ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার রোববার ৫ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

প্রিপেইড মিটার: ভাড়া কতদিন দিতে হবে জানে না কেউ
রফিক রাফি
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১০:৫৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 325

বিদ্যুতের চুরি রোধ ও অপচয় কমাতে সারা দেশে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার লাগানো হচ্ছে। এই মিটারের ভাড়া আদায় এবং বাড়তি বিল নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ রয়েছে। তবে জ্বালানি বিভাগ বলছে, বাড়তি বিলের কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু গ্রাহক নিজে মিটার কেনার টাকা দিচ্ছেন না, বিতরণ কোম্পানি কিনে লাগিয়ে দিচ্ছে- সেজন্য প্রতিমাসে মিটার ক্রয় বাবদ সিঙ্গেল ফেসের জন্য কিস্তিতে ৪০ এবং থ্রি ফেসের জন্য ২৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে এই ভাড়া কত বছর নেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না কেউ।

পাওয়ার সেল জানায়, প্রতিমাসে কার্ড রিচার্জ করলে যে টাকা কেটে রাখা হয় তা হচ্ছে, গ্রাহকের ডিম্যান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ভ্যাট। প্রতি মাসে একবার এই টাকা কাটা হয়। শুধু মিটার ভাড়া ছাড়া ডিম্যান্ড চার্জ এবং ভ্যাট পোস্টপেইড গ্রাহক আগে থেকেই দিয়ে আসছে। সারা দেশে ৪০ থেকে ৫০ লাখ মিটার লাগানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, সরকারের পলিসি হচ্ছে, যতদিন গ্রাহককে আমাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে মিটার দেওয়া হবে, মেরামত ও সংরক্ষণ করবে ততদিন সিঙ্গেল ফেসের জন্য ৪০ এবং থ্রি ফেসের জন্য ২৫০ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। অদূর ভবিষ্যতে খোলাবাজারে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার কিনতে পাওয়া যাবে। তখন গ্রাহক নিজে বাজার থেকে কিনে লাগালে তাকে আর ভাড়া দিতে হবে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির মিটার কেনার কারণে দাম ভিন্ন হয়। আগে একটি মিটার কিনতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা লেগেছে। এখন ৫ হাজার টাকার মতো পড়ছে। তবে দাম ক্রমেই কমে আসছে।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিকাশ দেওয়ান সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের এ পর্যন্ত মিটার লাগানো হয়েছে সাড়ে ৫ লাখ। আরও কয়েকটি প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ইনভেস্টমেন্টটা উঠে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রাহককে ভাড়া দিতে হবে। মিটারগুলো একেক সময়ে একেক দামে কেনা হয়েছে। সাত বছর একজন গ্রাহককে ভাড়া দিতে হবে। শুধু মিটার ক্রয়মূল্যের ওপর খরচ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের করা ডিজাইন অনুযায়ী মিটারের লাইফটাইম ধরা হয়েছে ১২ বছর। এর আগেই গ্রাহকের মূল্য পরিশোধ হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ডিপিডিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আজিমপুরে প্রথমে প্রিপেইড মিটার লাগানো শুরু হয়। ২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৫ লাখ ৭৩ হাজার মিটার লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গেল ফেস ৫ লাখ ২০ হাজার এবং থ্রি ফেস ৫২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৪টি প্রকল্প চলমান আছে।

ওয়ারীর বাসিন্দা সোহাগ বলেন, আগে এনালগ মিটারে বিল আসত ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। এখন প্রিপেইড মিটার লাগানোর পর রিচার্জ করতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিমাসে মিটারের ভাড়া কেটে নেওয়া হচ্ছে। এটা কতদিন দিতে হবে?

প্রিপেইড মিটারের ভাড়া প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন সময়ের আলোকে বলেন, প্রিপেইড মিটারের ভাড়া নিয়ে আমরা চিন্তা করছি। ২০১৬ সালে যখন প্রথম প্রিপেইড মিটার কিনেছিলোম তখন ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা করে পড়েছিল। আমরা মান্থলি ইনস্টলমেন্ট করেছি ৪০ টাকা। লাইফটাইম ধরা হয়েছে ১০ বছর। এ সময়ের মধ্যে মিটার বদলাতে হলে বদলে দেব। ঠিক করতে হলে ঠিক করে দেব। তিনি বলেন, এর বিকল্পও আমরা চিন্তা করছি। খোলাবাজার থেকে গ্রাহক পছন্দমতো মিটার কিনে জমা দেবে, আমরা পরীক্ষা করে তা স্থাপন করব। এজন্য মিটার তত্ত্বাবধান প্রক্রিয়াটা তৈরি করতে হবে আগে। এখনও তা হয়নি। সেগুলো হলে এ পদ্ধতিতে যাব। এটা করতে ২ থেকে ৩ বছর লাগবে। আমাদের এ পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি গ্রাহক রয়েছে। তার মধ্যে এখন ৪০ লাখের অধিক গ্রাহকের প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়েছে। অন্তত ৩ কোটি গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। প্রিপেইড মিটারে খরচ বেশি, গ্রাহকের এমন অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, অভিযোগ থাকতেই পারে, এনালগ মিটারে ম্যানিপুলেট করার সুযোগ থাকে, সেটা গ্রাহক নিজেও করতে পারে, বিদ্যুতের লোকও করতে পারে, তৃতীয় কোনো লোকও করতে পারে। চালক গ্রাহক মিটার ডাইভার্ট করে অন্যের ওপর চাপিয়ে নিজের বিল কমাত। কিন্তু এখন সে সুযোগ নেই। অতিরিক্ত বিল আসার কোনো কারণ নেই। অভিযোগ তারাই করত যারা ম্যানিপুলেশন করে বিল কম দিত। এখন সে সুযোগ নেই। যারা ম্যানিপুলেটের সঙ্গে জড়িত তারা এগুলো বাজারে ছড়াচ্ছে, যাতে কর্মসূচি বানচাল হয়ে যায়। তারা আবার ধান্ধা করতে পারে।

ডিপিডিসির ৫ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রজেক্ট ডিরেক্টর আব্দুল মতিন সময়ের আলোকে জানান, বিভিন্ন প্রজেক্টে নানা দামে মিটার কেনা হয়। এখন সিঙ্গেল ফেস মিটারের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫০০ থেকে ৩ হাজার এবং থ্রি ফেস মিটারের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পড়বে। এখনও কোনো মিটারের বয়সই ৬ বছর হয়নি। এগুলো মিটারের লাইফ ধরা হয়েছে ৭ থেকে ৮ বছর। এরপর চেঞ্জ করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোম্পানি চাইলে টাকা নিতে পারে, নাও নিতে পারে। এগুলো মেরামত করতে যে টাকা খরচ হয়, তার চেয়ে নতুন লাগানোই ভালো।

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মো. গিয়াসউদ্দিন জোয়ার্দার সময়ের আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে মিটারের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। মোটামুটি বিনিয়োগ যখন উঠে যাবে তখন মাসিক টাকা নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। ৮ থেকে ১০ বছর লাগবে। 
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা ঢাকাসহ সারা দেশে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে। সেগুলো হলো- ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি-ডেসকো, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি-ডিপিডিসি, পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ড-আরইবি, পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড-পিডিবি, পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি-ওজোপাডিকো ও নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি-নেসকো।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]