ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি কবে?
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ৯:১৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 121

করোনা মহামারি আয় কমিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিকদের। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, করোনাকালে নারী শ্রমিকের মজুরি কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ, পুরুষ শ্রমিকের মজুরি কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম মজুরি পাওয়া ৫০ ভাগ শ্রমিকের মজুরি কমেছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। 

এই যখন অবস্থা-ে তখন চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। এর মধ্যে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রা আরও কঠিন করে তুলেছে। সম্প্রতি মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনও করছেন। শ্রমিক নেতারাও মনে করেন, এই সঙ্কটকালের কথা বিবেচনা করে সময় এসেছে গার্মেন্টস খাতসহ সব শিল্প কারখানার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি বা সমন্বয় করার।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর সেনপাড়ায় অবস্থিত আইডিএস গ্রুপের গার্মেন্টস কারখানা ফোর ইউ ক্লোদিংয়ে শ্রমিক অসন্তোষকে ঘিরে ওই এলাকার এক রকম অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রমিকরা রাজপথে নেমে আন্দোলন করছেন। কারখানাটির বকেয়া মজুরি এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভেদের কারণে শ্রমিকরা রাজপথে নামেন। ওই কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলন এখন মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকরা এখন দাবি করছেন, মজুরি বাড়ানোর ৩ বছর হয়ে যাচ্ছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে এখন নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে বেতন বাড়াতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গার্মেন্টস খাতে সর্বশেষ মজুরি বাড়ানো হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। তখন গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ এবং ২০১০ সালে ৩ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়। তার আগে ২০০৬ সালে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা। সময়ের হিসাব অনুযায়ী, গার্মেন্টস খাতে সর্বশেষ মজুরি বাড়ানোর ৩ বছর হয়ে গেছে। ৩ বছর হওয়ায় নতুন মজুরি বোর্ড গঠন এবং মজুরি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন শ্রমিকরা।

এদিকে শ্রম আইনে বলা আছে, ৫ বছর পর নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি বাড়াতে হবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ৩ বছর পরও মজুরি সমন্বয়ের কথা বলা আছে শ্রম আইনের ১৪০ ও ১৪১ ধারায়। এর নজির দেখা গেছে ২০১৩ সালে। সে বছরের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক নিহত হওয়ার পর সারা বিশে^ পোশাক শিল্পের ইমেজ ক্ষুণœ হলে এবং দেশে গার্মেন্টস শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা মজুরি বৃদ্ধির দাবি তুললে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ৩ বছরের মাথায় গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২ হাজার ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নানা কারণে শ্রমিকদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মজুরি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি এতটা খারাপ কখনও হয়নি। চাল, ডাল, তেল, চিনি, মাছ, মাংস- এমন কোনো পণ্য নেই অস্বাভাবিকভাবে যার দাম বাড়েনি। ইতোমধ্যে শ্রমঘন এলাকার বাড়ির মালিকরা বাড়িভাড়া বাড়ানো শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি শ্রমিকের জীবন আরও কঠিন করে তুলেছে। সে তুলনায় তাদের মজুরি তো আর বাড়েনি। প্রত্যেক শ্রমিককে জীবনযাপন করতে হচ্ছে অনেক কষ্টে। শ্রমিকদের জীবন এখন ধার-দেনানির্ভর। এই অবস্থায় ৩ বছর আগের মজুরি দিয়ে কীভাবে সংসার চালাবে শ্রমিকরা। সঙ্গত কারণেই শ্রমিকরা মজুরি বাড়ানোর দবি তুলেছেন এবং আমি মনে করি শ্রমিকদের এ দাবি যৌক্তিক।

শ্রমিকদের দাবির প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে জানিয়ে তৌহিদুর রহমান আরও বলেন, শ্রমিক নেতা হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে। আমরা আমাদের সংগঠনের তরফ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মজুরি বোর্ডে আবেদন জানাব মজুরি বাড়ানোর জন্য।

আরেক শ্রমিক নেতা জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম অবশ্য বলছেন, এখনও ৫ বছর হয়নি, তাই এখনই মজুরি বাড়াতে রাজপথে আন্দোলন করা ঠিক হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের কারণে যদি ৩ বছর পর সমন্বয় করার দাবি ওঠে সেটি শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে হবে। সম্প্রতি কয়েকটি কারখানায় বকেয়া মজুরিসহ বিভিন্ন কারণে শ্রমিক অসন্তোষ হচ্ছে। এটিকে পুঁজি করে একটি কুচক্রীমহল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। মজুরি বাড়ানোর দাবি জানানোর শান্তিপূর্ণ অনেক পন্থা আছে। সেদিকে না গিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দাবি আদায় করা যাবে না। আমরা সরকার ও মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা না গেলেও যেন মহার্ঘ্যভাতা বা অন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থায় মজুরি বাড়ানো যায়।

তবে গার্মেন্টস মালিকরা ৩ বছরের মাথায় কোনোভাবেই মজুরি বাড়ানোর পক্ষে নন। এ বিষয়ে বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, করোনার কারণে গত প্রায় ২ বছর শিল্প মালিকরা কঠিন সময় পার করেছেন। অনেক কারখানা মালিক টাকার অভাবে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। যারা ব্যবসা ধরে রেখেছেন, তারা কোনো রকম টিকিয়ে রেখেছিলেন ব্যবসা। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমার পর এখন সবেমাত্র ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করেছে গার্মেন্টস খাত। অনেক কারখানার মালিককে লোকসানে কারখানা চালাতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। সুতরাং পোশাক শিল্প এখনও সঙ্কটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। এ অবস্থায় মজুরি বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

বিজিএমইএ সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিমও মনে করেন, এখন মজুরি বাড়ানোর সক্ষমতা নেই গার্মেন্টস মালিকদের। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, কয়েকটি কারখানায় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে মিরপুর এলাকায় কিছুটা শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এটাকে পুঁজি করে মজুরি বাড়ানোর দাবি তোলা সমীচীন নয়। পোশাক শিল্পে এখন অর্ডার আসছে প্রচুর- এ কথা ঠিক, কিন্তু শিল্প এখনও করোনার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। শিল্প মালিকদের এখনও সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় মজুরি বাড়নোর কোনো সম্ভাবনা নেই।


আরও সংবাদ   বিষয়:  শ্রমিকদের মজুরি  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]