ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

অসাম্প্রদায়িক চেতনা আজ কোথায়?
প্রসেনজিৎ কুমার রোহিত
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১১:৩৯ এএম আপডেট: ১৯.১০.২০২১ ১১:৪১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 109

‘সাম্প্রদায়িকতা’ হচ্ছে সম্প্রদায়ভিত্তিক চিন্তাভাবনা ও কর্মকাণ্ড। আমি যে সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত সেটি বিশ্বের সবচেয়ে সেরা এবং আর সব সম্প্রদায় নিকৃষ্ট, এ ধারণায় বিশ্বাস স্থাপন। এরপর এ বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সব কার্যপদ্ধতি পরিচালনা করা। যেহেতু অন্যেরা নিকৃষ্ট সেহেতু তাদের অধিকারও ন্যূনতম। ধনসম্পদ থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাজনৈতিক সব সুযোগ-সুবিধাতে তাদের অধিকার সবচেয়ে বেশি। এ বিশ্বাস ও কার্যকলাপের চূড়ান্ত রূপ হচ্ছে অন্যের ওপর চেপে বসা। হয় তারা আমার সম্প্রদায়ভুক্ত হবে নয়তো নিশ্চিহ্ন হবে। ‘সাম্প্রদায়িকতা’ শব্দটি ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রেই বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে রয়েছে দুটি সম্প্রদায়- একটি আস্তিক যারা স্রষ্টা ও ধর্মীয় আচারে বিশ্বাস করে এবং অন্যটি নাস্তিক যারা এসবে বিশ্বাস করে না। অবশ্য এ দুটোর মাঝামাঝি তৃতীয় আরেকটি সম্প্রদায়ের কথা শোনা যায় যারা পুরোপুরি বিশ্বাস বা অবিশ্বাস কোনোটাই করে না। আস্তিকের মধ্যে রয়েছে- মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, ইহুদি ইত্যাদি। মানুষ হলেও নিজস্ব বিদ্যা, বুদ্ধি, সংস্কৃতি, পারিবারিক ঐতিহ্য ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতার এক স্বর্ণসময় আমরা প্রত্যক্ষ করেছি মুক্তিযুদ্ধে। সব ধর্ম, বর্ণ, পেশার মানুষ এক জোট হয়ে আন্দোলন করেছে, যুদ্ধ করেছে। তখন ধর্মীয় ভেদাভেদ ছিল না, আবার ধর্মহীনতাও ছিল না। একজন মানুষের প্রতি অন্য মানুষের এমন মমতা ও ভালোবাসা আর কখনও দেখা যায়নি। যুদ্ধোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশেও আমরা চেয়েছি সেরকম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের রাজনীতির সাধনার মূলে অন্যতম আদর্শ ছিল অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতাবাদ। এ দুটি আদর্শে পরিচালিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধও। ব্যক্তিমানুষ হিসেবে তিনি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও সব ধর্মের মানুষের প্রতি ছিল তাঁর সমান ভালোবাসা। শেষ পর্যন্ত নিজের রক্ত দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন, একজন খাঁটি মুসলমান, দেশপ্রেমিক, বাঙালি, মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন তিনি।

মহাগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআনে তো অমুসলিমদের নিরাপত্তা বিধানের কথা বলা হয়েছে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে- কী ধর্মের ভিত্তিতে, কী কাজের ভিত্তিতে। প্রসঙ্গক্রমে চলে আসছে উপমহাদেশে ধর্মীয় রাজনীতির কথা। কিন্তু আমাদের দেশে ধর্মের নাম ভাঙিয়ে ধর্মীয় কতিপয় দল যেভাবে দেশের স্বাধিকার আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল, ধর্মকে বিতর্কিত করেছিল অন্য কোনো দেশে তা করা হয় নি। এভাবে হয় না, হতে দেওয়া যায় না, যদি হয়েও যায় তাহলে দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে কিচ্ছু থাকবে না, থাকবে না বাঙালির বীরত্বের ইতিহাস।

আমরা সবাই অল্পবিস্তর সাম্প্রদায়িকতা লালন করছি। অসাম্প্রদায়িক হওয়াটা আসলেই সহজ কাজ নয়। যারা অশিক্ষিত ও দরিদ্র তারা বোধকরি বেশি অসাম্প্রদায়িক, কারণ তাদের স্বার্থচিন্তা ততটা প্রকট নয়। অল্পতে যারা তুষ্ট থাকে তারা কখনো অন্যের ওপর চড়াও হয় না সহজে। বিত্তবানেরাই ধর্ম, রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয় নিজের স্বার্থে। সব পেশা ও ধর্মের মানুষ যদি এক হয়ে কাজ না করতে পারি তবে এ দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য সবার সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের প্রয়োজন।

লেখক : শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ


আরও সংবাদ   বিষয়:  অসাম্প্রদায়িক চেতনা   




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]