ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ৩০ নভেম্বর ২০২১
http://www.shomoyeralo.com/ad/amg-728x90.jpg

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের এখনই সময়
খাইরুল ইসলাম বাশার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ১:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 150

ভ্রমণপ্রেমীদের সবচেয়ে প্রিয় ঋতু শীত। যেহেতু ঘোরাঘুরির মৌসুম, তাই খরচের পাল্লাটাও একটু ভারী হয়। কিন্তু এর মধ্যেও দেশের আনাচে-কানাচে এমন অনেক চোখ জুড়ানো জায়গা রয়েছে যেগুলো আপনি কম খরচেও ঘুরে আসতে পারেন। আর এমনই এক স্থান নিঝুম দ্বীপ। যেখানে আমার ভ্রমণসঙ্গী ছিলেন আরও ৬ জন। সদরঘাট থেকে শুরু হয় আমাদের যাত্রা। লঞ্চে একটি সিঙ্গেল কেবিনে আমাদের ব্যাগ রেখে সবাই ছাদে চাদর বিছিয়ে নিজেদের জায়গাটা দখল করে নিলাম। সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে হেলেছে। কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে লঞ্চে পায়চারি করছি আমরা। কেউ কেউ কাঁধে ক্যামেরা ঝুলিয়ে লঞ্চে তিনতলা ছাদ থেকে ছবি তোলায় ব্যস্ত। আর আমিসহ কয়েকজন নিচে চা খেয়ে খাওয়ার কিছু খুঁজছি। কিন্তু তেমন কিছু পাওয়া গেল না। 

স্বাভাবিক সময়ের আগেই আমরা রাতের খাবারে জন্য ক্যান্টিনে গেলাম। লঞ্চে খাবারটা একটু আগেই সেরে নিতে হয়। আমাদের প্রথম গন্তব্য হাতিয়া। ভোর প্রায় ৬টায় আমরা সেখানে পৌঁছালাম। সকাল সকাল প্রচÐ গরম। হাতিয়া নদীর পাড়ে সারি সারি নারিকেল গাছ। একটি ছোট দোকান থেকে হাল্কা নাশতা করে নারিকেল গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিলাম। এখান থেকে আমাদের যেতে হবে জাহাজমারা ঘাট। বাইকে করে জনপ্রতি ২০০ টাকায় প্রায় ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে আমরা জাহাজমারা ঘাটে পৌঁছালাম। পাড়ে একটি মাত্র ট্রলার। এটি করেই আমরা নিঝুম দ্বীপে পৌঁছাব। ঘাট ভাড়াসহ এখানে খরচ ২৩ টাকা। ট্রলারে করে নদী পার হতে আমাদের সময় লাগল ১৫-২০ মিনিট। ছোট একটি আধাভাঙা কাঠের ব্রিজে করে আমরা নিঝুম দ্বীপে নামলাম। 

গন্তব্য এখানেই শেষ নয়। আবারও বাইকে করে সমুদ্র পাড়ের দিকে যেতে হবে। এখানে বাইক খরচ ৫০ টাকা জনপ্রতি। খুব অল্প সময়ে আমরা গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম। হোটেল সোহলে দুটি রুমে আমরা সাতজন। এখানে বিদ্যুৎ নেই। হোটেলে দিনে ১ ঘণ্টা ও রাতে ৩ ঘণ্টা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ১৭ ঘণ্টা জার্নি করে আমাদের সবার বেহাল। হোটেলের জানালা দিয়ে একটি ছোট খাল দেখা যায়। এখানে পানি নেই। অথচ অনেক মাছ ধরার ট্রলার। পরে জানা গেল, খালের পানি বাড়ে কমে সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার ওপর। প্রথম দিনটি আশপাশে ঘুরে কাটাতে হলো। সন্ধ্যার দিকে সমুদ্রে গেলাম। ভাটা শেষে তখন জোয়ার আসছে। সমুদ্রের গর্জন শোনা যাচ্ছে, সঙ্গে বাতাস। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকা হলো না। কারণ এই জায়গাটায় খুব দ্রæত রাত নেমে আসে। বাইরে একটি হোটেলে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি আমরা। সেটিও তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। 

তাই সন্ধ্যা পেরুতেই আমাদের রাতের খাবার শেষ করতে হলো। এরপর বাজারে বসে আমাদের হোটেলের মালিক ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে গল্প করছি। তিনি এখানকার মাছ ব্যবসায়ী। নিঝুম দ্বীপের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষের মূল পেশা মাছ ধরা। প্রতিদিন সকালে সমুদ্র ও নদী থেকে প্রায় ৬০-৭০ লাখ টাকার মাছ জেলেরা এই ঘাটে নিয়ে আসে। সেগুলো লঞ্চে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া হয়। ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে কথা শেষে রুমে চলে গেলাম। বারান্দায় তখন ঠান্ডা বাতাস বইছে।  পরদিন সকালে একটি মাছের ট্রলার ঠিক করা হলো। এতে চড়ে বনে হরিণ দেখতে যাব। ট্রলারে করে প্রায় ৩০ মিনিট নদীপথ পারি দিয়ে নিঝুম দ্বীপের শেষে একটি বনে নামলাম আমরা। সঙ্গে তিনজন বাচ্চা ট্যুর গাইড। আমাদের হরিণ দেখানো তাদের কাজ। খুব সাবধানে বন দিয়ে হাঁটতে হলো। বনজুড়ে কেওরা গাছ। এই গাছের শেকড় মাটির ওপরে সরু হয়ে বের হয়ে থাকে। তাই খুব সাবধানে হাঁটা এখানে প্রধান শর্ত। 

অনেকটা পথ হেঁটে আমরা বনে প্রায় মাঝখানে চলে এলাম। মাঝে একটি পুকুর। সেখানে হরিণরা পানি খেতে আসে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি হরিণের দেখা মিললেও ছবি তোলা হলো না আমাদের। দুপুর ২-৩টার দিকে আমরা সেখান থেকে হোটেলের দিকে চলে এলাম। দুপুরে খাওয়া শেষ করে এই গরমেই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সন্ধ্যায় উঠে সবার গন্তব্য খাবারের দোকানে। রাতের খাবারটা আজ আগেই শেষ করে সৈকতের দিকে চলে গেলাম। সুনসান পরিবেশ। পূব আকাশে চাঁদ উঠছে। পুরো সৈকতে আমরা সাতজন। মাঝ রাতে হোটেলে ফিরে এলাম। পরদিন সকালে আমরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে হাতিয়া থেকে আমাদের লঞ্চ ছাড়ার সময়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা লঞ্চ জার্নির পর আবারও সদর ঘাটে আমরা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]