ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ইকবাল গাড়িতে ও হেঁটে যায় কক্সবাজার
যেভাবে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
এসএম মিন্টু
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:১৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 147

কুমিল্লায় নানুয়ার দীঘিরপাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় মূল হোতা ইকবালকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইকবালের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা করছিল নেপথ্যে থাকা মাস্টারমাইন্ডরা। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ইন্ধন দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। গতকাল ইকবাল ও ইকরামকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা যাদের নাম বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও প্রাথমিক তদন্তে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৯৯৯-এ কল করা ইকরাম ও মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখা ইকবালকে প্রাধান্য দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি। সঙ্গে আছেন একদল চৌকস কর্মকর্তা।

ইকরাম, ইকবালসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদকারী এক কর্মকর্তা জানান, ইকবাল ও ইকরাম আজ (গতকাল) থেকে মুখ খোলা শুরু করেছে। ঘটনার দিন ইকবাল পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে যাওয়ার পর সকালে নানুয়ার দীঘিরপার পূজাম-পে এসে গ্রামবাসীর সঙ্গে হামলায় যোগ দেয়। এরপর তার পুরনো এক বন্ধুর মাথা ফাটিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। 

জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল জানায়, তার সঙ্গে ওই বন্ধুর পুরনো দ্বন্দ্ব রয়েছে। সুযোগ পেয়ে তার ওই বন্ধুর মাথা ফাটিয়ে দেয়। এরপর ঘটনার পরদিন হাঁটতে হাঁটতে চলে যায় কক্সবাজারের উদ্দেশে। কিছু রাস্তা লোকাল বাসেও যায়। প্রায় তিন দিনের মাথায় পৌঁছায় কক্সবাজার এলাকায়। এরপর তিনজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তার নিজের সমস্যার কথা জানালে বৃহস্পতিবার রাতে ওই তিনজন পুলিশে খবর দিয়ে তাকে ধরিয়ে দেয়। 

তদন্তকারীরা আরও জানান, গত শুক্রবার থেকে গতকাল পর্যন্ত তাকে অনেক জেরা করা হয়েছে। প্রথমে ইকবাল অনেক তথ্যই লুকিয়ে গেছে। তবে গতকাল থেকে মুখ খুলতে শুরু করেছে। আরেক আসামি ইকরাম ও ইকবালকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে ইকবাল পুলিশকে জানিয়েছে, তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে এ কাজ করানো হয়েছে। সে প্রথম নানুয়ার দীঘিরপার ম-পে যায় কোরআন রাখতে। তবে প্রথম পর্যায়ে তা ব্যর্থ হয়। এরপর আরেকটি মন্দিরে গেলে সেই মন্দির বন্ধ পায়। একপর্যায়ে লাঠি দিয়েই তালা ভাঙার চেষ্টা করে। 

একটি সূত্র জানায়, ইকরাম, ইকবাল দুজনই মাদকসেবী। তারা পরস্পরের যোগসাজশে কারও দ্বারা এই কাজ করেছে। তবে যাদের কথা বলা হয়েছে, তাদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের যেকোনো সময় গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

ওই সূত্র জানায়, যাদের নাম বলা হয়েছে- তারা রাজনৈতিক ব্যক্তি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইকবালকে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে পূজাম-পে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার জন্য ভাড়া করা হয়। ইকবাল মাদকাসক্ত হওয়ায় পরিকল্পনাকারীরা তাকে ব্যবহার করেছে। 

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইকবাল, ইকরামসহ চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডের প্রথম দিন ছিল গতকাল। প্রথম দিনে যে তথ্য দিয়েছে তাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মূল পরিকল্পনাকারী বা নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ডদের শনাক্ত করেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ইকবাল পাঁচ বছর ধরে মসজিদ, মাজারে পড়েছিল। সারাক্ষণ মসজিদ ও মাজারে থাকার কারণে সহিংসতার পরিকল্পনাকারীরা তাকে প্রথম টার্গেট করে। এ ছাড়া একরামের দায়িত্ব ছিল ওই দৃশ্য দেখার পর ৯৯৯ ফোন করা। তার এই ফোন কলটিও ছিল পরিকল্পিতভাবে।

তদন্ত সূত্র জানায়, ইকরাম ও ইকবাল দুইজনই মাদকসেবী। টুকটাক মাদক ব্যবসার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রতিটি বিষয়কে ধরে ধরে এগোনোর চেষ্টা করছি। ঘটনার গভীরে যাদের ইন্ধন আছে, তা খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

গতকাল কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় চারজনকে কুমিল্লা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। বিচারক তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। ইকবাল ও ইকরাম ছাড়া বাকি দুইজন হলেন মাজারে যাতায়াতকারী হুমায়ুন কবির ও ফয়সাল। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইকবালকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর নগরীর নানুয়ার দীঘিরপাড়ের একটি অস্থায়ী পূজাম-পে হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন শরিফ রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লাসহ সারা দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কুমিল্লা   ইকবাল  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]