ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মাঠে রাজনীতি নেই, আছে মারামারি
হাবীব রহমান
প্রকাশ: রোববার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ২:০০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 157

মহামারি করোনায় মাঠের রাজনীতিতে স্থবিরতা থাকলেও সংঘাত-সহিংসতার কমতি নেই। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়েছে বিভিন্ন স্থানে। এসব সংঘাতে প্রাণহানিও ঘটছে। দেশের সীমানার বাইরেও আওয়ামী লীগ-বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা সহিংসতায় জড়িয়েছে। বিএনপিও নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়াচ্ছে। গত মাসে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগ ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘাতে তিনজন নিহত হয়েছে। আর সামনের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে মাগুরায় চারজন নিহত হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর- এই ৯ মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক সংঘাতে নিহত হয়েছে ৬৪ জন, যা গত এক বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। গত বছর নিহত হয়েছে ৩১ জন। তার আগের বছর ২০১৯ সালে নিহত হয়েছে পাঁচজন। চলতি বছরের ৯ মাসে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে ৩২১টি। আহত হয়েছে ৪ হাজার ৪০৫ জন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে ৬টি, তাতে ৭২ জন আহত হয়েছে। মারা গেছে তিনজন।

তবে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর ভেতরে সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা বেশি। মোট সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে ৮৩টি। তাতে নিহত হয়েছে ১২ জন। আহত হয়েছে ৯৬৯ জন। বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে চারটি। আহত হয়েছে ১০ জন। নিহত হয়েছে একজন। তবে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। আহত হয়েছে ৫৫০ জন। আওয়ামী লীগের সঙ্গেও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তিনটি। তাতে আহত হয়েছে ৯৬ জন। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে ৯টি। নিহত হয়েছে পাঁচজন। আহত ৮৭ জন। চলতি বছরে নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। কয়েক ধাপের ইউপি নির্বাচনে ১৬৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৩০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১ হাজার ৯৪২ জন। পৌর নির্বাচনে ১০টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। তাতে নিহত হয়েছে একজন। আহত হয়েছে ১১৮ জন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৬টি ঘটনায় নিহত হয়েছে তিনজন। আহত হয়েছে ১৬২ জন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ও জাসদসহ আরও অনেক ছোট ছোট রাজনৈতিক দলও সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, বহিরাগতদের আধিপত্য, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, দলীয় পদ নিয়ে সমস্যা প্রভৃতি। বিএনপি এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘাতের কারণ অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দলের পদ-পদবি, দলে আধিপত্য প্রভৃতি। আর স্থানীয় সরকার বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যেই সংঘাত বেশি হয়েছে। স্থানীয় সরকারে মনোনয়ন এবং প্রভাব ধরে রাখতে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলো। গ্রুপের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও পদ-পদবির জন্য যেমন সংঘাত হচ্ছে, তেমনই স্থানীয় পর্যায়ে টেন্ডার, দখল ও জমি নিয়ে সংঘাত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বড় দলে বিভক্তি থাকবেই। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে বহিরাগতও অনেকে দলে ঢুকেছে। ফলে আধিপত্য বিস্তার ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব হচ্ছে। এজন্য দলকে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তবে অভিযোগ এলে বা সংঘাত হলে সরকার কোনো ছাড় দিচ্ছে না। দলও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। করোনার সময় দেশে প্রকৃত অর্থে মাঠের রাজনীতি না থাকলেও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েছে। করোনার আগের বছর যেখানে সংঘাতে মারা গেছে পাঁচজন, সেখানে করোনার বছর ২০২০ সালে মারা গেছে ৩১ জন। আর এ বছর ৯ মাসেই ৬৪ জন।

আসকের সাধারণ সম্পাদক এবং মানবাধিকার কর্মী নূর খান মনে করেন, দিন দিন আদর্শিক রাজনীতি দূরে চলে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দলগুলোর ভেতরে আরেকটি দল, নানা উপদল সৃষ্টি হয়েছে স্বার্থের কারণে। আর সেই স্বার্থ নিয়েই দলের নানা উপদল অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। তার মতে, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার কারণে সরকার সমর্থক দলে এটা বেশি। বিরোধীদলগুলোও রাজনীতি না থাকায় অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। আর সব দলেই এখন কম-বেশি ব্যক্তি পূজা চলছে। ফলে দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা নেই, আছে সংঘাত-সংঘর্ষ। 

তিনি বলেন, সরকার সমর্থকরা আবার বিরোধীদলকে কোণঠাসা করতে সংঘাতের আশ্রয় নেয়। ফলে রাজনীতি না থাকলেও মারামারি-সংঘাত আছে, দিন দিন এটি বাড়ছেই।

আর সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, রাজনীতি এখন জনকল্যাণের জন্য নেই। এটা ব্যক্তিস্বার্থের জন্য হচ্ছে। তাই প্রকৃত রাজনীতি না থাকলেও সংঘাত-মারামারি আছে। এই সংঘাত ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য। ক্ষমতাসীনরা সংঘাত-সংঘর্ষ করছে এখন সুবিধা পাওয়ার জন্য। কেউ পাচ্ছে আবার কেউ কম পাচ্ছে বা পাচ্ছে না। সেটা নিয়ে সংঘাত হচ্ছে। আর বিএনপিতে সংঘাত হচ্ছে ভবিষ্যতে ক্ষমতা পাওয়ার আশায়। তারা ক্ষমতায় গেলে কার আধিপত্য থাকবে, কে বেশি পাবে তার লড়াই চলছে এখন। 

তিনি বলেন, রাজনীতির মানে হচ্ছে দেওয়া। দেশের মানুষকে, জনগণকে দেওয়া। কিন্তু এখন হচ্ছে নিজের পাওয়ার রাজনীতি। নিজের স্বার্থের রাজনীতি। এর পরিণতি খুব খারাপ হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]