ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ১০ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

গাছের প্রতি এ কেমন নিষ্ঠুরতা
আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রজেক্টে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১, ৭:১৪ পিএম আপডেট: ২৬.১১.২০২১ ৭:৩৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 517

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কেটে দিয়েছে প্রায় দেড়শ কলাগাছ। গাছের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা দেখে স্থানীয়রা হতবাক। তারা বলছেন- গাছের প্রতি এ কেমন নিষ্ঠুরতা। 

গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সোয়া একটার দিকে রাজধানীর বাড্ডার বড় বেরাইদ এলাকায় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রজেক্টের ভেতর ১২৮টি গাছ কেটেছে সংঘবদ্ধ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা মুখোশ পরে রামদা, চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাতের অন্ধকারে দক্ষিণ পাশের খালি মাঠ দিয়ে প্রবেশ করে এই তাণ্ডব চালায়। এসময় ১২০টি কলা গাছ ও ৮টি পেয়ার গাছ কেটেছে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

জানা গেছে, বড় বেরাইদে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. মিকাইল হোসেন বাবুলের নেতৃত্বে মো. জনি, মো. রান্টু, মো. শাকিল ও রাজ্জাকসহ ১০/১২ জন এই ঘটনা ঘটনাতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বাড্ডা থানায় জিডি করা হয়েছে।

প্রজেক্টের নিরাপত্তায় দায়িত্বরত রাশেদুল ও মোস্তাফিজ জানান, রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে ১০/১২ জনের একটি সশস্ত্র দল মুখে গামছা বেঁধে বড় বড় রামদা, চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রজেক্টের ভেতরে প্রবেশ করে গাছগুলো এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ধ্বংস করছিল। এসময় দুই নিরাপত্তাকর্মী সামনের দিকে টর্চ লাইট জ্বালালে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তারা জীবন রক্ষার জন্য দৌড়ে প্রজেক্টের ভবনে ঢুকে পরে। এসময় ওই সন্ত্রাসীরা গাছগুলো এলোপাতারি কুপিয়ে ১২৮টি গাছ সাবার করে ফেলে।  

নিরাপত্তাকমীরা আরো জানান, সন্ত্রাসীরা এর আগেও তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল।

বাড্ডা থানার এসআই আরিফ সময়ের আলোকে জানান, দুর্বৃত্তরা মুখোশ পরে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রজেক্টে গাছ কেটে চলে গেছে। এই বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। সন্ত্রাসীদের কাউকে চিহ্নিত করা গেছে কি না, এমন প্রশের জবাবে আরিফ জানান, ওই ঘটনায় কাউকে চিহ্নিত বা শনাক্ত করা যায়নি। 

তিনি আরও বলেন, তবে গত ২২ নভেম্বর আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের সাইনবোর্ড কেটে ফেলেছে একটি গ্রুপ। ওই ঘটনায় থানায় একটি জিডি হয়েছে। ওই জিডিতে যাদের বিবাদী করা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে তারাই এঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ নভেম্বর দুপুরে বড় বেরাইদের আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রজেক্টের সামনে বড় লোহার সাইবোর্ডের সামনে ২/৩ জন মোটরসাইকেল যোগে মো. কিমাইল হোসেনের নেতৃত্বে ৭/৮ জন এসে প্রকাশ্যে একটি লোহার সাইনবোর্ড গ্যান্ডিং মেশিন দিয়ে কেটে ফেলে। 

আরেকটি সাইনবোর্ড কাটার সময় দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী শাখাওয়াত হোসেন বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। একপর্যায়ে তারা হত্যার হুমকি দিয় চলে যায়। ঘটনার পরের দিন বাড্ডা থানায় গিয়ে নিরাত্তাকর্মী শাখওয়াত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ১৭১১। ওই জিডিতে বিবাদী করা হয় বড় বেরাইদ এলাকায় মো. ইসলাফিলের ছেলে মো. মিকাইল হোসেন বাবুল (৫৫), মো. আবুল খায়েরের ছেলে মো. জনি (৩২), মো. নুরুর ছেলে মো. রান্টু (৩৩), মো. মজিবুর রহমানের ছেলে  মো. শাকিল (২৭) ও রাজ্জাককে (২৬)।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কলাগাছগুলোর অর্ধেক কেটে ফেলা হয়। বেশ কয়েকটি গাছে কলার ছড়ি দেখতে পাওয়া যায়। ছড়িগুলো মাটিতে পরে ছিল। সেগুলো ভালো করে পরিপক্ব হয়নি। পেয়ারা গাছগুলো ডালপালা এমনকি গোঁড়া থেকেই কেটে ফেলা হয়। এমন নৃশংসতা দেখে অনেকেই আফসোস করছেন।

প্রজেক্টের দক্ষিণ পাশে বসবাসরত স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,  মো, মিকাইল  হোসেন বাবুল গংরা প্রায় সশস্ত্র অবস্থায় হামলা-ভাংচুর চালায়। তাদের উৎপাতে এলাকায় বসবাসকারীরা সব সময় আতংকে থাকেন। ওই সূত্র আরো জানায়, এখানে রাত ১১ টার পর সবাই ঘুমিয়ে পরেন। রাতের অন্ধকারে এভাবে গাছ কেটে ফেলা দুঃখ জনক। গাছের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা দেখে তারা বলেন জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।  

বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সময়ের আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলে আমাদের অফিসাররা গিয়ে পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা থানায় মামলা করেছেন। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে গুলশান জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, বিষয়টি আমি দেখবো। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে এর আগেও সন্ত্রাসীরা আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের বেরাইদের সাঁতারকুল প্রজেক্টের দেয়ালে প্রকাশ্যে রঙ দিয়ে নাম গুলো মুছে দেয়। পুরো দেয়াল ঘিরে লেখা হয় বিভিন্ন নাম। বাঁধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে যায়। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নিরাপত্তাকর্মীরা।  

এফএইচ




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]