ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

মুসলিম আইনে ওয়াকফের বিধিবিধান
মো. জে আর খান রবিন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ৮:০৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 44

মুসলিম আইন ও সমাজে ওয়াকফ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘ওয়াকফ’-এর শাব্দিক অর্থ হলো নিরোধ করা। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সম্পত্তিতে ওয়াকফকারীর মালিকানা নিরোধ করে এ আয় গরিবদের মধ্যে দান বা কোনো নেক উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা। মুসলিম আইনে ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য বলে স্বীকৃত এমন প্রতিষ্ঠানের বরাবরে বা নেক উদ্দেশ্যে যেকোনো সম্পত্তি স্থায়ীভাবে দান করাকে ওয়াকফ বলা হয় (ধারা-১৭৩)। যেকোনো সুস্থ মস্তিস্কের এবং নাবালক নয় এমন মুসলমান ওয়াকফের মাধ্যমে তার সম্পত্তি দান করতে পারে (ধারা-১৮২)। ওয়াকফের বিষয়ে মুসলিম আইনের ১৭৩-২২৫ ধারায় এবং ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।

ওয়াকফ সাধারণত দুই প্রকার। ওয়াকফ আল-আওলাদ ও ওয়াকফ ফি ছাবিলিল্লাহ। ওয়াকফ আল-আওলাদ হলো পরিবারের সদস্য ও ওয়ারিশদের বরাবরে সৃষ্ট ওয়াকফ এবং ওয়াকফ ফি ছাবিলিল্লাহ হলো দাতব্য বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বরাবরে সৃষ্ট ওয়াকফ (ধারা-১৭৮ ও ১৯৬)। পরিবারিক ওয়াকফের ক্ষেত্রে সর্বশেষ পর্যায়ে হলেও ওয়াকফটি গরিবের জন্য বা ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্দেশ্য সংরক্ষিত হতে হবে (ধারা-১৯৭)। ১৯১৩ সালের মুসলিম ওয়াকফ ভেলিডেটিং অ্যাক্ট দ্বারা ১৯১৩ সালের ৭ মার্চ তারিখ থেকে এবং ১৯৩০ সালের মুসলিম ওয়াকফ ভেলিডেটিং অ্যাক্ট দ্বারা ওই তারিখের পূর্বে সৃষ্ট কোনো পরিবারিক ওয়াকফ বা ওয়াকফ আল-আওলাদের বৈধতা দেওয়া হয় (ধারা-১৯৯)। ওয়াকফের বিষয়বস্তু স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হতে পারে এমনকি অবিভক্ত সম্পত্তিও হতে পারে। তবে শর্ত থাকে যে মসজিদ কিংবা কবরস্থানের অবিভক্ত অংশের জন্য ওয়াকফ করা যায় না। করলেও তা বৈধ হবে না (ধারা-১৭৫ ও ১৭৭)।

ওয়াকফ সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে ইমাম আবু ইউসুফের মতানুসারে দাতা কর্তৃক প্রদত্ত সম্পত্তির ঘোষণা দ্বারা জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে সৃষ্ট ওয়াকফ কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে ইমাম মুহাম্মদের মতানুসারে দাতা কর্তৃক ঘোষণা ব্যতীত ও মুতাওয়াল্লি নিয়োগ ও তার নিকট ওয়াকফকৃত সম্পত্তির দখল অর্পণ করা না হলে কোনো ওয়াকফ সম্পন্ন হয় না (ধারা-১৮৬)।

মুসলিম আইনে যে মুহূর্তে একটি ওয়াকফ সৃষ্টি করা হয়, সে মুহূর্তে ওই সম্পত্তির যাতীয় অধিকার তার নিকট হতে হস্তান্তরিত হয় এবং আল্লাহর নিকট অর্পিত হয়। ওয়াকফ সম্পত্তিতে মুতাওয়াল্লির কোনো অধিকার নেই। তিনি সম্পত্তির মালিক নয়, একজন তত্ত্বাবধায়ক বা ম্যানেজার (ধারা-২০২)। যদি ওয়াকফকারী উত্তরাধিকারীদের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ না করে তার বংশধরদের মঙ্গলের জন্য কোনো ওয়াকফ সৃষ্টি করেন, সেক্ষেত্রে বংশধররা প্রতিনিধিত্বের হারে সম্পত্তির অংশগ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে মাথাপিছু হারে নয়, পুরুষ ও নারী সবাই সমান অংশগ্রহণ করবে (ধারা-২০০)। ওয়াকফকারী নিজে অথবা তার ছেলেমেয়ে ও বংশধরকে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে, এমনকি কোনো মহিলাকে, অথবা কোনো অমুসলমানকেও ওয়াকফকৃত সম্পত্তির মুতাওয়াল্লি নিয়োগ করতে পারেন (ধারা-২০৩) এবং ওয়কফকারী তার ইচ্ছানুযায়ী মুতাওয়াল্লির নাম ঘোষণা বা ইঙ্গিত প্রদান করতে পারেন (ধারা-২০৪)। মুতাওয়াল্লি নিয়োগের ব্যাপারে ওয়াকফকারীর কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলে, ওয়াকফকারী ও তার নির্বাহকের মৃত্যুর পর, মুতাওয়াল্লি তার মৃত্যুশয্যায় উত্তরাধিকারী নিয়োগ করতে পারেন (ধারা-২০৫)। একাধিক মুতাওয়াল্লি নিয়োগের ক্ষেত্রে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকলে একজন মুতাওয়াল্লির মৃত্যুর পর অন্য মুতাওয়াল্লি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন (ধারা-২০৫-ক)। 
ওয়াকফকারী কর্তৃক সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা প্রদান না করলে আদালতের বিনা অনুমতিতে কোনো মুতাওয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তি অথবা এর কোনো অংশ রেহান বিক্রয় অথবা বিনিময় করতে পারেন না। কৃষি ভূ-সম্পত্তির ক্ষেত্রে ৩ (তিন) বছর এবং কৃষি ভূ-সম্পত্তি নয় এমন সম্পত্তির ক্ষেত্রে এক বছর অধিককাল পর্যন্ত ওয়াকফ সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা মুতাওয়াল্লির নেই (ধারা-১৯৩, ২০৭, ২০৮)। মুতাওয়াল্লির বেতন ওয়াকফদাতা বা ক্ষেত্রমতে আদালত নির্ধারণ করতে পারেন (ধারা-২১১)। মুতাওয়াল্লি অপসারণ না করার ব্যাপারে ওয়াকফ দাতার নির্দেশনা থাকলেও দায়িত্বের অবহেলা, জিম্মা ভঙ্গসহ নানাবিধ কারণে আদালত কর্তৃক মুতাওয়াল্লি অপসারণ হতে পারেন (ধারা-২১৩)।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]