ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

নতুন উপহারের উপলক্ষ
আসমাউল মুত্তাকিন
প্রকাশ: রোববার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১, ৫:০৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 505

ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। ফুটবলে যেমন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা উত্তাপ ক্রিকেটে তেমনি ভারত-পাকিস্তান ডুয়েল। ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান-ভারত ফাইনাল দেখেনি ক্রিকেটপ্রেমীরা। হয়ে গেছে ১২টি আয়োজন। অথচ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই পাকিস্তান-ভারত ফাইনালে মাতোয়ারা হলো বিশ্ব ক্রিকেট। ছোট সংস্করণের এই ক্রিকেটের বৈশ্বিক আয়োজনে প্রতিটি আসরই হয়ে উঠে উঠেছে নতুন উপহারের উপলক্ষ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বয়স দেড় দশকেরও কম। আয়োজিত হয়েছে ৬টি আসর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ টুর্নামেন্টেই এসেছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। ক্রিকেট তো বটেই, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের যেকোনো আসরেই এ এক বিরল ঘটনা। ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রথম দুই আসরে শিরোপা উৎসব করেছিল ক্যারিবীয়রা। এখানে একটা বিষয় খুবই লক্ষ্যণীয়। খেলাধুলায় সেরা সময়ে থাকা দলগুলো পায় সর্বোচ্চ সাফল্য। আর এখানেই ব্যতিক্রম টি-টোয়েন্টি। সেরাদের ট্র্যাজেডি লিখে নতুনের কেতন ওড়ান ক্রিকেটের দেবী। বিষয়টা অনুধাবন করার জন্য খুব বেশিদূর যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

১৯৭০-এর দশকে বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওই সময় দুই দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ক্যারিবীয়রা। গত দুই যুগ ক্রিকেটে সেরা সময় পার করেছে অস্ট্রেলিয়া। আর এই সময় কাজে লাগিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপের গত ছয় আসরের মধ্যে চারবারই শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। আর মজাটা ঠিক এখানেই। আজ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি অজিদের নাগালের বাইরে। ক্রিকেটের সবচেয়ে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দলটি এ আসরে সর্বশেষ ফাইনাল খেলেছে ১১ বছর আগে। ক্রিকেট দেবীর রহস্য অনুধাবন করা বোধকরি মানুষের সাধ্যের বাইরে। এই রহস্যের জালে বারবার আটকা পড়েছে দোর্দণ্ড প্রতাপ অস্ট্রেলিয়াও।

নবতর সংস্করণে ক্রিকেট দেবীর রহস্যপ্রিয়তার বড় দৃষ্টান্ত ক্যারিবীয় ক্রিকেট। উইন্ডিজ ক্রিকেটের সেরা সময়ে টি-টোয়েন্টি ছিল না। তাই ওই সময় ছোট সংস্করণের ক্রিকেট থাকলে কি ঘটতে পারত, সেটাকে আলোচনার বাইরে রাখাটাই শ্রেয়। তবে এই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মধ্য দিয়েই পুনর্জন্ম ঘটেছে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের। গত তিন দশকে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের শুধু পতনই দেখেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। রূপ, রস, গন্ধ, তাল, লয়, ছন্দ সবই হারিয়ে বসেছে ক্রিকেটের সবচেয়ে গৌরবের উত্তরাধিকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিকেট থেকে হারিয়ে যেতে বসা সেই গৌরবকেই নতুনভাবে ফিরিয়ে আনলেন ক্রিকেট দেবী। প্রাণ প্রতিষ্ঠা করলেন নিষ্প্রাণ উইন্ডিজ ক্রিকেটের। বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া ক্যারিবীয় ক্রিকেটের পুনঃজাগরণ ঘটল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ছোঁয়ায়। অনেক আগেই সেরা সময় পেছনে ফেলে আসা ক্যারিবীয়রা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দুবারের চ্যাম্পিয়ন। বলাবাহুল্য, একমাত্র দল হিসেবে দ্বিতীয়বার ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পেরেছে তারা।

শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চমক আর নাটকীয়তায় ঠাসা। অন্য খেলাধুলায় টাইব্রেকার আছে। কিন্তু ক্রিকেটে সেটি হওয়ার জো নেই। তবে নামে না হলেও টাইব্রেকারের স্বাদ পেয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ম্যাচ টাই হলে ফল নির্ধারিত হয় সুপার ওভারে। যদিও ২০০৭ সালের প্রথম আসরে টাই ম্যাচে ফল নির্ধারণের জন্য অনুসরণ করা হয় ‘বোল আউট’ (টাইব্রেকার) পদ্ধতি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ম্যাচ টাই হলে ফল নির্ধারিত হয় সুপার ওভারে। ২০০৭ সালে প্রথম আসরে গ্রুপপর্বেই মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে দুই দলের সংগ্রহ ছিল ১৪১। এরপর বোল আউট পর্ব। দুদলের ৫ জন বোলার একটি করে বল করেন, ক্রিজে কোনো ব্যাটসম্যান নেই। বোল আউট পদ্ধতিতে ভারত জিতে নেয় ৩-০ ব্যবধানে।
 
উদ্বোধনী টুর্নামেন্টেই ক্রিকেটপ্রেমীদের নতুন আনন্দের উপলক্ষ এনে দিলেন যুবরাজ সিং। ইংলিশ বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয় ছক্কা মারলেন ভারতের যুবরাজ সিং। কোনো বৈশ্বিক আসরে প্রথমবারের মতো ৬ বলে ছয় ছক্কার কীর্তি দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। ৬ বলে ছয় ছক্কার কীর্তি গড়ার যুবরাজকে দেখতে হয়েছে এর উল্টো ছবিটাও। ২০১৪ সালে ঢাকার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১১ রানের ইনিংস খেলতে ২১ বল খেলেন যুবরাজ। ধীর গতির ব্যাটিংয়ের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় যুবরাজকে। মুখে পড়েন কঠোর সমালোচনার। আর এখানেই টি-টোয়েন্টির রোমাঞ্চ।

কাল পরিক্রমায় রাজার খেলা ক্রিকেট পরিণত হয়েছে উপমহাদেশের খেলায়। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি আবেগ যতটা গভীর, মাঠের পারফরম্যান্সে ততটা নয়। কেননা শুধু আবেগ দিয়ে বৈশ্বিক আসরে সর্বোচ্চ সাফল্য পাওয়া যায় না। ওয়ানডে বিশ্বকাপে উপমহাদেশে সর্বশেষ ট্রফি এসেছে ২০১১ সালে। তবে উপমহাদেশ ক্রিকেটের আবেগের সঙ্গে অনেকটায় একাত্ম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। প্রথম দুই আসরের ট্রফি এসেছে উপমহাদেশে। ছয়বারের মধ্যে তিনবারই শিরোপা জিতেছে উপমহাদেশের দলগুলো।

আয়োজক দেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে পারে না, এই ধারণাটি এখনও স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত। প্রথম পাঁচ আসরের প্রতিটিতেই নতুন চ্যাম্পিয়ন উপহার দেওয়া এই ঐতিহ্য অবশ্য ভেঙেছে সর্বশেষ ২০১৬ আসরে। দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে গত আসরের ফাইনালে কার্লোস ব্রাফেট যে বিশেষ উপহার দিয়েছেন, তা যুগ যুগ ধরে গর্বের সঙ্গে মনে রাখবে ক্রিকেটপ্রেমীরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে জিততে শেষ ওভারে ১৯ রানের প্রয়োজন পড়ে ক্যারিবীয়দের। বোলার বেন স্টোকস। স্ট্রাইক অ্যান্ডে ব্রাফেট। প্রথম চার বলেই চার ছক্কা মেরে শিরোপা জিতেই মাঠ ছাড়লেন ব্রাফেট।

সূচনালগ্ন থেকেই নিত্যনতুনের বিজয় কেতন ওড়াচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। হয়ে উঠেছে বেগ-আবেগের মিশেলে নতুন উপলক্ষের মঞ্চ। এবারের আসর নতুন কি উপহার নিয়ে হাজির হয় এখন তারই রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]