ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১ ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

ওরা ভয়ঙ্কর ‘কিং’
অভিভাবক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন জরুরি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ৮:৫৫ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 51

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বাড়ছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি তো বটেই, প্রত্যন্ত গ্রামেও বেড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। তারা এখন খুন, ছিনতাই-চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানি  এবং মাদক ব্যবসার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মাধ্যমে হত্যা-নির্যাতনসহ একাধিক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ঘটনায় মামলা হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে বিষয়টি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশোর অপরাধীদের একটা বড় অংশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান জীবনযাপন করে। রেললাইন ও বস্তি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডর সঙ্গে তারা জড়িত। বিশেষ করে মাদক, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে তারা জড়িত। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ৫০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এর মধ্যে উত্তরায় ২২টি ও মিরপুরে ১০টি গ্যাং সক্রিয়। এ ছাড়া তেজগাঁও, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, মহাখালী, বংশাল, মুগদা, চকবাজার ও শ্যামপুরে একাধিক গ্যাং সক্রিয়। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিয়ন্ত্রক বা পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় সমাজের কিছু ‘বড়ভাই’ রয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কিশোর গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িতরা পর্যায়ক্রমে আলাদা গ্রæপ তৈরি করে। তাদের পোশাক, চুলের ধরন, আচার-আচরণ ভিন্ন। নানাভাবে তারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। এসব কিশোরকে একত্রিত করে কতিপয় ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত করছে। তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে। সহজ ও অল্প খরচে কিশোরদের দিয়ে তারা অপরাধ করানোর সুযোগ নিচ্ছে। অস্ত্রবাজি, মাদক ও হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তারা কিশোরদের ব্যবহার করে। এ ছাড়া কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কিশোর গ্যাং তৈরি করছে। এটি হলো কিশোর গ্যাং তৈরির একটি দিক।

আরেকটি দিক হলো- আমাদের দেশে শিশুদের লালনপালন করার ক্ষেত্রে পরিবারগুলো শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিষয়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। নি¤œবিত্ত পরিবারের সন্তানরা অপরাধে জড়ায় এমন একটি কথা সমাজে প্রচলিত আছে। এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এখন উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও অপরাধে জড়াচ্ছে। আর প্রশাসন বলছে, অভিভাবকদের অবহেলায় বিপথে যাচ্ছে কিশোররা। পুলিশ বিভাগের সেই চিরাচরিত হুঁশিয়ারি- ‘অপরাধ করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

আমরা মনে করি, পরিবার ও সমাজের মধ্যে দুর্নীতি, অপরাধ ও অপরাধের যে নানা উপাদান রয়েছে, কিশোররা তার বাইরে নয়। একদিকে পারিবারিক বন্ধন ভেঙে পড়ছে, অন্যদিকে এলাকায় নেই খেলার মাঠ, নেই সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পাওয়ার আকাক্সক্ষা ও অর্থলোভ। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আবার মাদক বিক্রেতা থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ পর্যন্ত অনেকেই নিজের সামান্য লাভের জন্য কিশোরদের অপরাধ জগতে টেনে নেয়। কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে তাদের মধ্যে গ্যাং কালচার গড়ে উঠছে। সব মিলিয়ে অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে কিশোর গ্যাংদের প্রতিরোধ করা কঠিন। এর লক্ষ্যে অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন।  তবেই গ্যাং কালচারের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]