ্ছি। প্রতি পিস আখ ২৫-৩০ টাকা লাভে বিক্রি করতে পারব। কারণ আখগুলো অনেক লম্বা ও মোটা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় কৃষকরা নতুন ফসল চাষে আগ্রহী। ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ হচ্ছে। চিবিয়ে খাওয়ার মতো একটি আখ। এখানে আখ চাষ ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে। উঁচু জমিতে এ জাতের আখ চাষ করলে ফলন ভালো হয়। কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা করা হচ্ছে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]