ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ১৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

এবার গ্রাহকের শতকোটি টাকা নিয়ে উধাও সোশ্যাল মিশন
এসএম মিন্টু
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ৯:০৪ এএম আপডেট: ২৯.১১.২০২১ ৯:১৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 214

গ্রাহকের শতকোটি টাকার বেশি নিয়ে উধাও হয়েছে সোশ্যাল মিশন (এসএম) লিমিটেড নামে একটি ই-কমার্স কোম্পানি। মাত্র পাঁচ মাসেই এই প্রতিষ্ঠানটি লক্ষাধিক গ্রাহক তৈরি করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ই-কমার্স ও এমএলএম (মাল্টিলেবেল মার্কেটিং) এসএম লিমিটেড তাদের অফিস গুটিয়ে চলে গেছে বলে অভিযোগ করেছে গ্রাহকরা। এতে প্রতিষ্ঠানটি শতকোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে অভিযোগ করেছে গ্রাহকরা। উধাও হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শুভ চৌধুরীও গা-ঢাকা দিয়েছেন। 

গতকাল একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ৫ জুলাই এসএম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল মিশন লিমিটেড অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ১৫০০ টাকায় আইডি করে। আইডি খোলার পর ওই গ্রাহককে ১৫০০ টাকার পণ্য দেওয়া হয়। দেখা গেছে নিম্নমানের ওই পণ্যের মূল্য ৭০০ টাকাও নয়। একই সঙ্গে ওই অফারে রয়েছে প্রতি আইডির জন্য ১ হাজার টাকা। প্রতি আইডির জন্য গ্রাহক পাবে ২০ টাকা। এতে জেনারেশন বোনাস রয়েছে ১০০ টাকা।

গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, ৭৫ বছরের পুরনো গ্রুপ অব কোম্পানি সোশ্যাল লিমিটেডের নামে ই-কমার্স ও এমএলএম পদ্ধতিতে তিন মাসেই কয়েক লাখ মানুষের শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরই মধ্যে এসএম গ্রুপের বিরুদ্ধে দুশতাধিক গ্রাহক অভিযোগ দিয়েছে। তাদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস শ্রমিক, দিনমজুর ও অসহায় নারীরাও রয়েছে।

সহায়-সম্বল হারিয়ে গত ৩০ অক্টোবর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় শারমিন নামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী কাউছার আহম্মেদ, হাবিবুর রহমান, মো. জহির ও গিয়াসউদ্দিন নামে চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, সেলাইয়ের কাজ ও কসমেটিকস বিক্রি করে দুই শিশু সন্তান লালন-পালন করছেন। তিনি অনেক কষ্টে ২ লাখ টাকা জমিয়ে এসএম লিমিটেডের খপ্পরে পড়েন। তিনি ১ হাজার টাকা দিয়ে আইডি কিনলে প্রতিদিন ২০ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে হরেক রকম বোনাস দেওয়ার কথা। ব্যবসা দেখাতে কাকরাইলে এসএম গ্রুপের অফিসেও নিয়ে যায়। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জমানো ২ লাখ ৬ হাজার টাকার সবটা দিয়েই আইডি কেনেন তিনি। সেই টাকার লভ্যাংশ ও বোনাস এমনকি আসল টাকার একটাও পাননি তিনি। টাকা ফেরত চাইলে তারা নতুন সদস্য জোগাড় করে না দিলে টাকা দেবে না বলে জানায়। পরে গত ২৯ অক্টোবর নতুন সদস্য পাওয়া গেছে জানানোর পর কাউছার ও হাবিব নামে দুজনকে এলাকায় আনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরদিন মামলা করেন তিনি। এ ব্যাপারে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মুহাম্মদ মোতালেব হোসেনকে ফোন দিলে তিনি বলেন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছেন ওই নারী। দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অন্য আসামি গ্রেফতার বা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও হয়নি। তবে চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, গত আগস্টের শুরুতে ‘সোশ্যাল মিশন’ নাম দিয়ে ই-কমার্সের আড়ালে এমএলএল প্রতারণা শুরু করে এসএম গ্রুপ নামধারী প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে (https://smshare1.com/) দেওয়া আছে ১৯৪৬ সালে শুরু তাদের ব্যবসা। ১ হাজার টাকার আইডি কিনলে প্রতিদিন ২০ টাকা মুনাফার পাশাপাশি নতুন সদস্য যোগদান করালে রেফারেল বোনাস, জেনারেশন বোনাস, নগদ টাকা, গাড়িসহ নানা উপহারের লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়। লেনদেনের জন্য ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে খোলা হয় এজেন্ট অফিস। অক্টোবরেই প্রতিষ্ঠানটির ২০ লাখ সদস্য হয়ে গেছে বলে গ্রাহকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়। সেই হিসাবে বাজার থেকে উঠেছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এর কিছু অংশ শুরুর দিকে মুনাফা হিসাবে গ্রাহকদের দিলেও অক্টোবরের মাঝামাঝি টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রত্যেকের আইডি প্রোফাইলে জমা থাকা টাকার ঘরটির সেই টাকা দেখানো হলেও গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারেনি।

গত শনিবার আশিক আহমেদ নামে এক গ্রাহক উত্তরা অফিসে গেলে অফিসটির কোনো হদিস পাননি। এরপর যোগাযোগ করেন উত্তরা অফিসের দায়িত্বরত মেহেদীর সঙ্গে। মেহেদীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। বাড্ডার অফিসে অ্যাকাউন্টের দায়িত্বে ছিলেন আতাউর রহমান। আতাউরের কোনো হদিস নেই। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি বারবার ব্যর্থ হন। এরপর যোগাযোগের চেষ্টা করেন জহিরের সঙ্গে। তার ফোন খোলা থাকলেও জহির আশিক আহমেদের ফোন ধরেননি।

গতকাল জহিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময়ের আলোকে বলেন, তিনি নিজেও একজন ভুক্তভোগী। তার সঙ্গেও কোম্পানি প্রতারণা করেছে। তবে আশিক আহমেদ বলেন, জহিরই তাদের এসএম লিমিটেডে যুক্ত করেছেন। তার মাধ্যমেই তারা টাকা দিয়েছেন উত্তরা অফিসে।





http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]