ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ফুটপাথ বেদখলে থাকায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ
মো. খশরু
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ১০:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 131

সড়কে সাধারণ পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাফেরা নিশ্চিত করার জন্য ফুটপাথের গুরুত্ব এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। ফুটপাথ না থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কখনও কখনও সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। ফলে ফুটপাথের প্রকল্পগুলো সতর্কতার সঙ্গে নির্মাণ হয়ে থাকে। দেশে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সড়কে পথচারীদের চলাচলের নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফুটপাথ সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফুটপাথের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয় না বললেই চলে।

রাজধানীতে মোটরসাইকেল আরোহীরা যানজটের অজুহাতে হুটহাট ফুটপাথে উঠে পড়ে। ফলে পথচারীদের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হওয়ার ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি ফুটপাথে সাধারণ মানুষের চলাচল করাটা কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপত্তার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। প্রতিবাদ করলেও মোটরসাইকেল আরোহীরা যেন তা আমলেই নেয় না। উপরন্তু তারা দায় এড়িয়ে চলে যায়। ট্রাফিকের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে উক্ত মোটরসাইকেল আরোহীরা হরহামেশাই এসব ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাফেরা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি এসব মোটরসাইকেলের আরোহীদেরকে মোটরযান আইনের আওতায় এনে শাস্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু তাই নয়, ফুটপাথের বড় একটি অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট।

এসব দোকানের অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় বিভিন্ন সিন্ডিকেট। অপরিকল্পিত এসব দোকান থেকে সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রতিদিন অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করে থাকে। ফলে ফুটপাথ দখল করে চলা দোকান এবং ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অবাধে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে। দেখা যায়, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ন্যূনতম জায়গাটুকুও থাকে না। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আছে বিভিন্ন হকারের দল। হকারদের বড় একটি অংশ ফুটপাথের দুপাশ দখল করে রাখে। এসব দখলদারিত্বের কারণে ফুটপাথ হাঁটার জন্য প্রায় অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড ভিড় থাকায় অনেক সময় পথচারী নারীদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। এমনকি অনেক সময় যৌন নির্যাতনের মতো ভয়ানক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। স্থানীয় কিছু কুচক্রী মহল এবং ক্ষমতাসীন অনেকের মদদের পাশাপাশি অনেক সময় সংশ্লিষ্ট থানার অনেক পুলিশ এমনকি প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে এই দখলের রাজত্বে।

রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির দিন গোনা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এখানেই শেষ নয়। রাস্তা পারাপারের জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে তাতেও দেখা যায় দখলদারিত্বের প্রতিযোগিতা। এমনকি অনেক সময় ফুটপাথের বিস্তৃতি এতটাই লম্বা হয় যে, দোকানগুলো মূল সড়কের একাংশতেও রাজত্ব করে। ফুটপাথ এবং ওভারব্রিজের এমন বেহাল অবস্থার কারণে পথচারীরা চলাচলের জন্য মূল সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। সড়কে নতুন করে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় তীব্র ভিড়ের মধ্যে দুর্ঘটনার সংখ্যা নেহাত কম নয়। এমনকি রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রাণও গিয়েছে অনেকের। সড়কের এমন বিশৃঙ্খলার জন্য ফুটপাথগুলো বেদখলে থাকা অন্যতম কারণ। ভ্রাম্যমাণ এসব ব্যবসায়ীদের অনেকেই মাদক কারবারের মতো ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গেও জড়িত থাকে। যেহেতু তারা ভ্রাম্যমাণ, অর্থাৎ তারা প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করে, সেহেতু অনেক সময় দেখা যায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা অবাধে মাদক বিক্রি করছে। একজন সাধারণ নাগরিকের চলাচলের জন্য সড়ক-মহাসড়কের ফুটপাথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সড়কে দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে কোনোভাবেই ফুটপাথের বিকল্প নেই। ফুটপাথ এবং ওভারব্রিজের এমন ভয়াবহ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে মাঝেমধ্যে সক্রিয় হতে দেখা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থায়ী সমাধান মেলে না। পুলিশ-প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় রূপ নেয়। ঘটনা অনেকটা এরকম যে, যেই লাউ সেই কদু। সরকার এসব দখলের রাজত্বের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে স্থানীয় এসব কুচক্রী মহল এবং বেপরোয়া মোটরগাড়ি চালকসহ দখলদারিত্বের রাজত্ব বেড়েই চলবে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকায় খরচ করে বানানো ওভারব্রিজ কিংবা ফুটপাথ নির্মাণ কোনো কাজেই আসবে না। সেই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিয়েও বিপাকে পড়তে হতে পারে। অতএব, যত দ্রুত সম্ভব এদের লাগাম টেনে ধরতে হবে এবং পথচারীদের চলাচল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলদারিত্বের নেপথ্যের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার স্বচ্ছতার নজির স্থাপন করতে পারে।

-ঢাকা কলেজ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফুটপাথ  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]