ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

পাতায় পাতায় অঘ্রানের ঘ্রাণ
বঙ্গ রাখাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ১২:৪৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 71

হেমন্ত মানেই বাড়িতে এক ধরনে উৎসব উৎসব ভাব বিরাজ করা। মাঠে মাঠে হালকা বাতাসে দুলছে সোনার ধান। কার্তিকের সবুজ মধ্যাহ্নে ফসলের মাঠে চোখজুড়ে স্বপ্ন বুনছে কিষান-কিষানি। জীবন ও প্রকৃতিতে এক আশ্চর্য আবেগ আর ভালোবাসা নিয়ে আসে হেমন্ত। 

নতুন ধান বাড়িতে এলে- ঘ্রাণে বাড়ি মৌ মৌ করে। খেজুর বা তালের রসে শীতের সকালকে অন্য রকম মনে হয়- আনন্দে মাতে কুয়াশায় শরীর জড়ানো কনকনে শীতের চাদর। গ্রামে প্রচলন ছিল আখের খোলার- যেখানে সারা রাত জেগে আখের গুড় তৈরি করা হতো। বাবাকে দেখেছি ফসল ঘরে তোলার জন্য মাঠে ধানের রঙ সোনালি হলেই অস্থির হয়ে উঠতেন। কাকাবাবুরা ধান এলে গরু দিয়ে ‘মলন’ মলতেন। হায়রে আনন্দ আজ অনেকটা ম্লান! 

কালের বিবর্তনে পাল্টে গেছে- প্রযুক্তির বদলে যাওয়ার হাওয়াই দুলতে গ্রামীণ সংস্কৃতি। নবান্নের এই ঋতু বাংলা সাহিত্যে কবি-শিল্পীদের সৃষ্টিতে ধরা দেয়- নানা মাত্রায়, নানা আঙ্গিকে। অনেকেই আবেগে মন পুড়িয়ে হেমন্তকে পুঁজি করে লিখেছেন কবিতা গান, নাটক, উপন্যাস বা গল্প। শ্রী মোহিত লাল মজুমদার লিখেছেন ‘হেমন্ত-গোধূলি’, সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের ‘হেমন্তের বর্ণমালা, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ‘হেমন্তর গল্প’, শামসুর রাহমানের ‘হেমন্তের সন্ধ্যায় কিছু সময়’, সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘হেমন্তের পাখি’, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান’। ধান কাটা হলে বিরানভ‚মির দিকে তাকালে মনে ভাসে জীবনানন্দ দাশের পঙ্ক্তি- ধান কাটা হয়ে গেছে কবে যেন- ক্ষেত মাঠে পড়ে আছে খড়/ পাতা কুটো ভাঙা ডিম- সাপের খোলস নীড় শীত। এই সব উৎরায়ে ওইখানে মাঠের ভিতর/ ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজ- কেমন নিবিড়। 

এখানে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাটা যেন না পড়লেই নয়। ‘হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান ঘুরতে দেখেছি অনেক/ তাদের হলুদ ঝুলি ভরে গিয়েছিল ঘাসে আবিল ভেড়ার পেটের মতন’! এই কবি কবিতাকে এক ধরনের মন্ত্রের মতো ব্যবহার করতে পারেন; যা পাঠে পাঠক আঁতকে ওঠেন- চমকে ওঠেন। কবি কাজী নজরুলই বা কেন বাদ থাকবে হেমন্তের বন্দনা থেকে। তিনি ‘অঘ্রানের সওগাত’ কবিতায় বলছেন- ‘ঋতুর খাঞ্চা ভরিয়া এল কি ধরণীর সওগাত?/ নবীন ধানের আঘ্রানে আজি অঘ্রান হ’ল মাৎ।/ ‘গিন্নি-পাগল’ চা’লের ফিরনী/ তশতরী ভ’রে নবীনা গিন্নী/ হাসিতে হাসিতে দিতেছে স্বামীরে, খুশীতে কাঁপিছে হাত।/ শিরনী রাঁধেন বড়ো বিবি, বাড়ী গন্ধে তেলেসমাত!’ সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ১৯৯৭ সালে ‘হেমন্তের পাখি’ নামে একটা উপন্যাস প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এটি নিয়ে সিনেমাও বানানো হয়েছে। সুচিত্রা সমকালীন সামাজিক ঘটনাগুলোর ওপর ভিত্তি করে তার কাহিনিগুলোর দিকে জোর দিয়ে জীবন্ত ও প্রাণবন্ত করে তোলেন। 

শহুরে মধ্যবিত্তদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন, বর্তমান যুগের পরিবর্তনশীল নীতিবোধ, বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে নৈতিক অবক্ষয়, নারীদের দুঃখ-যন্ত্রণা তার রচনাগুলোর মূল উপজীব্য ছিল। ২৩ বছরের বিবাহিত জীবনে অদিতি ঠিক কী কী পেল, এই হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখল আসলে সে কিছুই পায়নি কিন্তু দিনের পর দিন নিজেকে বিসর্জনই দিয়ে গেছে। 

অবশেষে সে যখন ঠিক করল এবার থেকে তার নিজের পছন্দের কাজ অর্থাৎ লেখালেখি শুরু করবে, তখন হলো কিছু নাটকীয় পরিবর্তন। নারীদের মনেও যে চাওয়া-পাওয়া বা স্বপ্ন আছে, সে ব্যাপারে কেউ-ই ভাবে না। সারাটা জীবন হেঁশেল, ঘর সামলে ক্লান্ত, ভীষণ রকমের একাকিত্বে ভোগা নারীর মাঝেও যে প্রথম যৌবনের স্বপ্ন ও ভালোলাগা নতুন করে উঁকি দিয়ে যেতে পারে, তারও যে মধ্যবয়সে এসে জীবনটাকে নতুন করে শুরু করার ইচ্ছা জাগতে পারে, এ-ও তো আমাদের অনেকেরই কল্পনার বাইরে। ঠিক এমনই এক নারীর স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্নের বিপরীতে ঘাপটি মেরে থাকা নিষ্ঠুর বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘হেমন্তের পাখি’ উপন্যাসে। হেমন্ত আসলেই আমার হেমন্ত তোমার বা তার বলেই মনে হয়। মনে হয় এইতো আমার গ্রাম বা গ্রামের পাশের গ্রাম ভেসে যাচ্ছে নবান্নের আনন্দ জোয়ারে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]