ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

দুর্ভাবনার নাম নতুন বল
নাজমুল হক তপন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১, ১২:৩৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 214

মঙ্গলবার ওমানের বিপক্ষে স্বস্তির জয়ের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জানালেন, ‘বেশ কিছু জায়গায় আমাদের আরও উন্নতির সুযোগ আছে। নতুন বলে আমরা অনেক বেশি ওয়াইড দিচ্ছি। নতুন বলে ব্যাট ও বলে দু জায়গাতেই আমাদের উন্নতি প্রয়োজন।’

স্বাগতিক ওমানের বিপক্ষে জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে মূলপর্বের সম্ভাবনা জোড়ালোভাবেই ধরে রেখেছে টাইগাররা। তবে এই জয়ের আনন্দে ভেসে যাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাস্তবতা অনুধাবন করছেন ভালোভাবেই। ব্যাটে ও বলে এই দু জায়গাতেই খুব বড় দুর্ভাবনা হয়ে দেখা দিয়েছে নতুন বল। প্রতিপক্ষের নতুন বোলারদের সামনে অসহায়বোধ করছেন আমাদের ব্যাটাররা। আবার বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন আমাদের নতুন বলের কারিগররা।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত দুটো ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এই দুটো ম্যাচেই টাইগার শিবিরে আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে নতুন বল। ধরা যাক, সর্বশেষ ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটির কথাই। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৬ রানের ব্যবধানে জয় মানে, বলাই যায় ম্যাচটা ছিল একপেশে। কিন্তু ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশ যে চরম বিপদের মধ্যে ছিল, সেটা ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগই নাই। ওমানের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে (প্রথম ৬ ওভার) মাত্র ২৯ রান তুলতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। হারাতে হয় দুটি উইকেট। বিপরীতে প্রথম ৬ ওভারে ওমান সংগ্রহ করে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান। পাওয়ার প্লেতে ১৮ রান বেশি নিয়েছে ওমান। একই ব্যাপার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও। প্রথম ৬ ওভারে স্কটিশরা জমা করেছিল ১ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান। আর এই পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল মোটে ২৫ রান। আর হারাতে হয় দুটি উইকেট।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভালো করতে হলে, পাওয়ার প্লের সদ্ব্যবহার করাটা এক অলিখিত প্রাক-শর্ত। আর এই জায়গাটিতে ভীষণ নড়বড়ে টাইগাররা। বিপক্ষ দলের নতুন বলের বোলারদের সামনে টি-টোয়েন্টি মেজাজ তো অনেক দূরের ব্যাপার, ওয়ান ডে মেজাজেও ব্যাট করতে পারছেন না আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটাররা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারের কারণও এই পাওয়ার প্লের ব্যর্থতা। প্রথম ৬ ওভারে বাংলাদেশের চেয়ে ১৪ রান বেশি সংগ্রহ করেছিল স্কটিশরা। এই পার্থক্য আর ঘোচাতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ বাহিনী।
 
খেলাটির নাম যখন টি-টোয়েন্টি তখন পাওয়ার প্লেতে কয়টা উইকেট পতন ঘটল তার চেয়েও অনেক বড় ব্যাপার স্কোরবোর্ডে কত রান জমা পড়ল। প্রথম ৬ ওভারে ৫০/৬০ রান যোগ হওয়া মানে দলের স্কোর পৌনে দুশ বা তার চেয়েও বেশি  হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আর আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটাররা, পাওয়ার প্লেতে ওভার পিছু গড়ে রান তুলছেন পাঁচ বা তার আশেপাশে।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ইনিংস উদ্বোধন করেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। হার্ডহিটার হিসাবে যথেষ্টই সুনাম আছে দুজনার। কিন্তু ব্যর্থ হলেন দুজনই। ওমানের বিপক্ষে ম্যাচে সৌম্যের জায়গা আসলেন মোহাম্মদ নাইম। ব্যাটিংয়ে অ্যাঙ্কোর রোল প্লে করলেন নাইম। যদিও পাওয়ার প্লেতে টি-টোয়েন্টি ঝাঁঝ ছিল না তার ব্যাটে। নাইম প্রান্ত আগলে রাখার পরও শুরুর ধস আটকানো সম্ভব হয়নি। একদিকে পাওয়ার প্লেতে রানও আসছে না আবার পতন ঘটছে উইকেটেরও। আর এতে মাঝের ওভারগুলোতে চাপ পড়ছে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ওপর। উইকেটে ভালোভাবে থিতু হওয়ার আগেই বিগ হিট নেওয়ার বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন মিডল অর্ডার ব্যাটাররা। এতে করে ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত রান তোলার বাধ্যবাধকতার কারণে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে ব্যাটিং অর্ডারেও।
 
নতুন বলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মতোই অবস্থা বোলারদেরও। এমনকি দুনিয়া কাঁপানো কাটার মাস্টারখ্যাত মোস্তাফিজুর রহমান থাকার পরও থামানো যাচ্ছে না বিপক্ষ দলের রান উৎসব। দুটি ম্যাচেই নতুন বলে আক্রমণ শানান তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজ। তাসকিনের গতি আর মোস্তাফিজের কারুকাজ, নতুন বলের জন্য খুবই ভালো কম্বিনেশন। কিন্তু বাস্তবে নতুন বলে এ দুজনই চেনাতে পারছেন না নিজেদের। শুরুতে বল হাতে ছন্নছাড়া দুজনই। ওমানের বিপক্ষে ম্যাচে নতুন বলে প্রথম ওভারেই দুটো ওয়াইড করলেন তাসকিন। ওভার থেকে আসলো ১২ রান। পরের ওভারে মোস্তাফিজ প্রথম বলটিই ছুড়লেন ওয়াইড। পরপরই উইকেট পেলেন। কিন্তু এলেমেলো বোলিং করে চাপ ধরে রাখতে পারলেন না। প্রথম ওভারেই দিলেন চার চারটি ওয়াইড। ১০ বলের এই ওভারে যোগ হলো ১২ রান।
 
প্রতিপক্ষ বোলারদের শর্ট বলকে চার্জ করার সাহস দেখাতে পারছেন না আমাদের ব্যাটাররা। বিপরীতে তাসকিনদের শর্ট বলগুলোকে পত্রপাঠ সীমানাছাড়া করছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা।

বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে যেতে হয়ত খুব বেশি বেগ পেতে হবে না টাইগারদের। তবে বিশ্বমঞ্চে ভালো কিছুর ছাপ রাখতে হলে, নতুন বলের শাপমুক্তি হওয়াটা এখন সময়ের দাবি।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]