ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ১৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

বাসমালিকদের হাতেই সব ক্ষমতা!
শিহাবুল ইসলাম
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ৯:২২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 126

মালিক-শ্রমিক নেতাদের প্রভাবে ২০১৮ সালে করা নিরাপদ সড়ক আইন এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। হাফ পাসসহ ৯ দফা দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এখনও কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে না আসা, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র না দেওয়া, ফিটনেসবিহীন বাস চালানো, বাস ভাড়া বৃদ্ধি, কথায় কথায় বাস বন্ধ করে দেওয়া- কোথায় নেই মালিক বা মালিক সমিতির নেতাদের প্রভাব।

বর্তমান পরিবহন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে বাস রুট রেশনালাইজেশনের বাস্তবায়ন করতে চায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, কিন্তু সে উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে প্রথম ধাপের ‘ঢাকা নগর পরিবহন’-এর নামে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত বাস চলাচল শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে তা পিছিয়ে আগামী ২৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির পর মালিকরা বলেছিলেন, সিটিং সার্ভিস ও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হবে না, কিন্তু সে প্রতিশ্রুতিও তারা রাখেননি।
 
শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিয়ে গত ২৫ নভেম্বর প্রথম দফায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বাস মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে, কিন্তু কোনো সমাধান ছাড়াই সে বৈঠক শেষ হয়। যেখানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তার কথায় বাসমালিকদের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। তিনি ওইদিন বলেছিলেন, ‘আমরা ভাড়া কনসেশনের জন্য মালিকদের অনুরোধ জানিয়েছি এবং যত দ্রুত সম্ভব তারা আমাদের একটি প্রস্তাবনা দেবেন। মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা বা কোনো সমঝোতা না করে কোনো সিদ্ধান্ত যদি তাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়, তারা যদি বলে যে আমরা গাড়ি চালাব না তখন দেখা যাবে পাবলিক সাফারিং (জনভোগান্তি) বাড়বে। তিনি বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে হাফ ভাড়া নেওয়ার নজির নেই, বলে তারা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। আমরা বলেছি, এ বিষয়ে তাদের কনসিডার করতে হবে। ওই বৈঠকের একদিন পর অর্থাৎ ২৭ নভেম্বর আবারও তারা বৈঠকে বসেন, সেখানে মালিক-শ্রমিকরা সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেওয়াসহ ১১ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল হক মনে করেন, ‘পুরো পরিবহন ব্যবস্থা বিরাট মন্সস্টারের হাতে। যেখানে সরকার প্রভাব ফেলতে অক্ষম। সরকার যে স্বপ্নের কথা বলে, সেই স্বপ্নের সঙ্গে বর্তমানের পরিবহন সিস্টেম বেমানান। এই সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে।’

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে থাকার কারণে সরকার ও সাধারণ মানুষ, বাসমালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে দরকার বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা, যেমন ঢাকার পাশ দিয়ে চলা নদীর নৌ শক্তিশালী করা, বিআরটিসি বাসের সক্ষমতা বাড়ানো। দ্রুত মেট্রোরেল চালু করা।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও বিআরটিসি বাসকে শক্তিশালী করা সম্ভব হয়নি। ঢাকার আশপাশে নৌপথের যে অমিত সম্ভাবনা তা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের পাশর্^বর্তী শহর কলকাতার কথা যদি ধরেন, ওদের ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে ট্রাম আছে, তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান শহরের মধ্যে বাস পরিচালনা করে, ওদের মেট্রোরেল আছে, সার্কুলার রেল আছে, সাবওয়ের রেল আছে, পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরের বাস রয়েছে। তাদের অনেক অপশন আছে। আজকে প্রাইভেট সেক্টরে যারা বাস পরিচালনা করছে তারা কেন আমাদের জিম্মি করে ফেলছে। বর্তমান সিস্টেমে বাসমালিকরাই সব। কারণ আমাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। এর বিকল্প যখন পাওয়া যাবে তখন এই জিম্মিদশা থেকে আমরা বের হতে পারব।’





http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]