ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

তিস্তার পানিতে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চল, দ্রুত বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে
প্রকাশ: রোববার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ১০:০৫ এএম আপডেট: ২৪.১০.২০২১ ১০:০৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 304

গত মঙ্গলবার রাত থেকে পানি ঢুকছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে। ইতোমধ্যে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ হয়ে পড়েছে পানিবন্দি। বন্যায় নাকাল তিস্তাঘেরা জনপদের মানুষ। প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনে নাস্তানাবুদ হয় তিস্তাপাড়ের লাখ লাখ মানুষ। আবার খরায় পোড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। আকস্মিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া ও কমে যাওয়ায় শুরু হয় তীব্র ভাঙন। দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে তিস্তাপাড়ের মানুষ। জানা গেছে, ভারতের সিকিম উপত্যকা থেকে ভারতে প্রবাহিত হয়ে তিস্তা নদী লালমনিরহাট জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উজানে ভারতের অংশে সে দেশের সরকার বাঁধ নির্মাণ করে তিস্তা নদী একতরফাভাবে ব্যবহার করছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে তেমন পানি থাকে না। আবার বর্ষাকালে অতিবর্ষণের ফলে ভারতের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে তিস্তাপাড়ের জনপদ। জানা গেছে, ভারতীয় অংশে কয়েকদিন প্রবল বৃষ্টিপাতে পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় ভারত গজলডোবা বাঁধের ৪৪টি গেট খুলে দেয়। যার প্রভাবে হঠাৎ করে বাংলাদেশে তিস্তায় পানি বেড়ে চলেছে। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে ব্যারাজের ফ্ল্যাট বাইপাস।

এবার বর্ষা মৌসুমেও কয়েক দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর পানি কমতে থাকে তিস্তায়। কিন্তু গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কার্তিক মাসেও ফুলেফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। হঠাৎ পানি বাড়ার কারণে তিস্তার উভয় তীর উপচে প্রবাহিত হচ্ছে। ডুবে গেছে চাষিদের স্বপ্নের ফসল। পানি বাড়ার কারণে তিস্তা ব্যারাজ রক্ষার্থে সব কপাট খুলে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি হওয়ায় তিস্তায় পানি বেড়েছে। ফলে এই নদীর বাংলাদেশ অংশে বন্যা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়া। এ জন্য নিজেদের সীমানায় বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের মতে, বন্যার আশঙ্কায় ভারত তিস্তার বাঁধ খুলে দেয়। যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের সীমানায় বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি সুরাহা না হওয়ায় বিকল্প চিন্তা করতে হচ্ছে সরকারকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তাপাড়ের মানুষের জন্য এক মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। যাতে করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, খরা মৌসুমে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা থাকবে। এ জন্য তিস্তার অববাহিকার মানুষ দীর্ঘ মানববন্ধন করে তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এই প্রকল্পের ডিজাইন ও প্রজেক্ট প্রোফাইল শেষ হয়েছে। এটি অনেক বড় প্রকল্প। এটি বাস্তবায়ন হলে তিস্তাপাড়ের মানুষের আর দুর্দশা থাকবে না। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন মেগা প্রকল্প শিগগিরই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে, যা দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক গতিধারা আমূল পাল্টে দেবে।

উত্তরাঞ্চলে বন্যায় হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অসময়ে বন্যায় হারিয়েছে ফসলাদি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। এ মুহূর্তে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব তাদের মাঝে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো; যাতে করে দিশেহারা এসব মানুষ খাদ্যসঙ্কটে না পড়ে। তা ছাড়া আগামী বোরো মৌসুমের জন্য দ্রুত কৃষিসামগ্রী পৌঁছে দিতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]