ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১০ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সৌদিতে গৃহকর্মী নির্যাতন থামছে না, সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ১১:৫৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 124

সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো ও ন্যায্য বেতন থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সম্প্রতি ধর্ষণসহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রতিকারহীনভাবে বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি একদিকে যেমন নির্যাতনে মৃত্যুর  ঘটনা বেড়েছে, তেমনি অপমান-নির্যাতন সইতে না পেরে ঘটেছে আত্মহত্যার ঘটনাও।

বুধবার সময়ের আলোতে ‘সৌদিতে বাংলাদেশি গৃহকর্মী নির্যাতন থামছে না’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমাদের আরেকবার উদ্বিগ্ন করেছে। এতে বলা হয়েছে, এ বছরের জুলাই মাসে দুবছরের চুক্তি ভিসায় গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যান মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের এক নারী। খাবার না দেওয়া এবং নির্যাতনের কারণে দুমাসও থাকতে না পেরে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি খালি হাতে দেশে ফিরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওখানে প্রচুর কাজ করতে হতো; কিন্তু খাবার দিত না। কোনো কোনো দিন না খেয়েই কাটাতে হতো। যেদিন খাবার দিত সেদিন প্রচুর কাজ করাত। বলত, ‘তাকে বিক্রি করে দিয়েছে।’ মালকিনের মায়ের বাসায় নিয়ে গেলেই তার ভাই শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য চাপ দিত। একপর্যায়ে ভীষণ অসুস্থ হয়ে যান, এ সত্ত্বেও তাকে কোনোরকম চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। অনেক কান্নাকাটির পর ওদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না করার শর্তে তাকে দেশে আসতে দেয়। এদিকে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে যান হবিগঞ্জের সাজনা বেগম। পরিবারের দাবি, দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বারবার ফোন করে আকুতি জানান সাজনা। তাকে মেরে ফেলার আশঙ্কার কথাও জানান। এরপর তার মুক্তির জন্য দেওয়া হয় দুই লাখ টাকা। মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। নির্মম  নির্যাতন সইতে না পেরে সাজনা বেগম গত ২ আগস্ট সৌদি আরবে মারা গেছেন। তার মৃতদেহ এখনও সৌদি আরবের হিমঘরে রয়েছে।

হাসপাতালে আয়ার কাজ দেওয়ার কথা বলে জুন মাসে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল হাবিবা আক্তারকে। কিন্তু দেওয়া হয় অন্য কাজ। সেখানে নির্যাতিত হলে পালিয়ে যান তিনি। এরপর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছাড়িয়ে এনে আবারও নির্যাতন করা হয়। গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন হাবিবা। তিনি জানান, বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বললে শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। ফেরত পাঠানোর জন্য দালাল এবং রিক্রুটিং এজেন্সি ৪ লাখ টাকা দাবি করে। উপায় না পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিলে এই চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা এখন জেলে আছে।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হাবিবা, সাজনার মতো এমন ভাগ্যান্বেষীর সংখ্যা কম নয়। যারা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন, কেউ ফিরেছেন লাশ হয়ে, আবার কেউ নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। বিদ্যমান বাস্তবতায় প্রশ্ন দাঁড়ায়, সৌদিতে আমাদের নারী গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধির বিষয়ে দেশটির যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে কি কোনো প্রতিকার চাওয়া হয়েছে?

আমরা মনে করি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাজনা, হাবিবাদের বিদেশ গমন আমাদের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের শারীরিক-মানসিক নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। মানবিকতা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে মর্মবেদনার। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত আমাদের দূতাবাসগুলো এ ব্যাপারে কী দায়িত্ব পালন করছে, তাও প্রশ্নের বিষয়। দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরব সৃষ্টিকারী আমাদের নারীদের এমন দুরবস্থার দায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহল এড়াতে পারে না। তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সৌদিসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় করার দায়িত্ব আমাদের সরকারের। আমাদের প্রত্যাশা, এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


আরও সংবাদ   বিষয়:  সৌদি আরব   গৃহকর্মী নির্যাতন   




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]