ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শীতবস্ত্র বিতরণ হোক আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায়
জাওয়াদ আহমাদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ৭:৫৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 46

দেখতে দেখতে শীত এসে পড়ল। শীতের মৌসুমে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেজায় বিপাকে পড়ে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র সংগ্রহে আর্থিক অসচ্ছলতা যার মূল কারণ। এ সময় সামর্থ্যবানদের অনেকেই নিজ নিজ সাধ্যানুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করে থাকেন; যা মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিচায়ক। তবে প্রশংসনীয় মহৎ এ কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় আমাদের থেকে এমন কিছু আচরণ বা কর্মপদ্ধতি প্রকাশ পায়, যা তার মূল আবেদনকে ক্ষুন্ন করে।

আমাদের সমাজে শীতবস্ত্র বিতরণ বলতে একটা রেওয়াজ চালু আছে কম্বল দেওয়া। শুধু কি কম্বলই শীতবস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত? অথচ স্বাভাবিক জীবনযাপনে কম্বল ছাড়াও আরও অনেক কিছুর ব্যাপক প্রয়োজন হয়। কম্বল দেওয়ার ক্ষেত্রেও অধিকাংশ সময় কোয়ালিটির বিবেচনা না করে কোয়ান্টিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে গ্রহীতারা কাঙ্খিক্ষত উপকার লাভ করতে পারে না। দেখা যায় একজন প্রতিবছর একটা-দুটো করে কম্বল পায়। কোনোরকম কষ্ট করে শীতকালটা শেষ করে। পরের বছর পুনরায় ওই একই কম্বলের জন্য লাইন ধরে। এভাবে চলতে থাকে বছরের পর বছর।

অনেক সময় কম্বলটাও দেওয়া হয় অপছন্দনীয় পন্থায়। পনেরো-বিশজন মিলে একজনের হাতে একটা কম্বল তৃলে দিতে ডজনখানেক ছবি তুলতে হয়। এ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার না করলে যেন সব আয়োজনই বৃথা। অথচ একবারও ভাবার ফুরসত হয় না, যিনি গ্রহণ করছেন এমন পদ্ধতিতে তার কতটা খারাপ লাগছে। একান্ত অপারগ না হলে তো সে এখানে আসত না। কখনও আবার লম্বা সময় লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে হাজারখানেক ছবি তুলে বলা হয় আজকের মতো এখানেই শেষ, আগামীকাল অমুক এলাকায় দেওয়া হবে। ভিড়ের ঠেলায় ও ধাক্কাধাক্কিতে আহত হওয়ার ঘটনাও কম ঘটে না। এসব পন্থায় মানুষকে সহযোগিতা করে সাময়িক কিছু বাহবা মিললেও বিন্দু পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায় না। কেননা আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা দানের কথা প্রচার করো না এবং দান নিতে আসা মানুষজনকে কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান ওই ব্যক্তির মতো ব্যর্থ করো না, যে নিজের ধনসম্পদ কেবল লোক দেখানোর জন্যই ব্যয় করে।’ (সুরা বাকারা : ২৬৪)

আমরা যদি আমাদের কর্মপদ্ধতিকে একটু পরিকল্পিতভাবে সাজাই তাহলে দেখা যাবে উপকার পৌঁছানো হবে আবার অশেষ সওয়াবও মিলবে। যেহেতু মোটামুটি অনেকেই এ ধরনের মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন, তারা যদি একটু আলোচনা করে এলাকাভিত্তিক কাজ করেন যে, অমুক এলাকার এতটা পরিবারের দায়িত্ব অথবা এতজন পথশিশুর দায়িত্ব এক গ্রুপ নেবে। তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের শীতবস্ত্র সামগ্রী ব্যবস্থার চেষ্টা করবে। অন্য কোনো দল বা ব্যক্তি অন্য এলাকার দায়িত্ব নেবেন। আর তারা প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি সাহায্যসামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। কিংবা একান্তভাবে ডেকে সম্মানের সঙ্গে বুঝিয়ে দেবেন। এভাবে ভাগ করে নেওয়ার ফলে কারও বাদ যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না, আবার প্রত্যেকে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রও পাবে। এতে করে গ্রহীতার প্রয়োজনও মিটবে, তার আত্মসম্মানেও আঘাত লাগবে না।

এভাবে নীরব ভঙ্গিতে দান করার মাধ্যমে বিশেষ সওয়াব রয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো তবে তা ভালো। আর যদি গোপনে দান করো তাহলে আরও ভালো।’ (সুরা বাকারা : ২৭১)। গোপনে দানের ফায়দা বর্ণনা করতে গিয়ে নবীজি (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন যখন আরশের ছায়া ছাড়া কোনো ছায়া থাকবে না তখন আল্লাহ তায়ালা সাত শ্রেণির মানুষকে তাঁর আরশের নিচে আশ্রয় দেবেন। তাদের মধ্যে একজন হলো ওই ব্যক্তি, যে এমন গোপনে দান করত, ডান হাত দান করত বাম হাত টেরও পেত না।’ (বুখারি)

শীতকাল এমন একটা সময় যখন পর্যাপ্ত উষ্ণ ও গরম কাপড় ছাড়া অতিবাহিত করা কষ্টকর। আমাদের আশপাশে এমন অনেক বন্ধু ভাই থাকেন যারা শীতের সময় স্বল্প কাপড়েই সময় পার করে দেন। মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলেন না। আমাদের উচিত শুধু বড় কোনো গ্রæপ কোম্পানি বা বিশেষ ব্যক্তিদের আশায় না থেকে প্রত্যেকেই নিজ জায়গা থেকে তাদের খোঁজ নেওয়া। একসঙ্গে সবার না হোক, জনপ্রতি একজনের দায়িত্বও যদি আমরা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করি তাহলে দেখা যাবে সমাজে-রাষ্ট্রে একজনও শীতের প্রকোপে কষ্ট পাবে না। হাড় কাঁপানি শীতে নির্ঘুম রাত কাটাতে হবে না।

সর্বোপরি আমাদের প্রতিটা পদক্ষেপই যেন হয় আল্লাহর হুকুম ও তাঁর রাসুলের দেখানো পথ অনুযায়ী। তাঁদেরকেই সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে। লোক দেখানো বা কাউকে ছোট করার নিচু মানসিকতা যেন আমাদের মধ্যে উঁকি না দেয়। পাশাপাশি প্রচলিত গৎবাঁধা রীতি পরিহার করে সত্যিকার অর্থে খেদমতে খলক তথা সৃষ্টির সেবায় প্রয়োজনীয় ভ‚মিকা গ্রহণের তাওফিক আল্লাহ তায়ালা দান করুন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]