ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

সংক্ষুব্ধ ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর
প্রসঙ্গ সমর সেন হাইজ্যাক প্রচেষ্টা
জাকির হোসেন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ১০:০৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 204

আজ ২৬ নভেম্বর। পঁচাত্তরের এই দিনে জাসদের একটি সুইসাইড স্কোয়াড ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেনকে অপহরণের চেষ্টা করে। ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডির পর সেই অস্থির সময়ে দেশের রাজনীতিতে একের পর এক ঘটতে থাকে অনেক, বেদনাদায়ক, চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয় ঘটনা। এসবের একটি ছিল ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শ্রী সমর সেনকে অপহরণের প্রচেষ্টা। এ ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে ১৫ নভেম্বর সমর সেনের বাড়ির আঙিনায় একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পাওয়া যায়।

সমর সেন ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রদূত। একাত্তরে আমাদের মুক্তিসংগ্রামের সময় কূটনৈতিক যুদ্ধে এই খ্যাতিমান কূটনীতিক গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছিলেন। সেই সময় তিনি ছিলেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। বাংলাদেশবিরোধী মার্কিন কূটনৈতিক চাপ বেশ দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তিনি সামাল দিয়েছিলেন। সমর সেন বাংলাদেশে নিয়োজিত ছিলেন চুয়াত্তরের জুন থেকে ছিয়াত্তরের নভেম্বর পর্যন্ত। তার ঢাকায় আগমনের বিষয়টি ছিল বেশ ব্যতিক্রমী একটি ঘটনা। বাংলাদেশে তখন ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন স্বনামধন্য কূটনীতিক সুবিমল দত্ত। তিনি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের প্রথম রাষ্ট্রদূত। জওহর লাল নেহরুর আমলে এই সুবিমল দত্ত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব পদে নিয়োজিত ছিলেন। এমন একজন ঝানু কূটনীতিককে সদ্য স্বাধীন একটি দেশে নিযুক্তি প্রমাণ করে যে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিচ্ছিল। সুবিমল দত্ত এবং সমর সেন উভয়েই ছিলেন আমাদের এই মাটিরই মানুষ। সমর সেনের জন্ম ঢাকায় আর সুবিমল দত্ত বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কানুনগো পাড়ায়। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছুটা কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে সুবিমল দত্ত পদত্যাগ করেন। এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকে তিনি ভুট্টোকে ঢাকা বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত নন এবং ভুট্টোর সঙ্গে করমর্দন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আসেন সমর সেন।

সমর সেন অপহরণ প্রচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন কর্নেল তাহেরের ভাই, ঢাকা নগর গণবাহিনীর কমান্ডার আনোয়ার হোসেন। এই অপারেশন সম্পন্ন করতে আনোয়ার হোসেন ছয় সদস্যের একটি সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করেন। এই স্কোয়াডের নেতা ছিল সাখাওয়াত হোসেন বাহার। অন্য পাঁচজনের মধ্যে ছিল ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, মীর নজরুল ইসলাম বাচ্চু, মাসুদুর রহমান, হারুন অর রশীদ এবং সৈয়দ বাহারুল হাসান সবুজ। এদের মধ্যে বাহার ও বেলাল ছিল কর্নেল তাহের এবং আনোয়ার হোসেনের ভাই।

ধানমন্ডি দুই নম্বর সড়কে এখন যেখানে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, ঠিক সেখানেই একসময় ছিল ভারতীয় দূতাবাস। সুইসাইড স্কোয়াডের তিনজন অবস্থান নেয় রাস্তার দক্ষিণ পাশে জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাছে, আর অন্য তিনজন অপেক্ষা করতে থাকে ভারতীয় ভিসা অফিসের সামনে। মগবাজারের নয়াটোলার আস্তানা থেকে তারা ভোরবেলা বের হয় অপারেশনের উদ্দেশ্যে। তারা খোঁজ নিয়ে জেনেছিল প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সমর সেন অফিসে আসেন। সেদিন সকাল ৯টা বেজে ৪০ মিনিটে সমর সেনের গাড়ি এসে দাঁড়ায় দূতাবাসের চৌকাঠে। তিনি গাড়ি থেকে নামতেই গণবাহিনীর সেই ছয় তরুণের সুইসাইড স্কোয়াড তাকে জিম্মি করে। 

তারা তাকে বলে, ‘আপনি এখন আমাদের হাতে জিম্মি। আপনার ঘরে চলুন, আপনার সঙ্গে আমাদের কথা আছে।’ স্বাভাবিকভাবেই সমর সেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান। নিজের দূতাবাসের দরজার সামনে এভাবে তাকে অপহরণ করা হবে, এটা হয়তো তিনি ভাবতেও পারেননি। অপহরণ প্রচেষ্টার আগে যারা রেকি করেছিল, তারা খেয়াল করেনি ভবনের দোতলায় নিরাপত্তারক্ষীদের একটি দল সর্বদা পাহারায় থাকে। ফলে যখন তারা সমর সেনকে সিঁড়ি দিয়ে একতলা থেকে দোতলায় নিতে উদ্যত হয়, তখন ওপর থেকে শুরু হয় ব্রাশফায়ার। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সবাই। অপহরণকারীদের মধ্যে বাহার, বাচ্চু, মাসুদ ও হারুন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। বেলাল ও সবুজ আহত অবস্থায় কাতরাতে থাকে। সমর সেনের কাঁধে গুলি লাগে, তবে তার আঘাত ততটা মারাত্মক ছিল না। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে আসেন সেনাবাহিনীর নবনিযুক্ত চিফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার আবুল মঞ্জুর। তিনি আহত বেলাল ও সবুজকে তার গাড়িতে উঠিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যান। বাহার, বাচ্চু, মাসুদ ও হারুনের মৃতদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভারতীয় দূতাবাসের পেছনে ৩ নম্বর সড়কে থানার পোর্টিকোর নিচে একটি ভ্যানে মৃতদেহগুলো রাখা হয়।

চার অপহরণকারীকে হত্যা ও দুজনকে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতারের জন্য পুলিশের পাঁচজন সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। আইজিপি তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকার পুরস্কার তুলে দেন। অন্যদিকে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও খুঁজতে শুরু করে। গ্রেফতার এড়াতে জাসদের অনেকেই গা ঢাকা দেয়। তবু একে একে গ্রেফতার হন আ ফ ম মাহবুবুল হক, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিপ্লবী সৈনিক সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা। এই আ ফ ম মাহবুবুল হক কয়েক বছর আগে কানাডায় মারা যান। আর মাহমুদুর রহমান মান্না জাসদ, বাসদ এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি শেষে এখন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। সে এখন নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা।

ভারতীয় হাইকমিশনে অভিযান চালানোর কয়েক দিন আগে অপহরণকারী দলের সদস্যরা রায়েরবাজারের জনৈক জয়নুল হক শিকদারের কাছ থেকে দুটি পিস্তল ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় তারা সেনাবাহিনীর একটি জিপ নিয়ে গিয়েছিল। পিস্তল দুটি লাইসেন্স করা ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অন্য অস্ত্রের সঙ্গে এই দুটি পিস্তলও উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত পিস্তলের সূত্র ধরে পুলিশ এর মালিকের নাম-ঠিকানা জোগাড় করে এবং শিকদারকে গ্রেফতার করে। অস্ত্র হারানোর তথ্য পুলিশকে না জানানোর অভিযোগে সিকদারের জেল হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জয়নুল হক শিকদার ১৯৮২ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। এখন তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান। সিকদার নিজের নামে একটি মেডিকেল কলেজও প্রতিষ্ঠা করেছেন।

উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন দূতাবাসের তারবার্তা থেকে জানা যায়, সমর সেনকে অপহরণ প্রচেষ্টার দিন সকাল ১০টা থেকে কিছু সময়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল। কেন বন্ধ ছিল? এই প্রশ্নের জবাব কোথাও পাওয়া যায়নি। ১৯৭৬ সালের ১৬ জানুয়ারির তারবার্তায় আরও দেখা যায়, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিস ইউজিন বোস্টারের সঙ্গে আলোচনায় সমর সেন তার অপহরণ প্রচেষ্টার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সমর সেনের মতে, কেউ তাকে অপহরণ করতে চাইলে অবশ্যই ভারতীয় দূতাবাসের সামনে থেকে অপহরণের চেষ্টা করত না। সমর সেন এই ঘটনাকে হত্যাপ্রচেষ্টা বলেও মনে করেননি, কারণ তার মতে, আক্রমণকারীরা সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও তাকে হত্যা করেনি।

২৬ নভেম্বর সকালে অপহরণ প্রচেষ্টায় আহত সমর সেনকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন খ্যাতিমান কবি নির্মলেন্দু গুণ। এদিন ভোরবেলা গুণের প্রিয় বন্ধু কবি আবুল হাসান তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মারা যান। হাসানের মৃত্যুর সংবাদ শুনে তিনি যখন হাসপাতালের গেটে পৌঁছান, তখন একদল পুলিশ এসে পিজি হাসপাতাল ঘিরে ফেলে। পুলিশ কর্ডন করা অবস্থায় একটি কালো মার্সিডিস গাড়ি একই সঙ্গে খুব দ্রুত পিজি হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে।
নির্মলেন্দু গুণের ভাষ্য মতে, ‘আমি হাসপাতালে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখতে পাই, পুলিশ একজন রাষ্ট্রদূতকে ধরাধরি করে হাসপাতালের রিসেপশনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। একজন পুলিশকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, উনি হচ্ছেন ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী সমর সেন। তখন তার দেহ ছিল রক্তাক্ত। তার গায়ে শার্ট ছিল না। শুধু গেঞ্জি ছিল। তিনি বাম হাতে ডান কাঁধের দিকে একটি ক্ষতস্থানকে চেপে ধরে খুবই ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে চারপাশে তাকাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্ট্রেচার নিয়ে নার্স ও ডাক্তাররা সমর সেনকে বাঁচানোর জন্য ছুটে আসে। আমি দ্রুত ওই ঘটনাকে পাশ কাটিয়ে ওপরে উঠে যাই। সমর সেনের কী হয়েছে, তা আর তখন জানা হয়নি।’

পরে অবশ্য নির্মলেন্দু গুণ জানতে পারেন, ৬ জন আত্মঘাতী তরুণের একটি দল সকালের দিকে ভারতীয় হাইকমিশনার সমর সেনকে অপহরণ করার জন্য ধানমন্ডির দুই নম্বর সড়কে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালিয়েছিল। অল্পের জন্য ওই হামলা ব্যর্থ হয়। সমর সেনের দেহরক্ষী এবং দূতাবাস প্রহরারত পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই অপহরণপ্রয়াসীদের মধ্যে চারজন নিহত হয়। দুজন আহত অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, ‘খালেদ মোশাররফের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আছে’- এই অভিযোগ প্রচার করার ব্যাপারে কর্নেল তাহের ও তার দলের খুবই তৎপর ভ‚মিকা ছিল। এরই পরিণতিতে খালেদ মোশাররফসহ তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জীবন দিতে হয়। আর ৭ নভেম্বর ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। কিন্তু নিয়তির কী পরিহাস, ক্ষমতা দখলের পর জিয়াউর রহমান প্রথমেই জাসদের ওপর আঘাত হানার জন্য তৈরি হয়। ২৩ নভেম্বর এক বেতার ভাষণে তিনি জাসদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ওই রাতে জিয়াউর রহমান যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন পুলিশ রীতিমতো রাস্তায় নেমে পড়েছে। 

জাসদ নেতাদের মধ্যে প্রথমেই গ্রেফতার হন মেজর জলিল, আ স ম আব্দুর রব, হাসানুল হক ইনু এবং আবু তাহেরের বড় ভাই ফ্লাইট সার্জেন্ট আবু ইউসুফ খান। পরদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় কর্নেল তাহের গ্রেফতার হন। রাষ্ট্রদ্রোহী তৎপরতায় লিপ্ত থাকার অভিযোগে মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের শিরোনামে শুধুই রব ও মেজর জলিলের কথা থাকলেও সংবাদের ভেতরে ১৭ নম্বর আসামি হিসেবে যে নামটি ছিল, তিনিই ছিলেন ওই রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসল টার্গেট। তার নাম কর্নেল তাহের। এই মৃত্যুদণ্ডযোগ্য রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি যে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে, এটা বুঝতে পেরেই ওই ৬ সদস্যের আত্মঘাতী স্কোয়াড গঠন করে ভারতীয় হাইকমিশনার সমর সেনকে জিম্মি করার চেষ্টা করেছিল। এভাবেই তারা ওই মামলাটি প্রত্যাহারে জিয়া সরকারকে ভারতের চাপের মুখ ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাসদের এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। তবে সমর সেনকে জিম্মি করার প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানই লাভবান হয়েছেন। এ ঘটনা জনগণের মধ্যে এমন ধারণাকেই বদ্ধমূল করে যে জাসদ এবং কর্নেল তাহেরের দল দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। 
জিয়াউর রহমান জনগণের এই অনুভূতিকে তার রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগান। জাসদ দমনে জিয়াউর রহমান মরিয়া হয়ে ওঠেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক হাজার জাসদ কর্মীকে আটক করে জেলে পাঠান। আর সামরিক আদালতের বিচারে কর্নেল আবু তাহেরের ফাঁসি হয়। তবে ওই অপহরণ প্রচেষ্টা সফল হলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিত, তা আজও কল্পনা ও গবেষণার বিষয় হিসেবেই থেকে গেছে...

    তথ্যসূত্র
    অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লাড- অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস
     বাংলাদেশ ইন ব্লাড অ্যান্ড টিয়ার্স- জ্যোতি সেনগুপ্ত
    বাংলাদেশ : ষড়যন্ত্রের রাজনীতি- পরেশ সাহা
    ষড়যন্ত্রের জালে বিপন্ন রাজনীতি- আবেদ খান




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]