ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ৬ ডিসেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বিরোধী কর্মসূচিকে চাপ মনে করছে না আওয়ামী লীগ
হাবীব রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ১২:১০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 92

সহিংসতা না করলে বিএনপির স্বাভাবিক কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকার কোনো বাধা দেবে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তাই কারও শান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচিতে সরকার এ মুহূর্তে বাধা দেবে না। ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি এড়িয়ে বিএনপির নিয়মতান্ত্রিক সভা-সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান বা অনশন কর্মসূচিতে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র সময়ের আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি চাইলেও তাদের এ চলমান কর্মসূচিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে চাপ মনে করছে না আওয়ামী লীগ রূপ দিতে পারবে না। খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা আছে, বিএনপির শরিক এবং তাদের পেশাজীবীরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতেই তারা রাজপথে নেমেছে। এর মধ্য দিয়েও তারা যে সঙ্কটে আছে, সেখান থেকে বের হতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপির চলমান কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারকে চাপ দিয়ে দাবি-দাওয়া আদায় করা। একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা এটা করতেই পারে। সরকার চাপ অনুভব করছে কি না- এমন প্রশ্নে ওই নেতা বলেন, সরকার যখন বুঝে ফেলে এটা চাপ তৈরির জন্য করা হচ্ছে, তখন আর চাপ নেবে কেন। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে খালেদা জিয়ার জন্য যতটুকু করা দরকার সরকার তা করছে।

বিএনপির চলমান আন্দোলনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ আন্দোলনে ভয় পায় না। বিএনপি একদফা অথবা ১০ দফা আন্দোলন করুক- তাতে আওয়ামী লীগের কিছু যায়-আসে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথের সংগঠন। আন্দোলন-সংগ্রাম করেই ক্ষমতায় এসেছে। অতীতেও দেশবাসী বিএনপির দফাভিত্তিক আন্দোলন দেখেছে, তাদের আন্দোলন রাজপথে নয়; তাদের আন্দোলন হচ্ছে ফেসবুক আর মিডিয়ানির্ভর। বিএনপি নেতাদের আন্দোলনের হুমকি-ধমকি নিজেদের পদ-পদবি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবিটি তার স্বাস্থ্যগত কারণে নয়। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি। তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করছেন। খালেদা জিয়াকে নিয়ে রাজনীতি করা অনভিপ্রেত। আসলে ওনারা হয়তো চান না খালেদা জিয়া সুস্থ হোক। কারণ সুস্থ হলে স্বাস্থ্য নিয়ে যে রাজনীতি, এটি বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বিএনপির এই পুরো দাবিটাই হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্য যে রাজনৈতিক দাবি, সরকার সে দাবি মানতে পারে না। কারণ তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। অবশ্যই খালেদা জিয়া যেন সুচিকিৎসা পান, সেটা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বিএনপির রাজপথে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমত তারা এ ধরনের দাবি বহুবার উপস্থাপন করেছেন। মাঝেমধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টাও তারা চালিয়েছেন। এবার যদি বিশৃঙ্খলা করার অপচেষ্টা হয়, জনগণ সেটি কঠোর হস্তে প্রতিহত করবে। সরকার জনগণের সঙ্গে থাকবে।

রাজপথে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করাসহ সব ধরনের চেষ্টা চালানোর কথা বলছেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রীও বক্তব্য দিয়েছেন যে, আইনে এই অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে ৭৬ বছর বয়স্ক খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্ত রয়েছেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এ ধরনের বক্তব্যের মুখে বিএনপি এখন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নেমেছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপি মূলত তাদের নেতাকর্মীদের ধরে রাখতেই খালেদা জিয়ার ইস্যুতে রাজপথে নেমেছে। আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে বর্তমান সরকার বেশ আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও এ বিষয়ে মানবতা দেখিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতাবলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারামুক্তি দিয়ে বাসায় থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]