ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

হাওর উন্নয়নে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
এম আর মাসফি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১, ১১:৩৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 236

হাওরঘেরা সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলা। পাশাপাশি জেলা হলেও তাদের মধ্যে নেই সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এমন বোধ হয় দেশের আর কোথাও নেই। শুধু তা-ই নয়, বর্ষায় হাওর যখন প্রাণ পায়, তখন সুনামগঞ্জের এক উপজেলার সঙ্গে আরেক উপজেলাও হয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন। সড়ক না থাকায় প্রসূতিসহ নানা রোগ-ব্যাধিতে মেলে না মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা। শিক্ষা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয় সড়কের অভাবে। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠবে। অনুমোদন পেলে নভেম্বর ২০২১ থেকে জুন ২০২৫ মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। এতে সুনামগঞ্জে বর্ষার সময়ও জেলার প্রতিটি উপজেলার সঙ্গে যেমন সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে, তেমনি নেত্রকোনার সঙ্গেও সুনামগঞ্জের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, হাওর অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা মূলত গ্রামীণ ডুবন্ত সড়ক, যা কেবল শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা যায়। বর্ষা মৌসুমে নৌপরিবহনই এখানকার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। এরূপ অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও পরিবহন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, সামাজিক সুবিধাদির প্রাপ্যতা, বিশেষত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রভৃতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল, নবীনগর ও নাসিরনগর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত রাস্তাসহ ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর একটি সমীক্ষা প্রকল্প অনুমোদিত হয়। সে মোতাবেক হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ঠিক রেখে টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফি ইনফরমেশন সার্ভিস (সিইজিআইএস) এক বছরব্যাপী সমীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় (বারহাট্টা, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভপুর উপজেলা) যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য জামালগঞ্জ উপজেলা থেকে ধর্মপাশা উপজেলা ভায়া সাচনা বাজার-সুখাইর-জয়শ্রী বাজার পর্যন্ত সড়ক এবং অন্যান্য রাস্তার সংস্থান রেখে অবশিষ্ট কাজ বাদ দিতে হবে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় হাওর এলাকায় ১৭০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অল সিজন সড়ক (বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা সড়ক, যা সব মৌসুমে ব্যবহার করা যাবে) ৯৭ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়ন ২০ দশমিক ২৭ কিলোমিটার। সাবমারজিবল সড়ক (বর্ষায় তলিয়ে যাবে) ৩৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার এবং উড়াল সড়ক (যার নিচ দিয়ে পানি চলাচল করতে পারবে) ১০ দশমিক ৮১ কিলোমিটার। এ ছাড়া ৫৭টি ব্রিজ ও ১১৮টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঁধ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করলে হাওরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অল সিজন ও সাবমারজিবল সড়ক নির্মাণ করলে হাওরের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। হাওরের ইকো-সিস্টেম বাধাগ্রস্ত হবে। এ রকম জলাশয় পৃথিবীতে বিরল। তাই পানিপ্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য উড়াল সড়ক করতে হবে হাওরে। ব্যয়বহুল হলেও উড়াল সড়কই হাওরের জন্য উপযুক্ত।

হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক জিএম তারিকুল ইসলাম বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক সচ্ছল এখন। হাওরে উড়াল সড়ক করলে সেখানে একটু খরচ বেশি হবে। তবে উড়াল সড়কে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম। তিনি বলেন, এখন যে সড়ক হচ্ছে, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর পর যখন অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হবে তখন দেখা যাবে, সড়কগুলো ভেঙে উড়াল সড়কের দিকে যাবে সরকার। তাই উড়াল সড়ক করার পক্ষে মত দেন তিনি।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মতিউর রহমান বলেন, এ এলাকায় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সারাবছর মালামাল পরিবহন, উৎপাদিত কৃষিপণ্য, মৎস্য সম্পদ ইত্যাদি দ্রুত ও সুলভে পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে। প্রকল্পটি গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে অবদান রাখবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]