ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

‘আমি মায়ের কাছে যাব’
কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২১, ১১:০৮ এএম আপডেট: ১৮.১০.২০২১ ১১:১০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 270

‘আমি মায়ের কাছে যাব’- মুহিতুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলছিলো শেখ রাসেল। বারবার আমায় জিজ্ঞেস করছিলো- ‘ওরা আমাকে মারবে না তো?’ বুকের মধ্যে নিয়ে তাকে বলেছিলাম ‘না, ওরা তোমাকে মারবে না।’ আমার বিশ্বাস (মুহিতুল ইসলাম) ছিলো আর যাই হোক এই ফেরেশতার মতো শিশুকে ওরা মারবে না। কিন্তু আমায় ভুল প্রমাণ করে ওই ছোট্ট শিশুকেও ওরা সেই রাতে ছাড়েনি। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলকেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাতে ছাড় দেয়া হয়নি। ঘাতকের বুলেটের আঘাত ক্ষত-বিক্ষত করে মাত্র ১০ বছরের ছোট্ট বুকটাকেও। পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করার পরেও ঘাতকদের মনে ছোট্ট শিশুটার জন্য মায়া জন্মায়নি। চেনার আগেই ছেড়ে যেতে হয়েছে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীকে। 

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ঘরে জন্ম নেয় ছোট্ট রাসেল। সবার ছোট হওয়ায় সে ছিলো সবার আদরের। পরিবারের অন্যদের আদর পেলেও সবসময় বঞ্চিত ছিলো বাবার আদরের। বাবাকে তেমন কাছ থেকে পায়নি সে। রাসেলের জন্মের মাত্র দেড় বছর পরেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানি সামরিক সরকার। প্রায় ৩ বছর বঙ্গবন্ধু তখন জেলে ছিলো। দেড় বছরের ছোট্ট রাসেল তখন বাবাকে দেখতে যেতো জেলখানায়। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ছোট্ট রাসেলের পাওয়া হয়ে ওঠেনি বাবার ভালবাসা।

দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু মন দিলেন দেশ সংস্কারে। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে ৩ বছরের মধ্যে তিনি পৃথিবীর বুকে পরিচিত করে তুললেন। চারদিকে তখন ভয়ংকর হায়নাদের আনাগোনা। জাতির পিতার সকল মনযোগ তখন দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো শেখ রাসেল তখন বঞ্চিত বাবার ভালবাসা থেকে। অন্য ছেলেরা যখন বাবার হাত ধরে স্কুলে যেতো রাসেলের পক্ষে তা সম্ভব ছিলো না।

ছোটবেলা থেকেই রাসেলের ব্যবহারে ছিলো জাতির পিতার চরিত্রের ছাপ। স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া, বাড়ির কাজের মানুষদের সম্মানের সাথে কথা বলা সে ছোট্ট বয়সেই শিখে নিয়েছিলো। ছোট্ট রাসেলের আর বড় হওয়া হয়ে ওঠেনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে তাকেও হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী ঘাতকেরা।

কতটা পাষাণ হলে ওই ছোট্ট বুকে ওরা গুলি চালিয়েছিলো! গুলি চালানোর মুহূর্তে ঘাতকের বুকটা একবার কেঁপে ওঠেনি? একটা বার ওই ছোট্ট শিশুর চোখের দিকে ওরা তাকায়নি?

ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুই ওদের লক্ষ্য ছিলো না। ওদের লক্ষ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মশাল হাতে ছুটতে পারে এমন কাউকেই ঘাতকেরা ছেড়ে দেয়নি সে কালো রাতে। ভাগ্যগুণে সেদিন বেঁচে গিয়েছিলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা। দেশের বাইরে না থাকলে সেদিন তাদেরও হত্যা করা হতো। 

স্বাধীন বাংলাদেশে শেখ রাসেলের হত্যার বিচার হয়েছে। এখনো কয়েকজন ঘাতক দেশের বাইরে আছে। আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চয়ই সেই নরপশুদের শাস্তির আওতায় আনবে। ৪৬ বছরের অপেক্ষা বাঙালি জাতির। ৪৬ বছর ধরে বাঙালি জাতি কলঙ্কতিলক বয়ে চলেছে। আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চয়ই আমাদের এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি দেবে।

আজ সেই রাসেলের জন্মদিন। বেঁচে থাকলে আজ তার বয়স হতো ৫৭ বছর। নিশ্চয়ই সেও তার বোনের মতো বাবার স্বপ্ন পূরণের মশাল হাতে ছুটতো। স্বপ্নের সোনার বাংলার আরেকজন  কারিগর পেতো বাঙালি জাতি। সে বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই জননেত্রী শেখ হাসিনা পাশে পেতো বিশ্বস্ত সোনার বাংলার কারিগর। রাসেলের জন্মদিন পালিত হবে সারাদেশে। রাসেল নিশ্চয়ই তার মায়ের কোলে শুয়ে দেখছে তার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে দিনরাত তার বোন কিভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাসেল ও নিশ্চয়ই চায় তার বাবার স্বপ্নের সোনার বাঙলা গড়ে উঠুক। ছোট্ট রাসেল আমাদের কাছে এখনো ছোট-ই রয়ে গেলো। ছোট্ট রাসেলের কাছে আমাদের অঙ্গীকার - ‘আমরা তোমার পিতার স্বপ্নের সোনার বাঙলা গড়তে তোমার বোনের নির্দেশনায় কাজ করে যাব। তুমি শুধু শুভকামনা জানিও।’

লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]