ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল হলেও রাজপথ ছাড়বেন না ভারতের কৃষকরা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১, ১:০৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 96

কৃষকদের ধারাবাহিক অহিংস আন্দোলনের মুখে অবশেষে ভারতে বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কৃষকরা। তবে তারা সাফ জানিয়েছেন, সাংবিধানিকভাবে এই আইন সংস্কার না হওয়ার পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। রাজনীতিবিদরা বলছেন, এই ঘোষণা আসলে কৃষকদের সংগ্রামের অর্জন। তবে তারা এও মনে করছেন যে, নির্বাচনে হারের শঙ্কা থেকে কৃষি আইন সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে মোদি সরকার।

শুক্রবার শিখদের এক ধর্মীয় উৎসবে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আজ আমি আপনাদের বলতে চাই, পুরো দেশকে বলতে চাই যে, আমরা তিনটি কৃষি আইন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলতি মাসের শেষ দিকেই সংসদীয় অধিবেশন শুরু হবে। আমরা তখনই এই আইন বাতিলের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করব।’ গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিতর্কিত কৃষি বিল পাস করে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি ধ্বনি ভোটে পাস করানো হয়। তার পর থেকেই ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক দুই রাজ্য পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

ওই আইন অনুযায়ী করপোরেট চাষ ও কৃষকদের কাছ থেকে যত খুশি ফসল কেনার অনমুতি দেওয়া হয়। 

করপোরেশনগুলো কৃষকদের আগাম টাকা দিয়ে কী চাষ করতে হবে সেটাও বলে দিতে পারবে। এই ছয় রাজ্যের কৃষকদের ধারণা, এর ফলে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে। তারা শেষ পর্যন্ত করপোরেশনের দাসে পরিণত হবেন। সুবিধা হবে বড় সংস্থাগুলোর। কয়েক বছরের মধ্যে কৃষিতে তাদের মনোপলি প্রতিষ্ঠা হবে। আইন বাতিলের ঘোষণা দিতে গিয়ে মোদি দাবি করেছেন, ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির ১৫ শতাংশই কৃষি খাতের। সংস্কারে এই খাতের উন্নয়ন হবে ও কৃষকরা লাভবান হবেন। ক্ষুদ্র কৃষকদের মতায়নই ছিল এই আইনের মূল লক্ষ্য। তবে সরকার কৃষকদের বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। 

মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কৃষকরা বলছেন, এটি আন্দোলনরত কৃষকদের অর্জন। কৃষক নেতা দর্শন পাল বলেন, ‘এটা কৃষকদের ঐক্যের কারণে হয়েছে, তাদের চলমান সংগ্রামের কারণে হয়েছে। আমি তাদের অভিনন্দন জানাতে চাই। তাদের সংগ্রামের জয় হয়েছে।’ বিজেপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এক বছরের সংগ্রামের পর, ৭০০ জন শহিদ হওয়ার পর, বিজেপি সরকারের নিপীড়নের পর কৃষকরা আজ জয়ী হলো।’

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের রাকেশ তিকাইত বলেন, ‘এখনই আন্দোলন থামানো হবে না। সংসদে কৃষি আইন বাতিল হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব। সরকারের অন্যান্য বিষয় নিয়েও কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন আন্দোলনের মুখে মোদি সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের নজির খুব একটা নেই। রাহুল গান্ধী এক টুইটে কৃষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অবিচারের বিরুদ্ধে এই জয়ের জন্য সবাইকে অভিনন্দন। ভারতের জয় হোক, ভারতের কৃষকদের জয় হোক।’

টুইট বার্তায় রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘দেশের কৃষকরা সত্যাগ্রহ দিয়ে দাম্ভিকতাকে হারিয়ে দিয়েছে। জয় হিন্দ, জয় হিন্দের কৃষক।’ একই সঙ্গে রাহুল গান্ধী এই বছরের জানুয়ারিতে নিজের করা আরেকটি টুইট বার্তা শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার কথা স্মরণ রাখুন, সরকার কৃষকবিরোধী আইন প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হবে।’

গত বছর নভেম্বরে কৃষকরা দিল্লিতে অবস্থান নেন। করোনভাইরাস মহামারি পরিস্থিতি ও তীব্র শীতেও তারা আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। কৃষকদের আন্দোলন বেশিরভাগ সময় শান্তিপূর্ণ হলেও চলতি বছর জানুয়ারিতে ঐতিহাসিক লাল দুর্গতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েন কৃষকরা। সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান। আহত হন শত শত কৃষক। এরপর গত মাসেই উত্তর প্রদেশে এক কৃষক বিক্ষোভে আটজন নিহত হন। লক্ষ্মীপুরের খেরি জেলায় একজন মন্ত্রীর ছেলের গাড়িচাপায় প্রাণ হারায় আরও চার কৃষক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয় ক্ষুব্ধ কৃষকরা। এই সহিংসতায় প্রাণ হারায় আরও চারজন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিক্ষোভরত কৃষকদের উপস্থিতি কম থাকলেও আন্দোলন জোরালোই ছিল। চলতি মাসের শেষ দিকে বিক্ষোভের এক বছর পূর্তিতে বড় কর্মসূচির কথা রয়েছে। 

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনে হারের শঙ্কা কিংবা সুমতি, যাই হোক বিজেপি সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের জয়ের শুরু মাত্র।’

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, শুধুমাত্র নির্বাচনের কারণেই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন মোদি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তাকে দেখে আমার নিহত কৃষক দলজিত সিংয়ের পরিবারের কথা মনে পড়েছে। আমি ভাবছি তারা এখন কী চিন্তা করছে। মোদি সরকারের এক মন্ত্রীপুত্র তাকে হত্যা করেছে। মোদি তাদের সঙ্গে দেখা করেননি। সেই মন্ত্রী এখনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে থাকেন। আর আজ প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা চাইছেন? নির্বাচন চলে এসেছে। জরিপে বিজেপি পিছিয়ে আছে। আর এজন্য তারা এসব কাজ করছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্দেশ্য কে বিশ্বাস করে? পুরো দেশের কাছে সবকিছু পরিষ্কার। সরকার যদি সত্যি বিষয়টাতে গুরুত্ব দিত। তবে লক্ষ্মীপুরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতো। 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের বড় পরীক্ষা উত্তর প্রদেশের এই নির্বাচন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই নির্বাচন চলবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, বিজেপির অভ্যন্তরীণ জরিপের ফলে পিছিয়ে আছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা। দলের আশঙ্কা, কৃষকদের এই বিক্ষোভ তাদের নির্বাচন জয়ে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]