ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শেখ রাসেল টিফিন ভাগ করে খেতেন
মানজুর হোছাইন মাহি
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ৩:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 132

‘রাসেল স্কুলে টিফিন নিয়ে আসত, কমলা আর বাটার লাগানো পাউরুটি। এর মধ্যে সে কিছু খেত, কিছু ফেলত। অন্য ছেলেরাও তাই করত। আবার কমলা খাওয়ার সময় সে বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খেত। বন্ধুদের মধ্যে কমলার কোষগুলো ভাগ করে দিয়ে তারপর নিজে খেত।’

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের সহপাঠী ও বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক গীতাঞ্জলি বড়ুয়া সময়ের আলোর সঙ্গে এমন স্মৃতিচারণ করেন। শেখ রাসেলের সহপাঠী হিসেবে তার যাত্রা শুরু এরপর হয় ১৯৭২ সালে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে ভর্তি হই। কিন্তু কিছু সময় পর যুদ্ধের কারণে আমাদের স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। ’৭২ সালে যখন স্কুল খোলে তখন ধীরে ধীরে সহপাঠীদের চিনতে শুরু করি। তখনই দেখি সহপাঠীদের মধ্যে ছিল তখনকার প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল। রাসেলের কথা অন্যদের থেকে বেশি মনে পড়ে এজন্য যে, রাসেল আর আমাদের মধ্যে নেই। বাকি অনেকেই এখন আমার মতো কর্মক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে। বেঁচে থাকলে রাসেলও করত; কিন্তু রাসেল আর আমাদের মধ্যে নেই।

রাসেল সম্পর্কে তিনি বলেন, রাসেল ছিল সহজ, সরল, স্বাস্থ্য ভালো, ছিমছাম, প্রাণবন্ত, হাসি-খুশি, বন্ধুসুলভ, উদ্যমী ও দুরন্ত এক শিশু। রাসেলের সঙ্গে পড়েছি প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। অন্য ৮ থেকে ১০টি ছেলের মতোই আমরা রাসেলকে দেখতাম। আমরা শুধু জানতাম রাসেল বঙ্গবন্ধুর ছেলে; কিন্তু রাসেলকে কখনও আলাদা করে দেখিনি। আর রাসেলও কখনও এমন আচরণ করেনি, যাতে সে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের ছেলে এমন ভাব প্রকাশ পায়।

গীতাঞ্জলি বড়ুয়া আরও বলেন, রাসেল স্কুলে আসত একটা জিপে করে। সেখানে তার একজন চাচা আর একজন বা দুজন পুলিশ থাকত। রাসেল স্কুল ছুটির পর খেলতে চাইত। তখন তার চাচা তাকে জোর করে নিয়ে যেত। স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতোই। বাচ্চারা যেমন স্কুলে এলে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চায়, যেতে চায় না, রাসেলও এমন ছিল। সে বন্ধুদের সঙ্গে অনেকক্ষণ খেলাধুলা করতে চাইত। তিনি বলেন, রাসেলের একটা বিষয় আমি লক্ষ করতাম, সে প্যান্টের সঙ্গে একটা চওড়া বেল্ট পরত। সাধারণত ওই সময় অমন ব্যাল্টের প্রচলন ছিল না। যেহেতু সে রাষ্ট্রপ্রধানের ছেলে ছিল এবং দেশে-বিদেশে অনেক জায়গায় গেছে এ কারণে সে হয়তো এমন বেল্ট পরতে পারত। 

তিনি আরও বলেন, বড় হয়ে যখন আমরা বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়েছি তখন জানতে পেরেছি, বঙ্গবন্ধু খুব সাদামাটা একজন মানুষ ছিলেন। রাসেলও ঠিক তেমন ছিল। কখনও নিজেকে আলাদা বা ব্যতিক্রম মনে করত না। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা ছিল। সে হিসেবেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু সকালবেলা বাবা জানালেন কিছু হবে না আর। রেডিও ছেড়ে জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। তখন বুঝতে পারি আমাদের ছোট্ট বন্ধু রাসেলও আর নেই। তাকেও হত্যা করা হয়েছে। গীতাঞ্জলি বলেন, রাসেল আমাদের মতোই একজন ছিল। তাকে মেরে ফেলার কারণে সে আমাদের থেকে ভিন্ন হয়ে গেল। তাকে যে মেরে ফেলা হলো, সে যে আমাদের মতো হতে পারল না; তখন থেকে এখন পর্যন্ত সে স্মৃতিটাকে আমরা বয়ে বেড়াচ্ছি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে রাসেল ছিলেন সবার ছোট ও আদরের। ১৯৭৫ সালে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে সপরিবারে তিনিও নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯ বছর। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। সেই স্কুলেরই শিক্ষার্থী ছিলেন গীতাঞ্জলি বড়ুয়া। ১৯৭১ সালে ভর্তি হয়েছিলেন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে, তারপর বদরুন্নেসা কলেজ, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তিনি বদরুন্নেসা সরকারি কলেজে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।


আরও সংবাদ   বিষয়:  শেখ রাসেল   শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]