ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৫ জুলাই ২০২২ ২১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৫ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

সামুদ্রিক নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১, ১১:৫৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 251

বাংলাদেশ অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কোনো দেশের একক আধিপত্য দেখতে চায় না। তবে ঢাকার এ নীতিতে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সব সদস্য একমতে পৌঁছতে পারেনি। আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ আইওআরএ নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছে। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা বলছেন, ভারত মহাসাগর অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশকে উদ্যোগ নিয়ে নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশ আইওআরএর নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে কৌশলগত পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর খুবই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্লাটফর্ম। চলমান পরিস্থিতির কারণে এই সংস্থার গুরুত্ব আগের থেকে অনেক বেশি বেড়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত আইওআরএর বিভিন্ন বিষয়ে কাজের খুব বড় কোনো অবদান দেখা যায়নি। তবে সরকারি পর্যায়ে আইওআরএ-ই হচ্ছে একমাত্র সংস্থা, যা ভারত মহাসাগর সামুদ্রিক অঞ্চলে কাজ করছে। আর বাংলাদেশ এই সংস্থাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দায়িত্ব পাওয়ায় তা কাজে লাগাতে চায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে যে এই সামুদ্রিক অঞ্চলে এখন বড় বড় শক্তির দেশগুলোর বিভিন্ন ধরনের স্বার্থ জড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। যার কারণে বিভিন্ন দেশ তাদের বিভিন্ন রকম নীতি অবলম্বন করে তাদের স্বার্থ ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সবসময় সুখকর নাও হতে পারে। আইওআরএ এই অঞ্চলে এক ধরনের স্থিতিশীল অবকাঠামো তৈরির জন্য পদক্ষেপ নেবে।

বাংলাদেশ আইওআরএর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নতুন কিছু প্রস্তাব নিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারে। কেননা এখন পর্যন্ত এই সংস্থায় নতুন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই বাংলাদেশ এখন উদ্যোগী হতে পারে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা (মেরিটাইম সিকিউরিটি আর্কিটেকচার) নিয়ে বাংলাদেশ কাজ করতে পারে। তা না হলে বড় বড় দেশ তাদের স্বার্থ বজায় রাখতে এখানে কাজ করবে, যা পরবর্তী সময়ে এখানকার শান্তিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। আবার এমনও পারে যে বড় বড় দেশগুলোর স্বার্থের কাছে এই অঞ্চলের ছোট ছোট দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ জন্য আইওআরএর আওতায় এই অঞ্চলের জন্য একটি নিরাপত্তা অবকাঠামো অথবা নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কোনো দেশের একক আধিপত্য দেখতে চায় না বাংলাদেশ। ঢাকার এ নীতি তোলা হয় সদ্য সমাপ্ত আইওআরএর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে। তবে এই নীতিতে সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশকে সমর্থন করার বিষয়ে একমতে পৌঁছতে পারেনি। একমত না হওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে যে আইওআরএর এখনও স্বচ্ছ নীতিমালা নেই। দৃশ্যমান, স্বচ্ছ ও কৌশলগত নীতি আইওআরএ-তে এখনও কেউ সামনে আনতে পারেনি। এসব জায়গাতেই বাংলাদেশকে উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ এসেছে, যা কাজে লাগাতে চায় ঢাকা।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আইওআরএ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কিছু হয়নি। আইওআরএর অনেক সদস্য আছে, একেক জনের একেক মতাদর্শ রয়েছে। এককভাবে যতটা সহজ এতগুলো সদস্যকে একসঙ্গে করা কঠিন হবে। যেহেতু আমরা দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছি, হাতে সময় রয়েছে এটা নিয়ে আলোচনা করার। আগামী জুলাইতে এটা নিয়ে আলোচনা হবে। আইওআরএ সে সময় বা আগামীতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারবে। আমাদের দিক থেকে কাজ চলছে। ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুতে কিছু কিছু দেশ তাদের ইনিশিয়েটিভ নিয়েছে, যেমনÑ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র আছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল চাই। আমরা এখানে কোনো দেশের একক আধিপত্য চাই না। অনেক দেশ একমত হয়েছে।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভারত মহাসাগর খুবই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সামুদ্রিক অঞ্চল। সে কারণেই খুব বড় বড় শক্তির জাতীয় স্বার্থ এবং কৌশলগত স্বার্থ এখানে দ্রুত জড়িয়ে পড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত এই সামুদ্রিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, কৌশলগত নীতিমালা বা অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এখানেই বাংলাদেশ কিছু নতুন ধ্যান-ধারণা দিতে পারে এবং নতুন উদ্যোগ নিতে পারে। যাতে এই ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন বা অবকাঠামো গড়ে উঠতে পারে।’




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]