ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

বিশ্বায়নের মন্দ প্রভাব থেকে বাঁচতে করণীয়
নাবিল মাহমুদ সুহাইলী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ৩:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 145

ইসলাম পরিবার ব্যবস্থার ব্যাপারে বরাবরই সচেতন। কিন্তু আধুনিকতার স্লোগানে নিত্যনতুন অসংখ্য দাবি-দাওয়ার বিষাক্ত বাণ তাকে জর্জরিত করে রাখছে। বলা হচ্ছে, যুগের চাহিদা! ‘যুগের চাহিদা’ শব্দটি আজ পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারকে শঙ্কার মুখে ঠেলে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ কারণে বাবা-মা সন্তানের ব্যাপারে নির্লিপ্ত হয়ে যাচ্ছেন। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে দূরে সরে পড়ছেন। প্রতিটি মা-বাবার দায়িত্ব ছিল এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা সৎ হবে। স্বীয় বিশ্বাস ও আদর্শকে আঁকড়ে থাকবে। নিজের ব্যক্তিত্ব, জাতিসত্তা, গৌরবময় ঐতিহ্য এবং যে ইসলামী সমাজব্যবস্থায় তাদের বেড়ে ওঠা তার রীতিনীতির ব্যাপারে রক্ষণশীল হবে। কিন্তু আজকের বাবা-মা কি আদৌ আপন দায়িত্বে সচেতন?

সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন
নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পতিত আজকের মুসলিম পরিবারগুলো। যার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার অসামান্য ভূমিকা রাখার সোনালি ধারাবাহিকতা। সেসব চ্যালেঞ্জ পরিবারগুলোর মাঝে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন। এর নেতিবাচক প্রভাব মুসলিম উম্মাহর মাঝে পড়ছেই; বিশেষভাবে আঘাত হানছে মুসলিম পরিবারগুলোয়।

সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন কী?
আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোর সার্বক্ষণিক কামনা হলো, মানুষের প্রাত্যহিক জীবনাচার, চালচলন; এমনকি ভেতরের অনুভূতিগুলোও যেন পশ্চিমা সভ্যতার ধাঁচে গড়ে ওঠে। অর্থাৎ পশ্চিমা দেশ ভিন্ন অন্য সবখানে; বিশেষত ইসলামী-বিশ্ব, আফ্রিকা ও এশিয়ায় বসবাসরত জনগোষ্ঠী আরও গভীরভাবে তাদের জাতিসত্তা এই বিশ্বায়নের মূল টার্গেট। এরই নাম সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন। সাংস্কৃতিক বিশ্বায়নের কাজ হলো এদের জাতিসত্তাকে দুর্বল করে দেওয়া। আধুনিকতার আগুন দিয়ে মোমের মতো গলিয়ে নিঃশেষ করে দেওয়া। যাতে তারা পশ্চিমার; বিশেষভাবে আমেরিকার উদারপন্থি মতবাদের সঙ্গে পুরোপুরি গা ভাসিয়ে দেয়। 

এই অর্থে বিশ্বায়নের সংজ্ঞা দাঁড়ায়- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে পুঁজি করে এবং সংস্কৃতি ও জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে অর্জিত ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে অন্যসব সংস্কৃতির ওপর পশ্চিমা সংস্কৃতির জবরদখল। এ ক্ষেত্রে তারা সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতারও পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে। 

পরিবারের ওপর বিশ্বায়নের প্রভাব
সাংস্কৃতিক এই নতুন ধারাটি মূলত ‘খাও-দাও, ফুর্তি করো’-এর সংস্কৃতিকেই প্রোমট করে। এর লক্ষ্য, নতুন একটা চিন্তার প্রসার ঘটানো। যেমন লিঙ্গ-বৈষম্য দূরীকরণ। স্বভাববিরুদ্ধ অবৈধ রিলেশনের স্বীকৃতি প্রদান। নতুন মূল্যবোধের ফেরিওয়ালাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সামাজিক সুস্থ মূল্যবোধের প্রথা দূরীকরণ। যার শেষ পরিণতি পরিবারের শক্ত ভিতটায় নিশ্চিত কুঠারাঘাত। অথচ পরিবার হলো মানবসন্তানের বেড়ে ওঠার কেন্দ্রবিন্দু। একটা মানবসমাজের ছায়াদার বৃক্ষের সর্বপ্রথম বীজ।

সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন থেকে বাঁচতে আমাদের করণীয়

১. নিজে সচেতন হওয়া : মুসলিম উম্মাহ আপন ঐতিহ্যের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। মহান প্রতিপালকের ওপর তাদের রয়েছে অগাধ বিশ্বাস। পৃথিবীর বুকে তাদের করণীয়ের ব্যাপারে তারা সচেতন। ফলে অন্য সব ক্ষেত্রের মতো এখানেও রয়েছে তাদের সঠিক বিকল্প ব্যবস্থাপনা। রয়েছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি বিশ্বাস এবং তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। কারণ ‘এটাই আল্লাহ তায়ালার প্রকৃতি; যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন’। যার মধ্যে আছে অন্যের কল্যাণ গ্রহণ করার যোগ্যতা এবং তাকে সাংস্কৃতিক বিশ্বায়নের মোকাবিলায় ইসলামী ছাঁচে ঢেলে সাজিয়ে উপস্থাপন করার অসাধারণ ক্ষমতা। সুতরাং আজকের এই চ্যালেঞ্জের মুখে সর্বাগ্রে প্রয়োজন প্রত্যেকে নিজের অনুভ‚তি জাগ্রত করা। দায়িত্ববোধ তীক্ষ্ণ করা।

২. পরিবার সচেতন হওয়া : তবে বিশ্বায়নের এই ভয়াল থাবার মুখে সর্বপ্রথম ভ‚মিকা রাখতে হবে পরিবারকে। পরিবার তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্ব পালনের প্রতি যত্নবান হবে। কারণ একটি পরিবার একটি জগৎ। এতে প্রবেশ করা মানে দ্বীনি ও সামাজিক বিশাল দায়িত্বভার কাঁধে নেওয়া এবং পারিবারিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সে দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি সচেষ্ট থাকা।

৩. সমাজ দায়িত্বশীল হওয়া : পরিবারের পর বড় ভ‚মিকা রাখবে সমাজ। পারিবারিক শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় একটা পরিবারের যতটুকু না ভূমিকা থাকে, তার চেয়ে বেশি থাকে সমাজের। কারণ, সমাজের রয়েছে নানাবিধ উপকরণ, মাধ্যম ও সামর্থ্য, যা পরিবারের নেই। যেমন শিক্ষাব্যবস্থা, তরুণ সমাজ, মিডিয়া ও সামাজিক বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান। 
এসবের সমন্বিত উদ্যোগে সমাজ কিছু দায়িত্ব কাঁধে নেবে। যেমন, বিবাহের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। বিবাহের প্রক্রিয়া সহজ করা। পরিবার সংশ্লিষ্ট শরিয়তের বিধিবিধানের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করা। পরিবার বিষয়ক মানসিক ও সামাজিক গবেষণার প্রতি ব্যাপক আকারে উদ্বুদ্ধ করা। বাবা-মায়ের সঙ্গে যুবক সন্তানদের নানা জটিলতা, শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও স্বামী-স্ত্রীর বিষয়গুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।

৪. শিক্ষাব্যবস্থার সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা : সামাজিক ব্যবস্থাপনা যখন এই পরিকল্পনার ইতিবাচক দিকগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকবে, শিক্ষাব্যবস্থা এর বাস্তবায়নে বিরাট ভ‚মিকা রাখতে সক্ষম হবে। কারণ সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি নিজের জ্ঞান, আদর্শ ও দক্ষতা বৃদ্ধির ভিত পোক্ত করতে আক্ষরিক অর্থেই জীবনের বিশাল সময় ব্যয় করে শিক্ষা খাতে। কারণ এই দক্ষতা ভবিষ্যতে তার ব্যক্তি উন্নয়নে এবং সমাজের শ্রোতের সঙ্গে চলতে বিরাট কাজে আসে। সুতরাং এটা একটা বিপুল সম্ভাবনাময় জায়গা। এ ছাড়াও শিক্ষার সঙ্গে জীবনের গতি-প্রকৃতির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই একটি পরিবার গঠনে শিক্ষার রয়েছে বিরাট ভূমিকা।

৫. মিডিয়ার অপব্যবহার রোধ করা : সমাজে শিক্ষাব্যবস্থার পরের স্থান দখল করে আছে মিডিয়া। দুঃখজনকভাবে মিডিয়া আজ পারিবারিক জীবনের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বিশ্বায়ন হলো সেই মিডিয়ার প্রলম্বিত কালো হাত। সুতরাং সুশৃঙ্খল পরিবার গঠনের জন্য মিডিয়ার বিষাক্ত ছোবল থেকে পরিবারকে মুক্ত রাখতে সচেতন উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।

৬. নিজস্ব সংস্কৃতিতে আত্মবিশ্বাসী হওয়া : ইসলামী সংস্কৃতি নিশ্চয়ই সব বিবেচনায় অন্যান্য সংস্কৃতি থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পূর্ণতায়, ব্যাপকতায়, অমরত্তে, স্পষ্টতায়, কোমলতায় ও স্থিতিশীলতায়। কারণ এর উৎস সপ্তাকাশের ঊর্ধ্বে অবস্থিত। অর্থাৎ এ সংস্কৃতি জাগতিক নয়, সরাসরি খোদাপ্রদত্ত। সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য নিজেদের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে থাকা। এর প্রতি আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাওয়া। সঙ্গে এও বলে রাখার প্রয়োজন বোধ করি, ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও ক্ষতিকর বিষয়গুলো এড়িয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতির উপকারী দিকগুলো আমাদের ধারণ করতে কোনো অসুবিধা নেই। বরং ক্ষেত্রবিশেষ তা গ্রহণ করে ইসলামের পক্ষে ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]