ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

কয়লার দাম বাড়ায় বন্ধের পথে বাগমারার ৫০ ইটভাঁটা!
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ৫:২৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 145

আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রভাব পড়েছে রাজশাহীর বাগমারার ইটভাঁটার ওপর। এতে প্রায় ৫০টি ইটভাঁটার কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইট তৈরির মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ইট ব্যবসায়ী ও ভাঁটার মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে কয়লা আমদানি না থাকাকেই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন জানা গেছে, বাগমারা উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ৫০টি ইটভাঁটা রয়েছে। ইটভাঁটার মালিক ও ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরু সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর থেকে ইট তৈরির কার্যক্রম শুরু করেন। চলতি মৌসুমে ইট পোড়াতে কয়লা সঙ্কটের কারণে ইট তৈরির কার্যক্রম এখনও শুরু করতে পারছেন না ইটভাঁটা মালিক ও ইট ব্যবসায়ীরা। কোনো কোনো ইটভাঁটার মালিক লোকসানের আশঙ্কায় ইট তৈরির কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। এমনকি কিছু কিছু ইটভাঁটার মালিক ও ব্যবসায়ী ইট পোড়াতে কাঠের ব্যবহার করছেন।

কয়লার দাম বৃদ্ধির কারণে চলতি নভেম্বরে বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ইটভাঁটাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমন সিদ্ধান্তের পরপরই বাগমারাসহ রাজশাহী অঞ্চলের ভাঁটাগুলোতে ইটের দাম বেড়ে যায়। দাম বাড়ার কারণে বিপাকে পড়ে সরকারি ও বেসরকারি নির্মাণ সংস্থাগুলো। ইটের অভাবে থেমে গেছে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ। এ ছাড়াও বেকার হয়ে পড়েছে ইটভাঁটায় কর্মরত লাখ লাখ শ্রমিক।

বাগমারা উপজেলা ইটভাঁটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হেলাল জানান, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়লা উৎপাদনকারী দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। কয়লার দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যোগ হয়েছে জাহাজ ভাড়া, ভ্যাটসহ আমদানি শুল্ক। সব মিলিয়ে গত বছর আমদানিকৃত কয়লার দাম ছিল ন থেকে ১০ হাজার টাকা টন। এবার দাম বেড়ে একই কয়লা দাঁড়িয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা টন। কয়লার এমন দাম বৃদ্ধির কারণে কোনো কোনো ভাঁটা মালিক কাঠ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কয়লার চেয়ে কাঠের দাম কম হওয়ায় ভাঁটামালিকরা বিকল্প হিসেবে কাঠ ব্যবহার করছেন। তবে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন জাহাঙ্গীর আলম। 

তিনি বলেন, ইটভাঁটায় কাঠ পোড়ানো হলে বাতাসে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেবে। যে কারণে ভাঁটা এলাকার লোকজনের সমস্যার সৃষ্টি হবে। এ ছাড়াও এলাকার বনায়ন উজাড় করবে ভাঁটা মালিকরা। এমন কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে কিছু সুবিধাবাদী লোক সরকারি রাস্তার গাছ কেটে ফেলতে পারে। তাই ভাঁটা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কয়লার দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, একটি ইটভাঁটায় ইট তৈরিতে সর্বনিম্ন ১৫০ থেকে ১৮০ জন শ্রমিককে কাজ করতে হয়। এ ছাড়াও ইটভাঁটা মালিকদের প্রতি মৌসুমে সরকারকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ভ্যাট প্রদান করতে হয়। এর বাইরেও অনেক খরচ রয়েছে ভাঁটা মালিকদের। বর্তমানে ইটের হাজার ৭ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। যার কারণে ভাঁটা মালিকরা তাদের ব্যবহৃত মূলধন হারাতে বসেছেন। অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ইটভাঁটা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বর্তমানে কয়লার দাম বৃদ্ধির কারণে তারা ইট তৈরি থেকে বিরত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। 

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]