ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সাক্ষাৎকার
মধুমতি ব্যাংককে শীর্ষ তিনে আনতে চাই : মো. শফিউল আজম
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: রোববার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১, ১:০৬ পিএম আপডেট: ১৭.১০.২০২১ ১:১৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 1573

গত সাত-আট বছরে বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির যাত্রা শুরু ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। কাছাকাছি সময়ে আসা অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে চতুর্থ প্রজন্মের এই ব্যাংকটির অগ্রগতি বেশ ভালো। অল্প সময়ে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা দিয়ে গ্রাহকের মধ্যে বেশ আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। মধুমতি ব্যাংকের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি, আগামীর পরিকল্পনা এবং পুরো ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. শফিউল আজমের সঙ্গে কথা হয় সময়ের আলোর। তার সাক্ষাৎকারের বিশেষ অংশ নিচে দেওয়া হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সময়ের আলোর ডেপুটি বিজনেস এডিটর এসএম আলমগীর

সময়ের আলো : প্রথমেই মধুমতি ব্যাংক সম্পর্কে জানতে চাই। চতুর্থ প্রজন্মের এই ব্যাংকটির কার্যক্রম কেমন চলছে?
মো. সফিউল আজম : সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও এখনও করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলেছে। করোনামুক্ত বিশ্ব এবং করোনামুক্ত বাংলাদেশ এখনও হয়নি। এই মহামারির বিরূপ প্রভাব আমাদের অর্থনীতির ওপর পড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে, এখনও হচ্ছে। এটা চরম বাস্তবতা। ব্যাংকের গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার প্রভাবও পড়েছে ব্যাংকের ওপর। তবে এই সংকটকালে আমাদের একটি দিক দিয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন-চার বছর আগে থেকেই আমরা ঠিকাদারি ফাইন্যান্সের ওপর জোর দিই। কারণ দেশে এখন ব্যাপক অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক দিক দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছে। এ জন্য মধুমতি ব্যাংক ঠিকাদারি ফাইন্যান্সকে ফোকাস করেছিল।
 
আমরা সবাই জানি, করোনার কারণে দেশের অনেক খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেমন অ্যাভিয়েশন, ট্যুরিজম খাত, এরপর হসপিটালিটি এবং হোটেল রেস্টুরেন্ট ব্যবসা- এ ধরনের ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তারপর দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয় এসএমই খাতকে, সেই এসএমই খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে তুলনায় কিন্তু সরকারি-বেসকরকারি খাতের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান ছিল এবং ভালোভাবে কাজ হয়েছে। যেমন রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিল্ডিং নির্মাণ- এসব কাজ হয়তো কিছুটা ধীরগতিতে হয়েছে, কিন্তু চলমান ছিল। মূলত এই করোনাকালে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজগুলোতে আমরা ফাইন্যান্স করেছি বেশি। এটি একটি দিক। আরেকটি দিক হচ্ছে রফতানি খাতও কিন্তু করোনার মধ্যেও মোটামুটি চলমান ছিল। এখন আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে রফতানির প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের। এসব কাজ চলমান থাকার কারণেও আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম বেশ ভালো চলেছে। এসব কারণে করোনার মধ্যেও মধুমতি ব্যাংক তেমন কোনো সংকটে পড়েনি। 

সময়ের আলো : এবার মধুমতি ব্যাংকের কাঠামো, আমানত, ঋণ প্রদানসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।
শফিউল আজম : মধুমতি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। এটি চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক। এই চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর যখন লাইসেন্স প্রদান করা হয়, তখন এর বিপরীতে কিন্তু সমালোচনা ছিল। বলা হতো, এ খাতে আগে থেকেই অনেক ব্যাংক আছে, আবার নতুন করে প্রাইভেট ব্যাংকের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে এ বিষয়ে আমাদের দ্বিমত ছিল। আমরা বলেছিলাম, দেশে এখনও ব্যাংকিং ব্যবসার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এটি আমরা বলেছিলাম এই যুক্তিতে যে, এখনও দেশের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষ ব্যাংকিং সেবার বাইরে। ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা এই বিপুল সংখ্যক জনগণকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবার মধ্যে নিয়ে আসার ব্রত নিয়েই আমাদের মধুমতি ব্যাংক যাত্রা শুরু করে। এই চতুর্থ প্রজন্মের যতগুলো ব্যাংক এসেছে তাদের প্রত্যেককে সুনির্দিষ্ট বিজনেস মডেল দিয়েই কিন্তু লাইসেন্স নিতে হয়েছে। মধুমতি ব্যাংকের বিজনেস মডেলটি ছিল যে, আমরা ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসব। সে লক্ষ্যে আমরা মধুমতি ব্যাংকের যে শাখাগুলো করেছি, বেছে বেছে এমন এলাকায় করার চেষ্টা করেছি যেখানকার মানুষ আধুনিক ব্যাংকিং সেবার বাইরে। এর বাইরে আমরা শুরু থেকেই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স নিয়েছি এবং এর মধ্যেই আমরা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৪২৪টি ডিজিটাল পয়েন্ট স্থাপন করেছি। এই ৪২৪টি ডিজিটাল পয়েন্টে আমরা আধুনিক ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এর বাইরে মধুমতি ব্যাংকের মূল ব্রাঞ্চ রয়েছে ৪৬টি। ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে আট বছর হয়ে গেল। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে ব্যাংকিং পরিসেবার প্রতিটি সূচকে মধুমতি ব্যাংক ভালো অবস্থানে আছে। একটি ব্যাংক ভালো না খারাপ চলছে তার যেসব মাপকাঠি রয়েছে, আমানতের পরিমাণ কত, ঋণের পরিমাণ কত, আমদানি-রফতানি ব্যবসা কেমন, রেমিট্যান্স কেমন, ব্যাংক গ্যারান্টি বিজনেস কেমন এবং মুনাফা কেমন- খেলাপি ঋণ শতাংশের পাশাপাশি কিছু সূচক এসব দিকের সবগুলোর বিচারে আমরা দেশে এখন ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে প্রথম সারিতেই আছি। 

আমাদের মধুমতি ব্যাংক যাত্রা শুরু করার পর এখন পর্যন্ত সম্মানিত স্পন্সরদের সাড়ে ৮২ শতাংশ ডিভিডেন্ট দিয়েছি। এটা দেশের ব্যাংকিং খাতের রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে কোনো ব্যাংক যাত্রা শুরু করার পর মাত্র ৮ বছরের মধ্যে কখনও এই হারে ডিভিডেন্ট দিতে পারেনি। এটা হচ্ছে একটি মাপকাঠি। এ ছাড়া একটি ব্যাংকের ভালো-মন্দ বিচারের জন্য যতগুলো মাপকাঠি আছে তার সবগুলোতেই মধুমতি ব্যাংক ভালো অবস্থানে আছে। যেমন মধুমতি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের রেশিও হচ্ছে ১ দশমিক ২ ভাগ। আমাদের কষ্ট ইনকাম রেশিও ৩১ শতাংশ। এটা এ মুহূর্তে দেশের ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সর্বনিম্ন কস্ট ইনকাম রেশিও। এরপর রিটার্ন অব অ্যাসেট, রিটার্ন অন ইকুইটি আর্নিংপার শেয়ারÑ এ ধরনের প্রতিটি সূচকে মধুমতি ব্যাংক অনেক ভালো অবস্থানে আছে। কিছুদিন আগে একটি প্রত্রিকা দেশের ব্যাংকিং খাতের সাতটি সূচক বিশ্লেষণ করে একটি রেটিং প্রকাশ করেছিল। যেহেতু মধুমতি ব্যাংক পাবলিকলি লিস্টেড না, সে কারণে পত্রিকাটি তাদের তালিকায় মধুমতি ব্যাংককে রাখেনি। তবে পত্রিকাটি যে প্যারামিটারের বিচারে ব্যাংকগুলোকে মূল্যায়ন করেছিল সে প্যারামিটারের মাপকাঠিতে মধুমতি ব্যাংক ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।
 
সময়ের আলো : আপনি বলেছেন, আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে মধুমতি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছে এবং ব্যাংকিং সেবার বাইরে যারা ছিল তাদের অন্তর্ভুক্ত করার মূল লক্ষ্য ছিল। এই ৮ বছরে আপনারা সে লক্ষ্যের কতদূর পৌঁছেছেন?
শফিউল আজম : সে লক্ষ্যে আমরা যথেষ্ট সফল হয়েছি। শুরুতেই আমি বলেছি, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৪২৮টি বুথ খুলেছি আমরা। হিসাব সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার। এ ছাড়া সরকারি ইউনিয়ন সেবাকেন্দ্রগুলোতে মধুমতি ব্যাংক অনেকগুলো সেবা দিয়ে থাকে। সরকারের বিভিন্ন যে ভাতাভোগী আছে যেমন বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা- এই ভাতাভোগীদের আমরা অ্যাকাউন্ট খুলে একবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে আমরা পেমেন্ট দিয়ে থাকি। যেমন ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় আমরা এসব সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এতে সবচেয়ে বেশি উপকার পায় গ্রামাঞ্চলের ভাতাভোগীরা। কারণ তারা সাধারণত ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকে। আমরা একেবারে রুট পর্যায়ের ভাতাভোগীদের হাতে সহজেই ভাতার টাকা তুলে দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমরা আঙুলের ছাপ নিয়ে ভাতার টাকা দিচ্ছি। এতে করে যিনি প্রকৃত ভাতাভোগী তিনিই ভাতার টাকাটা পাচ্ছেন। 

আরেকটি দিক হচ্ছে গ্রামীণ বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আমরা অনেক লাইফ স্টাইল প্রডাক্টও নিয়ে এসেছি। যেমন মধুমতি ব্যাংকের ডিজিটাল পয়েন্টে মাত্র ৪৯ টাকায় আমার ডাক্তার প্যাকেজ কিনতে পারে গ্রাহক। এই ৪৯ টাকায় গ্রাহক টেলিমেডিসিন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। অর্থাৎ টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে একজন গ্রামীণ জনপদের গ্রাহক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারবেন। আমাদের আরেকটি প্যাকেজ আছে, সুরক্ষিত নামে ৪৫০ টাকার এই প্যাকেজে একজন গ্রাহক ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা নিতে পারবেন। যদি গ্রাহকের চিকিৎসার জন্য বেশি অর্থের দরকার হয় তাহলে তিনি এই সুবিধা নিতে পারবেন। এ ধরনের লাইফস্টাইল অনেকগুলো প্রডাক্ট আমরা চালু করেছি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য। 

সময়ের আলো : আপনি বললেন, এখন পর্যন্ত সব জেলায় আপনারা ব্রাঞ্চ খুলতে পারেননি। এ বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী, কত সময়ের মধ্যে আপনারা মধুমতি ব্যাংকের ব্রাঞ্চের আরও প্রসার ঘটাতে পারবেন? 
শফিউল আজম : মধুমতি ব্যাংকের বয়সের তুলনায় কিন্তু ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক একেবারে কম নয়। ৪২৮টি পয়েন্ট এবং ৪৬টি ব্রাঞ্চ মোট ৪৭৪ স্থানে আমরা ছড়িয়ে পড়েছি। আমরা ধীরে ধীরে ব্রাঞ্চ বাড়াতে চাই। তবে শাখা শুধু বাড়ালেই তো হবে না, সবদিক বিবেচনা করে ধীরে ধীরে বাড়ানোই ভালো। আমরা প্রধান কার্যালয়কে বেশি শক্তিশালী করার চেষ্টাও করছি। হেড অফিস বা প্রধান কার্যালয়কে শক্তিশালী না করে এক-দুই বছরের মধ্যে দুই-তিনশ শাখা খুলে ফেললে তালগোল পাকিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে, নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। সুতরাং আমরা ক্রমান্বয়ে আমাদের শাখা বৃদ্ধি করব। আমরা এজেন্ট ব্যাংকিং পয়েন্ট বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছি। কেননা এই পয়েন্ট থেকেই কিন্তু একজন গ্রাহক সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছেন। এখানে গ্রাহক ডিপোজিট করতে পারছে, আমরা ছোট ছোট ঋণও দিচ্ছি এজেন্ট পয়েন্টগুলো থেকে। রেমিট্যান্সের অর্থ তুলতে পারছে, বিভিন্ন লাইফস্টাইল প্রডাক্ট নিতে পারছে। সুতরাং এ বছর আমরা এজেন্ট ব্যাংকিংকে বেশি ফোকাস করছি। এ বছরের মধ্যেই আমরা মধুমতি ব্যাংকের ৭০০টি এজেন্ট পয়েন্ট খুলব। 

সময়ের আলো : আপনি বললেন মধুমতি ব্যাংক আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আপনার কাছে জানতে চাই, মধুমতি ব্যাংক গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে?
শফিউল আজম : এ ক্ষেত্রে আমরা সবার আগে গুরুত্ব দিয়ে থাকি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দেওয়াকে। যেমন আমাদের ব্যাংকের অ্যাপস আছে ‘গো স্মার্ট অ্যাপস’, যার মাধ্যমে গ্রাহক তার মোবাইলের মাধ্যমেই নিতে পারবেন সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা। এই অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহক ইউটিলিটি বিল দিতে পারেন, টিউশন ফি দেওয়া যাচ্ছে, অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যাচ্ছে, যে কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে লেনদেন করা যাচ্ছে। গ্রাহকের হাতের মোবাইলটাই কিন্তু এখন ব্যাংক। এরকম নিত্যনতুন আধুনিক সেবা আমরা সংযুক্ত করেছি, সামনে এ ধরনের সেবা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। কারণ সামনের দিনের ব্যাংকিং হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর। মানুষ ব্যাংকিং সেবা নিতে আর ব্যাংকে আসবে না, ঘরে বসেই সব সেবা নিতে পারবে মোবাইলের মাধ্যমে। 

সময়ের আলো : মধুমতি ব্যাংককে আগামী দশ বছরে কোন জায়গায় দেখতে চান?
শফিউল আজম : আমাদের ৮ বছরের পথপরিক্রমায় অনেকগুলো অর্জন হয়েছে। আমাদের অগ্রগতিটা খারাপ হয়নি। এভাবেই আমরা সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। আগামী দশ বছরের মধ্যে মধুমতি ব্যাংককে দেশের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ তিন ব্যাংকের মধ্যে আনতে চাই। সে লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে আমাদের আলো ভালো সেবা দিতে হবে, ভালো ভালো প্রডাক্ট নিয়ে আসতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের ওপরই জোর দেব। 

সময়ের আলো : বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতি বড় যে অভিযোগটি করা হয় সেটি হচ্ছে- গ্রাম পর্যায়ে তারা ব্রাঞ্চ খুলতে অনীহা দেখায়। মূলত শহরকেন্দ্রিক গ্রাহককে সেবা দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। আপনি বলেছে, এখনও ৫০-৬০ ভাগ মানুষ ব্যাংকিং সেবার বাইরে আছে। সে লোকগুলো কিন্তু বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকার। অথচ এই জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার মধ্যে আনতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে সেরকম আগ্রহী হতে দেখা যায় না। এ বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
শফিউল আজম : আপনি যেটা বললেন সেটি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বাস্তব চিত্র। এ ক্ষেত্রে আমি সত্য না বললে কথাটা ঠিক বলা হবে না। আসলে ব্যাংক বলেন বা যেকোনো ব্যবসাই বলেন, তাদের লক্ষ্য থাকে লাভ করা। শহর এলাকায় একটি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ যত দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে গ্রাম পর্যায়ে সেটা পারে না। গ্রামে নানা রকম চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ম করে দিয়েছে যে, শহরে একটি ব্রাঞ্চ খুললে গ্রামেও একটি খুলতে হবে। আগে কিন্তু এ নিয়ম ছিল না। আগে শহরে চারটি ব্রাঞ্চ খোলার পর গ্রামে একটি খুললেই চলত। কিন্তু এখন সে সুযোগ নেই। এখন শহরে একটি ব্রাঞ্চ খুললে গ্রামীণ জনপদেও একটি খুলতে হবে। সুতরাং ব্যবসা করতে হলে বাধ্য হয়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মতো ব্রাঞ্চ খুলতে হবে। 

দ্বিতীয়ত, আমাদের অভিজ্ঞতা কিন্তু ভিন্ন কথা বলে। আমরা কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক ভালো পারফরম্যান্স পেয়েছি। গ্রামীণ বেশ কয়েকটি শাখা আমাদের ভালো করছে। কারণ গ্রামীণ মানুষেরও জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে, আয় বেড়েছে। সুতরাং এখন গ্রামীণ অঞ্চলে গেলে ব্যবসা ভালো হবে। সব ব্যাংকই যাচ্ছে, আমরাও যাচ্ছি।

সময়ের আলো : ব্যস্ততার মাঝেও সময়ের আলোকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
শফিউল আজম : আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আপনার মাধ্যমে সময়ের আলো পরিবারের সব সদস্য ও পাঠককে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]