ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

অভিশাপ যে ক্ষতি ডেকে আনে
মাওলানা দৌলত আলী খান
প্রকাশ: রোববার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১, ৬:৪৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 149

অভিশাপ দেওয়া অপছন্দনীয় কাজ। কথায় কথায় পরস্পরকে অভিশাপ দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। এ স্বভাব কোনো মুমিনের হতে পারে না। অকারণে কাউকে অভিশাপ দিলে তা নিজের ওপরই প্রত্যাবর্তন করে। সাধারণত নারীদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এমনকি নিজের সন্তানকেও অভিসম্পাত দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধা করে না তারা। অথচ ইসলাম কখনও অন্যের অমঙ্গল কামনার শিক্ষা দেয়নি। ইসলাম সর্বদা অভিশাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। এর পরিণামে জাহান্নামের কঠিন আজাব ভোগ করতে হবে। তাই মুসলিম উম্মাহকে এ কদর্য কুস্বভাব পরিহার করে চলা জরুরি। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যার হাত ও মুখের আঘাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে সেই হলো প্রকৃত মুসলমান। সুতরাং কোনো মুসলমান অভিশাপ দিয়ে অন্যকে কখনও আঘাত করতে পারে না এবং তা ইসলামী শিষ্টাচারও নয়।’

অভিশাপ দেওয়া জঘন্য অপরাধ 
অধুনা সমাজে অভিশাপ প্রথা অনেকের স্বভাবে পরিণত হয়েছে এবং মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে রূপ নিয়েছে। এ হীনচরিত্র মুসলিম সমাজে কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষ পরস্পর ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার প্রথম হাতিয়ার হিসেবে ঠিক করে নেয় অভিসম্পাত করাকে। রাগের বশে বলতে শুরু করে তুমি জাহান্নামি, তুমি ধ্বংস হও, তোমার ওপর খোদার গজব নাজিল হোক ইত্যাদি। এ হলো সমাজের ও মানুষের একটা হীনচিত্র ও মন্দ স্বভাব। এভাবে কোনো মুসলিম বা মুসলিম সমাজের গালি হতে পারে না। এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা পরস্পরে এভাবে অভিসম্পাত করবে না যে, তোমার ওপর আল্লাহর লানত-অভিশাপ নাজিল হোক। আর আল্লাহর গজব পতিত হোক এবং তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করো- এই বলে বদদোয়াও করবে না।’ (তিরমিজি : ২১০৪; আবু দাউদ : ৪৯০৮)

অভিশাপ দেওয়া মুমিনের স্বভাব নয়
মুমিনদের মুখের ভাষা হতে হবে প্রীতিদায়ক ও মাধুর্যপূর্ণ। তাদের কথা ও কাজে থাকতে হবে দ্বীনি দাওয়াতের প্রভাব। কোনো মুমিন অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধন করতে পারে না এবং কাউকে অভিশাপ দিতে পারে না। মুমিনের স্বভাব-চরিত্র হতে হবে নবীজির নির্দেশিত আদর্শের অনুকূলে। নবীজি (সা.) কখনও অকারণে কাউকে অভিশাপ দেননি। তিনি উম্মতদেরকে অভিশাপ দেওয়া ও অভিশপ্ত কর্ম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর মুসলিম জাতি হলো জগতের শ্রেষ্ঠ জাতি; এ শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে হলে অবশ্যই অভিশাপের মতো ঘৃণিত কাজ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখতে হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো মুমিনের পক্ষে অধিক অভিসম্পাতকারী হওয়া সমীচীন নয়।’ (মুসলিম : ৬৭৭৩)। তিনি আরও বলেন, ‘ঈমানদার ব্যক্তি ভর্ৎসনাকারী, অভিসম্পাতকারী, অশ্লীল গাল-মন্দকারী ও নির্লজ্জ হতে পারে না।’ (তিরমিজি : ২১০৫) 

অভিশাপদাতা সুপারিশকারী হতে পারবে না
সাধারণত মানুষ অভ্যাসের দাস। তাই মানবসমাজে এমন কিছু কু-অভ্যাসের মানুষ আছে যারা সামান্য ইস্যুতেও পরস্পরকে অভিশাপ দেয়। কথায় কথায় অভিশাপ দেওয়াই তাদের আদি স্বভাব। অথচ অধিক অভিসম্পাতকারীকে পরকালে ভীষণ আজাব ভোগ করতে হবে। সেই সঙ্গে তারা কেয়ামতের দিন অন্যের ব্যাপারে সুপারিশ করার সুযোগও হারাবে এবং তাদের কোনো ধরনের সাক্ষীও গ্রহণ করা হবে না। তারা কেয়ামত দিবসে অসহায় বান্দা হিসেবে পরিণত হবে। হাদিসে আছে, হজরত আবুদ দারদা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘অধিক অভিসম্পাতকারী কেয়ামতের দিন সাক্ষ্যদাতা ও সুপারিশকারী হতে পারবে না।’ (মুসলিম : ৬৭৭৭)

প্রাকৃতিক বস্তুকে অভিশাপ দেওয়া নিষেধ 
প্রাকৃতিক বস্তু বা পরিবেশকে গালি দেওয়া অথবা অভিশাপ দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। আবহাওয়া কারও ক্ষতি বা উন্নতি করার শক্তি রাখে না। ঝড়-বৃষ্টি, তুফান-ঘূর্ণিঝড়, ঠান্ডা-গরম ইত্যাদির কারণে কারও ক্ষতি হলে তখন এসব প্রাকৃতিক বস্তুকে অভিশাপ দেওয়া উচিত নয়। কেননা, প্রাকৃতিক বস্তুগুলোর দরুন কারও ক্ষতি হলেও আবার অন্যদের লাভও হচ্ছে- সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। 

আর প্রাকৃতিক বস্তুগুলো আল্লাহ তায়ালার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এমনকি প্রাকৃতিক বস্তুগুলোতে আল্লাহর অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ ও অস্তিত্বকে অভিশাপ দেওয়া কোনো মুমিনের স্বভাব ও আদর্শ হতে পারে না। তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য উচিত আবহাওয়া, প্রাকৃতিক বস্তু, পরিবেশ, বৈরী পরিবেশ ইত্যাদিকে অভিশাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকা। হাদিসে আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন বাতাসে এক ব্যক্তির চাদর উড়িয়ে নিল, তখন সে বাতাসকে অভিশাপ দিল। তা শুনে রাসুল (সা.) বললেন, বাতাসকে অভিশাপ দিও না। কেননা, তা তো আদিষ্ট। বস্তুত যে ব্যক্তি এমন কিছুকে অভিশাপ দিল যা অভিশাপের উপযোগী নয়, তবে ওই অভিশাপ তার প্রতি ফিরে আসবে। (আবু দাউদ : ৪৯১০)




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]