ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১০ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

প্রতারণার ফাঁদ : ভবানীপুরে এক জমি একাধিকবার বিক্রি
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ৯:৩৭ পিএম আপডেট: ১৪.১০.২০২১ ১১:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 148

একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি। আর বিক্রির পর সেই জমি দখল না দিয়ে পুনয়ায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলো, ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবির আহমেদ মাহমুদী (৫৫) এবং সাব্বির আহমেদ মাহমুদী (৫০)। তাদের একজন সরকারি চাকরি এবং অন্যজন কিংশুক নামক সমবায় সমিতি থেকে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অপরাধে চাকরিচ্যুত হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তারা ইয়েস মাল্টিপারপাস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এ প্রতারণা করছেন। ২০ জনের কাছে ১৮ কাঠা করে জমি বিক্রি করে। পরে ওই জমিতে রিসোর্ট তৈরির দায়িত্ব ক্রেতারা ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির হাতেই দেয়। কিন্তু তৈরির পর তারা রিসোর্টের নাম সামান্য পরিবর্তন করে নতুন আরেকটি রিসোর্টের রেজিস্ট্রেশন করে। নতুন নামে রেজিস্ট্রেশন করে তারা আবার রিসোর্টের খালি জায়গা প্লট আকারে বিক্রির বিজ্ঞাপনও বিভিন্ন জায়গায় দেয়। ফলে নতুন করে আরও অনেকে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা আশপাশের জমিতেও একই কৌশলে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর পিঙ্গাইল এলাকায় প্রায় ৮০ বিঘা জমি কেনেন কবির আহমেদ মাহমুদী। এরপর ২০১০ সালে ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মালিকানা দেখিয়ে ওই জমি প্লট আকারে বিক্রি শুরু করে। তারা ২০ জনের কাছে ১৮ কাঠার করে প্লট বিক্রি করে। পরে ওই জমিতে রিসোর্ট তৈরির দায়িত্ব তাদেরকেই দেন জমির মালিকরা। ক্রয় সূত্রে মালিকরা এর নাম দেন ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট’। প্রত্যেকের ১৮ কাঠা জমির ১০ কাঠায় রিসোর্ট এবং ৮ কাঠা উন্মুক্ত জায়গা হিসেবে রাখা হয়। কিন্তু ইয়েস মাল্টিপারপাসের দুই ভাই গোপনে ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলেজ’ নামে লাইসেন্স নিয়ে ওই রিসোর্ট তাদের নিজেদের বলে প্রচারণা চালায়। এ ছাড়া ২০১৩ সাল থেকে ওই রিসোর্ট ভাড়া দেওয়া শুরু করে কবির এবং সাব্বির। মানুষদের বোকা বানিয়ে বিক্রিত সব জমির ভুয়া পাওয়ার, দলিল, বরাদ্দপত্র দেয়। এ ছাড়াও দেশের আরও কয়েকটি স্থানে এভাবে জমি কিনে পার্ক করার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কবির এবং সাব্বির অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি জানা যায়, তারা রিসোর্টের ভেতরে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসায়সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-। রিসোর্টের কাজে নিয়োজিত বেশ কয়েকজন স্থানীয় দিনমজুরের প্রায় ১২ লাখ টাকা পরিশোধ না করে ঠকিয়েছে তাদের। অনিল নামের এক দিনমজুর অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় কিছুদিন আগে মারা গেলেও তাদের কাছে থেকে পাওনা টাকা পায়নি। এখন পরিকল্পনা করছেন ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলেজ’-এর বিক্রিত জমি জবর দখলে নেওয়ার।

জমি এবং কটেজ মালিকদের একজন সৈয়দ বজলুল করিম জানান, ২০১০ সালে তিনিসহ ২০ জন ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির কাছ থেকে প্লট কেনেন। প্রতিটি প্লটের পরিমাণ ছিল ১৮ কাঠা করে। পরবর্তীতে ওই জমিতে ভবন নির্মাণের টাকাসহ ২০১৩ সালে রিসোর্ট ভাড়া দেওয়া শুরু হলেও তারা আমাদেরকে কোনো আয়-ব্যয়ের হিসেব দেয়নি। এরপর ২০১৭ সালে সব জমি এবং কটেজ মালিকরা তাদের চাপ প্রয়োগ করলে ১৮ কাঠার মধ্যে ১০ কাঠা করে জমি এবং কটেজ লিখে দেয়। কিন্তু বাকি ৮ কাঠা করে জমি কমন জায়গা হিসেবে রেখে দেয়। পরে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট লিমিটেডের সঙ্গে মিলিয়ে কৌশলে ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলেজ’ নামে গোপনে আরেকটি লাইসেন্স করে নেয়।

তিনি আরও জানান, ‘এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে কয়েকবার সরকারিভাবে শুনানি হলেও তারা এসব মানতে নারাজ। বর্তমানে কবির এবং সাব্বিররা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে রিসোর্টের ভেতরে ভাঙচুর করে কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি সাব্বির আহমেদ মাহমুদী সব অভিযোগ অস্বীকার বলেন, ইয়েস মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির একটি প্রজেক্ট হচ্ছে ‘রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলেজ’। সোসাইটির বিক্রিত জমির মালিকদের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তি অনুসারে তাদেরকে জমি এবং কটেজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা চুক্তি ভেঙে সোসাইটির জমি দাবি করছে। সোসাইটি বা আমাদের কাছে কেউ কোনো টাকা পাবে না, বরং জমি মালিকদের কাছে আমরা ৭ কোটি টাকা পাওনা আছি। রিসোর্টের ভেতরে কোনো মাদক বা অনৈতিক কর্মকা- হয় না। তারা যে জমিটুকু দাবি করছে সেটা সোসাইটির চুক্তির বাইরে।

/এমএইচ/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]