ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১২:২৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 125

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাংলাদেশ। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ গড়া। আমাদের সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। এদেশে প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ ধর্মমতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবাদি পালনের অধিকার রয়েছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি মেনে নেয়নি। স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ব্যাহত করতে তারা তৎপর রয়েছে। সম্প্রতি  কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননা করা হয়েছে বলে কথিত অভিযোগ তুলে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে একটি চক্র বাঙালি জনগোষ্ঠীকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। উগ্রবাদী একটি শ্রেণি গত কয়েক দিনে বেশ কিছু পূজামণ্ডপে হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশের কয়েকটি জেলায় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। রোববার রাতে রংপুরে সনাতন ধর্মের অনেক মানুষের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে হামলাকারীরা। এসব ঘটনা কোনো অবস্থাতেই এদেশের সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারেনি। এ নিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদে নেমেছে দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী মানুষেরা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছিল। হঠাৎ করে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক একটি গোষ্ঠী পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে মাঠে নেমেছে। এরা কারা? একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশের লাখ লাখ বাড়িঘর আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। তাদের প্রেতাত্মারা এসব সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অনেকে মনে করছেন।

১৯৭৫ সালের পর বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবর্তে এক ধরনের সাম্প্রদায়িক সঙ্কীর্ণ রাজনীতিচর্চা প্রাধান্য পেয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চর্চার জায়গার বদলে অনেকের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ধর্ম। আমরা এখন আর ‘মানুষ’ পরিচয় দিতে তেমন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি না। অন্যের ধর্ম ও ধর্মপরিচয়কে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। সমাজে ঘৃণা বাড়ছে।

ধর্ম যার যার উৎসব সবার- বাংলাদেশের এমন পরিবেশ পৃথিবীতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কুমিল্লার ঘটনার পর নোয়াখালী এবং রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী বাড়িঘরে ভাঙচুরসহ আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব শঙ্কাজনক ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরালো কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি, এমন অভিযোগও করছেন অনেকে।

আমরা চাই ধর্মীয় সম্প্রীতি। একজন নাগরিকের পূর্ণ মর্যাদা। তার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা। গতকাল শেখ রাসেল দিবসের  অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশকে গড়তে চাই।’ গত কয়েকদিন ধরে যা ঘটেছে তার অবসান হোক। এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে শুধু সংশ্লিষ্টরাই দায়িত্ব পালন করবে তা নয়, বিবেকবান মানুষসহ দেশের সম্মানিত ইমাম, খতিব, পীর-মাশায়েখ, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কতিপয় দাঙ্গাকারীর জন্য আমাদের হাজার বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে না। যারা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের কঠোর হাতে দমন করে আইনগত শাস্তির আওতায় আনা হবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]gmail.com