ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

তিন গম্বুজবিশিষ্ট কেরামত আলী জামে মসজিদ
মুস্তাকিম আল মুনতাজ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১, ৩:৫৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 338

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর তালিকায় যেসব মসজিদের নাম আজও স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে, তার মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন কেরামত নগরে অবস্থিত- ষাটের দশকে মুঘল স্থাপত্যের অনুকরণে নির্মিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মো. কেরামত আলী জামে মসজিদ অন্যতম একটি মসজিদ। যা আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কেরামতনগরে। মুঘল স্থাপত্যের অনুকরণে নির্মিত আকর্ষণীয় ও ব্যয়বহুল নির্মাণশৈলী মসজিদটির মধ্যখানে একটি বড় গম্বুজ ও দুপাশে অপেক্ষাকৃত দুটি ছোট গম্বুজ এবং চারপাশের চার কোণায় চারটি লম্বা আকৃতির সুউচ্চ মিনার রয়েছে। বিরাটাকার এই গম্বুজগুলো একদিকে যেমন সবাইকে আশ্চর্যান্বিত করে, তেমনি খুব সহজেই একজন দর্শনার্থীকেও আকর্ষণ করে।

মূল্যবান ইরানি পাথর দ্বারা নির্মিত মসজিদের গম্বুজের কারুকাজ কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেলেও অত্যাধুনিক মোজাইক ও মার্বেল পাথর দ্বারা নির্মিত মসজিদের ভেতর ও বাইরের বেশিরভাগ কারুকাজ, নকশা এখনও বিদ্যমান। মসজিদ সংলগ্ন ইমাম-মোয়াজ্জিনদের থাকার জন্য মনোরম কোয়ার্টার, বড় একটি পুকুরঘাট ও অজুখানা বিদ্যমান রয়েছে। মসজিদের চারপাশে সবুজ গাছগাছালি এবং বিভিন্ন রকমের ফলফলাদির গাছপালায় ভরপুর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এমন পরিবেশের মসজিদ খুব সহজেই দর্শনার্থীদের হৃদয়ে স্থান করে নেয়।

জানা যায়, ১৯৬৭ সালের ১২ ডিসেম্বর মো. কেরামত আলী জামে মসজিদটি নির্মাণ করেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও দানশীল ব্যক্তিত্ব আলহাজ মো. কেরামত আলী। পরবর্তী সময়ে তার নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হয়। এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। সপ্তাহের শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায় করতে দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসেন এখানে। আবার অনেকে ঐতিহাসিক ও সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থাপনা হওয়ায় মসজিদটির শোভা-সৌন্দর্য উপভোগ করতেও মাঝেমধ্যে এখানে এসে হাজির হন।

মুঘল স্থাপত্যের আদলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটি যদি সরকারি তত্ত্বাবধানে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঐতিহাসিক স্থাপত্য হিসেবে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে অনন্তকাল। উল্লেখ্য, অবিভক্ত পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান এই মসজিদে নামাজ পড়তে এসে এর স্থাপত্য ও নির্মাণশৈলী দেখে এতটাই মুগ্ধ হন যে, ঢাকার এক অভিজাত এলাকায় এই ধরনের একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। 

লেখক: আলেম ও প্রাবন্ধিক




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com