ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

জিএসপি প্লাস পাবে কি বাংলাদেশ
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ৯:০৮ এএম আপডেট: ২৫.১০.২০২১ ৯:৩৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 241

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ এখন যে সুবিধা পাচ্ছে, সব ঠিক থাকলে তা আগামী ২০২৯ সালের পর আর বহাল থাকবে না। তখন বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য ইইউর (ইউরোপের ২৭ দেশের জোট) কাছে নতুন করে জিএসপি প্লাসের জন্য আবেদন করতে হবে। সুশাসন, মানবাধিকবার, শিক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শ্রম আইন, শিশুশ্রম, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এসব বিষয়ে ইইউ বাংলাদেশের ওপর অসন্তোষ। 

কূটনীতিকরা বলছে, আগামী নয় বছরে এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সন্তোষজনক অগ্রগতি করলে ভবিষ্যতে ইউরোপের বাজারে এখনকার মতো শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে।

ঢাকা ও ব্রাসেলসের একাধিক কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, ইইউর ইবিএ (এভরিথিং বাট আর্মস-অস্ত্র ছাড়া বাকি সবকিছুতে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা) কার্যক্রমের আওতায় স্বল্পন্নোত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে এখন শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে। আগামী ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তীর্ণ হবে বাংলাদেশ। নিয়ম অনুযায়ী এলডিসি থেকে উত্তরণের পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত (আগামী ২০২৯ সাল) এই সুবিধা বহাল থাকবে। তবে বাংলাদেশের ওপর ইইউর অসন্তোষ বেড়ে গেলে যেকোনো সময় সুবিধা স্থগিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আগামী ২০২৯ সালে থেকে ইউরোপের বাজারে সুবিধা পাওয়ার জন্য তখন বাংলাদেশকে নতুন করে আবেদন করতে হবে।

অন্যদিকে ইউরোপের বাজারে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য গত সেপ্টেম্বরে ইইউ নতুন আইন প্রণয়ন করেছে, যা আগামী ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইইউর বাজারে এখন যে সুবিধা পাচ্ছে মাঝে কোনো অঘটন না ঘটলে তা ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তীর্ণ হওয়ার পর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার জন্য ২০২৯ সালে বাংলাদেশকে ইইউর নতুন আইন অনুযায়ী জিএসপি প্লাস সুবিধার জন্য আবেদন করতে হবে। মানবাধিকার, শ্রম অধিকার, পরিবেশ ও সুশাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ২৭টি কনভেনশনের সঙ্গে ইইউ তাদের নতুন আইনে আরও ছয়টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন যুক্ত করেছে। নতুন নিয়মে ইইউর জিএসপি সুবিধা পাওয়ার জন্য আগের ২৭টি এবং নতুন ছয়টি মিলিয়ে মোট ৩৩টি ইস্যুতে বাংলাদেশকে আগামী নয় বছরে সন্তোষজনক অগ্রগতি করতে হবে। যার মধ্যে বাংলাদেশ আগের ২৭টির মধ্যে ২৬টি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। নতুন ছয়টি ইস্যু হচ্ছে, ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুবিধা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন, সশস্ত্র কাজে শিশুদের ব্যবহার না করা সংক্রান্ত শিশু সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ৮১ ও ১৪৪ নম্বর কনভেনশনের বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত জাতিসংঘের কনভেনশন বাস্তবায়ন।
ইইউর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জসেপ বরেল (Josep borrell) জানান, ইইউ সবসময়েই মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। জিএসপি সুবিধা পেতে ইইউ যে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে তা বিশ্বে টেকসই সমতার সমাজ গড়তে আরও উৎসাহ জোগাবে, যা আমরা এরই মধ্যে আমাদের অংশীদারদের জানিয়েছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে জানান, ইউরোপের বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শ্রম অধিকার, কারখানার নিরাপত্তা, শিশু শ্রম ও সুশাসন বিষয়ে ইইউর অসন্তোষ রয়েছে। তবে জিএসপি প্লাস সুবিধা যাতে পাওয়া যায় সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এসব অসন্তোষের সন্তোষজনক অগ্রগতি করার চেষ্টা চলছে। 

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আরও জানান, ইইউর চাহিদা অনুযায়ী এসব খাতের অগ্রগতি নিশ্চিতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জিএসপি প্লাসের শর্ত পূরণে শিশু সুরক্ষা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মিনিমাম এজ কনভেনশন, ১৯৭৩-এর সি ১৩৮ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘জিএসপি প্লাসের সুবিধা আছে অনেক, আবার এটা পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্তও আছে অনেক। ইউরোপের বাজারে আমরা এখন যে সুবিধা পাচ্ছি, সব ঠিক থাকলে তা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে ২০২৬ সালে বের হওয়ার পরও ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর তাদের বাজারে সুবিধা পাওয়ার জন্য ইবিএ প্লাসের জন্য আবেদন করতে হবে। ইবিএ প্লাস পেতে গেলে আগের যে ২৭টি শর্ত আছে তার সঙ্গে আরও ৫টি শর্ত যোগ হবে, যা শ্রম অধিকার, শিশু শ্রম, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার ইত্যাদি সংক্রান্ত। এই সবগুলোই মানবাধিকারের সঙ্গে যুক্ত।’

সাবেক এই সচিব বলেন, ‘আগের ২৭টির মধ্যে ২৬টি বিষয়ে আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছি কিন্তু পালন করছি না, এটা তারাও জানে। আমাদের কাছে ইইউর দাবি হলো, আমরা যা কিছু অ্যাগ্রি করেছি এবং যা কিছু করতে হবে, আগের একটা এবং নতুন ৫টা, এগুলো যেন আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করি। এগুলো যদি আমরা বাস্তবায়ন না করি তবে জিএসপি প্লাস ইইউ যেকোনো সময় বন্ধ করে দিতে পারে।’

সামনের সময়গুলোতে ইইউকে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখানোর পরিবেশ দেখা যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ইইউ যেসব বিষয় আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় সেগুলো এমন সব বিষয় যা আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই পালন করা উচিত। কিন্তু আমরা সেগুলো ঠিকমতো করছি না। তাই অনিশ্চয়তা সবসময়ই আছে। কারণ সরকার কতটা সংবেদনশীল হবে, কখন কী পরিস্থিতি হয় তার ওপর নির্ভর করবে এবং সরকার কীভাবে দেখে তার ওপর নির্ভর করবে।’

বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি পণ্য রফতানি করে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৪৬৪ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ।


আরও সংবাদ   বিষয়:  জিএসপি প্লাস   বাংলাদেশ  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]