ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বিশ্বনবীর (সা.) জন্মলগ্নে কী ঘটেছিল
আলেমা সালিমা সানা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ৪:২৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 178

চলছে রবিউল আউয়াল মাস। রবিউল আউয়াল বিশ্বজাহানের সর্দার, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের মাস। ৫৭১ খ্রিস্টাব্দে এই মাসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের সময় পৃথিবীতে এমন কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল, যা সবাইকে অবাক করে ও শ্রেষ্ঠ নবীর আগমনকে মানুষের সামনে স্পষ্ট করে। এমনি কিছু ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

বিশ্বনবীর (সা.) জন্মের কিছু দিন পূর্বে আবরাহার হস্তী বাহিনীর বিনাশ ঘটে। আসহাবে ফিল অর্থাৎ আবরাহার হস্তী বাহিনী খানায়ে কাবার ওপর আক্রমণ করেছিল এবং আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আবাবিল নামক কিছু ক্ষুদ্র পাখি দ্বারা পরাজিত করেছিলেন। এ ঘটনাটি বিশ্বনবীর জন্মের বরকতের পঠভূমি ছিল বলে সিরাতের কিতাবগুলোতে উল্লেখ রয়েছে।

হজরত উসমান ইবনে আবুল আস (রা.)-এর মা হজরত ফাতিমা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর জন্মগ্রহণ মুহূর্তে আমি মা আমিনার কাছে ছিলাম। আমি দেখলাম, বিবি আমিনার ঘরটি আলোয় আলোকিত হয়ে গেল এবং আকাশের সব তারকারাজি নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ল। আমার মনে হতে লাগল, তারকাসমূহ যেন আমার ওপর এসে পড়বে।’ (ফাতহুল বারী : ৬/৭২৬)

লক্ষণীয় বিষয় হলো, তারকারাজির নিম্নমুখী হয়ে ঝুঁকে পড়ার দ্বারা এই ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে যে, অচিরেই পৃথিবী থেকে কুফর ও শিরকের অমানিশা দূরীভূত হবে এবং হেদায়েতের উজ্জ্বল আলোকে এ নিখিলধরা আলোকিত হয়ে উঠবে। মহান আল্লাহ পাক তাঁর পবিত্র কালামে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের কাছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এসেছে (হেদায়াত) আলো এবং সুস্পষ্ট কিতাব। যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে এই হেদায়াতের আলোকবর্তিকা ও কিতাবের সাহায্যে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁরই অনুমতিক্রমে কুফর-শিরকের অন্ধকার হতে তাদেরকে হেদায়াতের পথে নিয়ে আসেন।’ (সুরা মায়েদা : ১৫-১৬)

হজরত ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর সম্মানিতা মা রাসুল (সা.)-এর শুভজন্মক্ষণে এক নূর দেখেন, যার দ্বারা সিরিয়া এলাকার প্রাসাদসমূহ উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।’ (মাজমাউ যাওয়ায়েদ : ৮/২২২)

বিশ্বনবীর জন্মক্ষণে একদিকে পৃথিবীতে নবুওয়াতের সূর্যোদয়, অপরদিকে পারস্য সম্রাট কিসরার রাজপ্রাসাদে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। এই ভূমিকম্পের দরুন রাজপ্রাসাদের চৌদ্দটি গম্বুজ ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। পারস্যের এক অগ্নিকুণ্ড যা এক হাজার বছরব্যাপী বিরতিহীনভাবে জ্বলছিল তা সেই শুভ মুহূর্তে হঠাৎ নিভে যায়। সাওয়াহ নামক এক নদীতে যথারীতি পানি প্রবাহিত হচ্ছিল, বিশ্বনবীর আগমন মুহূর্তে হঠাৎ তার অথৈ জলরাশি শুকিয়ে যায়।’ (সিরাতে মুস্তফা : ১/৬৯)। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল অগ্নিপূজাসহ সব ভ্রান্তি অবসানের ইঙ্গিত।

সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, জন্মের সময় বিশ্বনবীর মার উদর থেকে এমন একটি নুরের বিচ্ছুরণ ঘটেছিল যার আলোকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত সবকিছু আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, বিশ্বনবী (সা.) যখন ভূমিতে আবির্ভূত হলেন তখন উভয় হাতের ওপর ভর দিয়ে ছিলেন। অতঃপর এক মুষ্টি মাটি নিয়ে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন।’ (মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়া)

হজরত ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, আয়শা (রা.) বলেন, ‘বিশ্বনবীর (সা.) জন্মগ্রহণের সময় এক ইহুদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে মক্কা নগরীতে বসবাস করত। যে রাতে বিশ্বনবী পৃথিবীতে আগমন করেন, সে রাত-পরবর্তী সকালে সে কুরাইশদের কাছে জিজ্ঞেস করল, গত রাতে এ এলাকাতে কোনো শিশুর জন্ম হয়েছে কি? উপস্থিত কুরাইশের লোকেরা বলল, এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। লোকটি বলল, তোমরা এ বিষয়টির অনুসন্ধান করো। কেননা এই রাতে বর্তমান উম্মতের নবী ভূমিষ্ঠ হয়েছেন। তাঁর কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে একটি বিশেষ নিদর্শন (অর্থাৎ মোহরে নবুওয়াত) রয়েছে। জন্মের পরপর শিশুটির মুখে জিন আঙুল পুরে রাখার দরুন শিশুটি দুদিন যাবৎ কারও দুধ পান করবে না। কুরাইশের লোকেরা সন্ধান নিয়ে জানতে পারল, আব্দুল মুত্তালিবের প্রিয় পুত্র আব্দুল্লাহর এক পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে।

ইহুদিকে এ সংবাদ জানানো হলে সেও শিশুটিকে দেখার আগ্রহ ব্যক্ত করে বলল, চলো! আমিও শিশুটিকে দেখব। ইহুদি লোকটি যখন শিশুটিকে দেখল এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে মোহরে নবুওয়াতের নিদর্শনও দেখতে পেল, তখন সে চিৎকার দিয়ে বেহুঁশ হয়ে গেল। হুঁশ ফিরে আসার পর লোকটি বলল, নবুওয়াতে বনি ইসরাইল আজ থেকে শেষ হয়ে গেল। হে কুরাইশ সম্প্রদায়! ভবিষ্যতে এই শিশু তোমাদের প্রতি এমন এক আক্রমণ পরিচালনা করবে যার সংবাদ পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে। (ফাতহুল বারী : ৬ /৪২৫)

এ ছাড়াও আরও অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনাবলি সিরাতের পাতায় পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আসুন আমরা বিশ্বনবীর এ জন্মের মাসে বেশি বেশি সিরাত পাঠ করি এবং বিশ্বনবীর শানে দুরুদ পাঠ করি। আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মদ...।

লেখক : শিক্ষিকা, মিফতাহুল জান্নাত বালিকা মাদ্রাসা, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]