ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বজ্রপাতে মৃতদেহের হাড়ে অলৌকিক ক্ষমতা, ভুল সবই ভুল
হিরা তালুকদার
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১০:২৪ এএম আপডেট: ২৫.১০.২০২১ ১১:২৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 187

প্রচার আছে, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির লাশ ম্যাগনেট (চুম্বক) হয়ে যায় বলে তা অনেক দামি। এমন মৃতদেহের হাড় প্রেত সাধনার কাজে কার্যকরী এবং এটা দিয়ে অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব বলেও কথা প্রচলিত আছে। এ কারণে এমন লাশ প্রায়ই কবর থেকে চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির দেহ সত্যিই কি ম্যাগনেট হয়ে যায়? তাদের হাড় বিশেষ কোনো কাজে লাগে? নাকি পুরোটাই গুজব? বিশেষজ্ঞরা কি বলেন?

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাক্তার সোহেল মাহমুদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির দেহ কোনো বিশেষ কাজে লাগে না। এ ধরনের মৃতদেহ ম্যাগনেট হয়ে যায় বা এই শরীরের হাড় বিশেষ কোনো কাজে লাগে বলে কিছু মানুষের মধ্যে যে ধারণা আছে তা একেবারেই ভ্রান্ত।’

ডাক্তার সোহেল বলেন, ‘বজ্রপাতে মৃতের দেহ অনেক দামি বলে কিছু মানুষ মনে করেন। এটা একেবারেই গুজব। একজন মানুষ সাধারণ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলে তার দেহ যেমন কোনো কাজে লাগে না, তেমনই বজ্রপাতে মৃতদের দেহও কোনো কাজে লাগে না। কারণ বজ্রপাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মানুষ মারা যায়। মৃত্যুর পরে তাদের দেহ অন্যসব মৃতদেহের মতোই হয়ে যায়। এটা দিয়ে বিশেষ কোনো কাজ হয় না।’ 

তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন, বজ্রপাতে নিহত মানুষের শরীরে মূল্যবান জিনিস তৈরি হয়। তারা হয়তো ধারণা করে, লোহার ভেতর দিয়ে ইলেকট্রিসিটি পাস হলে (প্রবাহিত হলে) যেভাবে লোহা চুম্বক হয়ে যায় এ ক্ষেত্রেও সেরকম কোনো কিছু হয়। কিন্তু এটা পুরোটাই অন্ধবিশ্বাস। এসব কারণেই অনেক সময় মানুষ মৃতদেহ চুরির চেষ্টা করে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তেলিখাড়ি ঘাটে গত আগস্টে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে মারা যান ১৭ জন। মৃতদেহ চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে ওই ঘটনায় নিহতদের লাশ বাড়ির সীমানার মধ্যে ও কারও বাড়ির উঠানের মধ্যে কবর দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু লাশ চুরি ঠেকাতে কবরগুলোর ওপর সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। ওইদিনের বজ্রপাতে মৃত সজীবের কবরের ওপর ঢালাই দেওয়ার বিষয়ে তার বাবা সদর উপজেলার সূর্যনারায়ণপুর জনতারহাট গ্রামের দুরুল হোদা (৪২) সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘বজ্রপাতে মারা যাওয়া লাশ চুরির বিষয়ে এলাকায় প্রচার আছে। এ ছাড়া আমি এ ধরনের চুরির ঘটনার সাক্ষী। আমি নিজে একজন রাজমিস্ত্রি। ঢাকার আশুলিয়ার সাধুপাড়ায় একটি কবরস্থানের সীমানা নির্মাণের কাজ করছিলাম চার বছর আগে। ওই সময় চারটি নতুন কবর থেকে লাশ চুরি হয়ে যায়। এর মধ্যে দুটি ছিল বজ্রপাতে নিহত দুজনের লাশ। এর মধ্যে কোন দুটি বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির লাশ, তা সুনির্দিষ্ট করতে না পেরে চোরেরা চারটি লাশই চুরি করে নিয়ে যায়। আমি শুনেছি, এসব লাশের হাড় নাকি কাজে লাগে এবং অনেক দামে বিক্রি হয়। তবে কী কাজে লাগে, জানি না। এ জন্য আমি নিজের ছেলের লাশ ঘরের পেছনে বাড়ির সীমানার মধ্যেই দিয়েছি এবং কবরের ওপরে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘিরে দিয়েছি। একই ঘটনায় নিহত আমার দুই ভাই শরিফুল ইসলাম ও মো. আলমের কবর বাড়ির সীমানার মধ্যে দিয়ে একই ব্যবস্থা করেছি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, ‘বজ্রপাতে নিহত মানুষের হাড় কাজে লাগে, এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাক্তার মাকসুদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘বজ্রাঘাতে মৃত মানুষের লাশ চুরির পেছনে রয়েছে আমাদের যথাযথ জ্ঞানের অভাব এবং সেই সঙ্গে কিছু কূপমণ্ডূকতা ও কুসংস্কার। বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির শরীর প্রাকৃতিক চুম্বকে পরিণত হয় বলে এখনও গ্রামাঞ্চলে অনেকের ধারণা। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির শরীরের বিশেষ বিশেষ হাড় প্রেত সাধনার কাজে কার্যকরী এবং এটা দিয়ে অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে মৃত মানুষের চেয়ে বজ্রপাতে মৃত মানুষের হাড় অনেক বেশি কার্যকর বলেও কথিত রয়েছে। বজ্রাঘাতে মৃত ব্যক্তির শরীরে বা যেখানে বজ্রপাত হয় তার আশপাশে মূল্যবান খনিজ টুকরা পাওয়া যায়, যা তথাকথিত ঝাড়ফুঁকে ভালো কাজ দেয় বলে যে অনেকের ধারণা- সেটিও শতভাগ ভিত্তিহীন। আমাদের উচিত কুসংস্কার পরিহার করে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষকে বোঝানো যে, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির লাশে আলাদা কোনো বিশেষত্ব নেই যে কারণে এই লাশ চুরি করে কঙ্কাল বা মাথার খুলি বের করে নিতে হবে।


আরও সংবাদ   বিষয়:  বজ্রপাতে মরদেহ   অলৌকিক ক্ষমতা  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]