ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিশেষ আলোচনা
দেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদাশীল করার প্রত্যয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ১০:০৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 72

বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনার জন্য বুধবার জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে তিনি জানান, দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তার সরকারের অঙ্গীকার হলো- বাংলাদেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, দমন-পীড়ন ও বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলায় রূপান্তর করে বিশ্বমঞ্চে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে একটি সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত করা। এ সময় তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামে বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, ‘সংসদের অভিমত এই যে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ‘সুবর্ণজয়ন্তী’ উদযাপন বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ আজ ‘উন্নয়নের বিস্ময়’। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা, ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চে গণহত্যা শুরু হলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।’

বর্তমান সরকারের অর্জন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, গৃহহীন ৯ লাখ মানুষকে ঘর দেওয়া, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম, নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, মাতৃমৃত্যু-শিশুমৃত্যু রোধসহ মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা অর্জিত হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স, রিজার্ভ প্রতিটি সূচকে সাধিত হয়েছে অগ্রগতি।’

এ কথা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে এখন আমাদের আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। কেননা নিকট অতীতে কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমরা দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৈশাচিক তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেছি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট খেলা চলাকালে এদেশের কেউ কেউ প্রকাশ্যেই পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে সমর্থন দিয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে এসব ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। আমরা মনে করি, এসবের পেছনে কতিপয় রাজনৈতিক অপশক্তি এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারী গোষ্ঠীর মদদ আছে। 

এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে সব অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে গণপ্রতিরোধ। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা পবিত্র মাটি থেকে উৎপাটন করতে হবে সাম্প্রদায়িকতার শেকড়। তবেই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]