ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

করোনার টিকা প্রদানে ভারতের ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১, ১১:৫৭ এএম আপডেট: ২১.১০.২০২১ ১২:০৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 88

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধী টিকা প্রদানে ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে ভারত। ৪০ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটি এক বিলিয়ন ভ্যাকসিন ডোজ (একশ কোটি ডোজ) প্রদান করেছে নিজ দেশের নাগরিকদের। এর মাধ্যমে টিকা প্রাপ্তির জন্য যোগ্য জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশকে প্রথম ডোজ এবং প্রায় ৩০ শতাংশকে উভয় ডোজ টিকা প্রদাণে সক্ষম হয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দূতাবাস বলছে, এই মাইলফলক নতুন টিকা আবিষ্কার, টিকা উৎপাদন, বিতরণ এবং প্রযুক্তির মতন টিকাকরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতার প্রমাণ দেয়।

জানা গেছে, ভারতে কোভিড-১৯ টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়েছিলো চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারিতে। তবে করোনা টিকাকরণের জন্য ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স ফর ফোকাসড রিসার্চ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে- এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের টিকা অভিযানের একটি বৈশিষ্ট্য হলো- উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি এবং সমন্বয়। এর সঙ্গে স্বয়ং যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশীয় টিকা উৎপাদনকারীদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ভারত টিকা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয় এবং 'মিশন কোভিড সুরক্ষা' চালু করে। এই মিশন জাইডাস ক্যাডিলা কর্তৃক উৎপাদিত বিশ্বের প্রথম ডিএনএ-ভিত্তিক কোভিড টিকা জাইকভ-ডি- এর জন্য কাজ করেছে, যা ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের টিকাকরণ করবে। মিশনটি ভারত বায়োটেকের সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা করেছে এবং অন্যান্য সরকারি খাতের নির্মাতাদের জন্য অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করেছে।

এদিকে ভারতই একমাত্র দেশ যা একাধিক প্ল্যাটফর্মজুড়ে একাধিক টিকা তৈরি করেছে (ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন একটি নিষ্ক্রিয় ভাইরাস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, জাইকভ-ডি একটি ডিএনএ টিকা, কোভিশিল্ড একটি ভাইরাল ভেক্টর ভ্যাকসিন, জেনোভা ভারতের প্রথম এমআরএনএ টিকা হওয়ার পথে রয়েছে)।

দূতাবাস বলছে, সরবরাহ এবং বিতরণের জন্য পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের একটি সামগ্রিক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছিল। করোনা টিকা বিষয়ে ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স ফর ফোকাসড রিসার্চ ছাড়াও ২০২০ সালের আগস্টে কোভিড-১৯ (এনইজিভিএসি)- এর ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পর্কিত জাতীয় বিশেষজ্ঞ গ্রুপ,  ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ক এমপাওয়ারড গ্রুপ কোভিড-১৯ (ইজিভিএসি) এবং ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ ফর ইমিউনাইজেশন (এনটিআইজিএ) ওয়ার্কিং গ্রুপসহ, সর্বোচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েকটি বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছিল। ভারতের টিকাকরণ অভিযান এই বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠীগুলোর সুপারিশপ্রাপ্ত ছিল।

জাতীয় কোভিড টিকাকরণ কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা এবং সামনের সারির কর্মীদের পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের তাদের উচ্চ ঝুঁকি কারণে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে, যারা ৪৫ বছরের বেশি বয়সী ও একাধিক অসুস্থতায় আক্রান্ত এবং পরে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল। চলমান পর্যায়ে, ১৮ বছরের বেশি বয়সের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সরকারি টিকাকেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় প্রায় ৯৪ কোটি মানুষকে দুই ডোজ করে টিকা দেয়া হবে। ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার (ডিসিজিআই) অনুমোদনে এই কর্মসূচিতে তিনটি টিকা ব্যবহার করা হয়েছে (যুক্তরাজ্যের অ্যাস্ট্রাজেনেকার সহযোগিতায় সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া কর্তৃক উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড, ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কোভ্যাক্সিন এবং রাশিয়ার স্পুটনিক ভি)।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, ভারত কোউইনের একটি অনন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও তৈরি করেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপকারভোগীদের নিবন্ধন করা, তাদের টিকা নির্ধারণ করা, কিউআর কোডভিত্তিক টিকা সার্টিফিকেট তৈরি করা এবং তাদের টিকার ইতিহাস ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও, এটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দৈনিক কভারেজ এবং টিকার প্রয়োজনীয়তাসহ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখে।

টিকাকরণ কর্মসূচির ব্যাপ্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে, সারা দেশে ৩ লাখ ১৩ হাজার কোভিড টিকাকেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে ৭৪ শতাংশই গ্রামীণ এলাকায় এবং যেখানে এখন পর্যন্ত মোট টিকা পাবার যোগ্যদের মধ্যে ৬৫ শতাংশকে টিকাকরণ করা হয়েছে। ২ লাখ ৬৪ হাজার জনেরও বেশি টিকাদানকারীসহ মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার জনের টিকার দলকে এই কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল।

একশ কোটি ল্যান্ডমার্ক ভারতের ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীদের অদম্য চেতনাকেই প্রতিফলন করে যাদের মধ্যে রয়েছে- নার্স, সহায়ক নার্স মিডওয়াইফ এবং হাজার হাজার টিকাদানকারী, যারা বিভিন্ন এবং আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছে যেন কেউ বাদ না পড়ে। সম্প্রতি দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে ড্রোন দ্বারা টিকা বিতরণ পরিচালিত হয়েছে। গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী নারী, দরিদ্র, ভবঘুরে এবং অন্যান্য দুর্বল গোষ্ঠীর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, কর্মসূচিতে এখন কর্মক্ষেত্রে কভিড ভ্যাকসিনেশন সেন্টার, ঘরের কাছাকাছি ভ্যাকসিনেশন সেন্টার এবং সহজতর প্রবেশাধিকারের জন্য মোবাইল ভ্যাকসিনেশন ইউনিট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিশুদের নিরাপদ শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য স্কুলের শিক্ষকদের অগ্রাধিকারভিত্তিক টিকাকরণও করা হয়েছিল।

২০২১ সালের শেষের দিকে আমরা আশা করছি কভিড-১৯ টিকার মাসিক উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি, টিকার অনেকগুলো বিকল্প সুলভ হবে এবং আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে সম্পূর্ণভাবে টিকাকরণ করা হবে। এটি বিশ্বব্যাপী টিকা ভাগ করে নেওয়ার বৃহত্তর সম্ভাবনাকে সফল করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর "এক পৃথিবী, এক স্বাস্থ্য" রূপকল্প বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।


আরও সংবাদ   বিষয়:  করোনা টিকা প্রদান   ভারত  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]