ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১ ১০ কার্তিক ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সীতাকুণ্ড উপকূলের বন কেটে অবৈধ মৎস্য প্রকল্প
মেজবাহ উদ্দীন খালেদ, সীতাকুণ্ড
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১, ৬:১২ এএম আপডেট: ১৫.১০.২০২১ ৭:৩৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 79

সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত উপজেলা বন বিভাগের লাগানো সহস্রাধিক গাছ কেটে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক মৎস্য প্রকল্প। সীতাকুণ্ড সমুদ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলবাসীর রক্ষার কবজ এখন রয়েছে মাছের ঘেরের দখলে। প্রায় ১৫০ একর বনের কেওড়া বাগান উজাড় করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছে এসব মৎস্য প্রকল্প। ফলে সংরক্ষিত বন রয়েছে বিলুপ্তির পথে, পাশাপাশি মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড উপজেলার গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত আনুমানিক ৯-১০ বছরে বেড়ে ওঠা কেওরা বাগান গাছ নিধন করে গড়ে তুলে বিশাল আকৃতির মৎস্য প্রকল্প। বেড়িবাঁধ ঘেঁষে গড়ে তোলা এসব মৎস্য প্রকল্পের সবই অবৈধ বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে দখলদারদের কাছে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলিয়াখালী থেকে মধ্যম ভাটেরখিল পর্যন্ত ২৫ একর বনে ছোট বড় প্রায় ২০টি মৎস্য প্রকল্প রয়েছে আর এ অংশ দখলে নিয়েছেন নুরুল হক নামের এক ব্যক্তি। তা ছাড়া ভাটেরখিল ঘাটঘর এলাকা থেকে উত্তরে সৈয়দপুর পর্যন্ত ৫৫ একর বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে অর্ধশতাধিক মৎস্য প্রকল্প। আর এ অংশটি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলের (জাগদল) সাবেক নেতা বিএসসি তাহেরের দখলে রয়েছে বলে জানা যায়। এই দুই প্রকল্পের মাঝে ২২ একর খাস খতিয়ানভুক্ত বন দখল করে মৎস্য প্রকল্প পরিচালনা করছে বেনামি ৮০ জনের একটি সমিতি। অভিযোগ আছে ওই সমিতির দায়িত্বে রয়েছেন সৈয়দপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী। এই সমিতিতে রয়েছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় অনেক নেতাকর্মীও। বিশাল আয়তনের বন ও পাউবোর জায়গা দখল করে মৎস্য প্রকল্প চালানো ওই সমিতির নাম-নিবন্ধন ও বৈধ লিজও নেই।

এ ছাড়া সৈয়দপুর ইউনিয়নের অন্তরখালী সমুদ্র উপকূলের আরেকটি অংশ মো. ফসির নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধার দখলে আছে বলে জানা যায়। ২২ একর বনভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন আগে থেকে মৎস্য প্রকল্প করা হয়েছে। আর সেখানে চালানো হচ্ছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এসব প্রকল্পের আশপাশের কেওড়া গাছ উজাড় করা হয়েছে বহু আগেই। প্রকল্পে যাতায়াতের সুবিধার্থে উপকূলের মাটি কেটে নির্মাণ করা হয়েছে প্রশস্ত রাস্তাও। শ্রমিকদের আবাসনের জন্য একাধিক টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের জায়গায় মাছের ঘের করতে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই লাগানো গাছগুলো কাটা হচ্ছে। স্কেভেটর দিয়ে বনের গাছপালা উপড়ে ফেলে খালি করা হচ্ছে। তারপর সুযোগ বুঝে নিশ্চিত করা হয় দখল। স্থানীয়রা বলেন, বনে মানুষের অবাধ বিচরণের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রকৃতিতে কমছে সবুজ গাছপালা। দুর্বল হয়ে পড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

বন বিভাগের তথ্যমতে, এসব দখলকারীদের কারও বৈধ লিজের কাগজপত্র নেই। কেবল লিজ আছে এমন মৌখিক জনশ্রুতি ছড়িয়েই বছরের পর বছর দখল টিকিয়ে রেখেছে দখলদাররা।

অর্ধশতাধিক মৎস্য প্রকল্প নিয়ে দখলে থাকা জাগদল সাবেক নেতা তাহের বিএসসি সময়ের আলোকে বলেন, যে জায়গাগুলোয় আমি মাছের ঘের করেছি ওগুলো আমার জায়গা না, এগুলো ৫৫ সদস্যের সমিতির লিজ নেওয়া জায়গা। এরা লিজ নিয়ে যখন অর্থাভাবে কিছু করতে পারছিল না তখন আমার কাছে আসে এবং আমি তাদের কাছ থেকে বার্ষিক চুক্তিতে ভাড়া নিই।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলীয় বন বিভাগের ভাটেরখিল বিটের বিট কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সীতাকুণ্ড উপকূলে বনের জায়গা দখল করে শতাধিক মৎস্য প্রকল্প করা হয়েছে। ঘর, স্থাপনা, রাস্তা তৈরি ছাড়াও সন্ত্রাসী লালন-পালন করছে তারা। যার কারণে বন রক্ষা করতে গিয়ে কখনও কখনও দখলদারদের হাতে মারধরের শিকার হতে হচ্ছে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের।

উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, যেখানে মৎস্য প্রকল্প করা হয়েছে, সেগুলো সরকারি খাস খতিয়ানের জমি। ওই এলাকায় মাছের ঘেরের জন্য দখল করা জায়গা ছেড়ে দিতে ইতোমধ্যে নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

সীতাকুণ্ড সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, আমরা নির্দেশনা মোতাবেক জায়গাগুলো চিহ্নিত করছি। সেখানে সবই সরকারি খাস খতিয়ানের জমি।

সীতাকুণ্ড ইউএনও মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, দখলকৃত জায়গাগুলোয় আমরা লাল পতাকা উড়াচ্ছি। উপকূলীয় এলাকায় কারও নামে কোনো লিজ বা বন্দোবস্তি নেই। এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। বনকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]