ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ১৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

পরিযায়ী পাখিদের প্রতি নিষ্ঠুরতা কেন
মিজানুর রহমান
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:৩২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 132

প্রতিবছর শীতের মৌসুমে পরিযায়ী বা  অতিথি পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়। জীবন বাঁচাতে এসব পাখি নানা দেশে অতিথি হয়ে থাকে। খাদ্য সঙ্কট ও তীব্র শীতের কারণে নিজ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয় তারা। বাংলাদেশে খাল-বিল ও হাওর অঞ্চলেও আগমন করে এসব পাখি। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি এসব পাখি শিকার করতে চায়; পাখি ধরার নানা ফাঁদ পেতে এদের ভয়ভীতি দেখায়। অথচ এটা খুবই অনুচিত কাজ।

জীবের প্রতি দয়া করলে আল্লাহ খুশি হন, এমন কথা কমবেশি সবারই জানা আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) শত্রুমিত্র ভেদাভেদ ভুলে অসহায় মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেছেন। নবী (সা.)-এর দয়া ও দরদ থেকে বাদ পড়েনি সাধারণ কীটপতঙ্গ, পশুপাখি, জীবজন্তু এমনকি বৃক্ষরাজিও। হাদিসে এসবের প্রতি দয়া প্রদর্শনের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। তন্মধ্যে এ বিখ্যাত ঘটনাটি তো সবারই জানা- এক দিন এক বালক পাখির বাসা থেকে দুটি ছানা নিয়ে যাচ্ছিল। মা পাখিটা ছানার শোকে পাগলপ্রায় হয়ে ওই বালকটির মাথার ওপর ওড়াউড়ি করতে লাগল। এ দৃশ্য দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) বালকটিকে বললেন, ছানা দুটি বাসায় রেখে এসো। দেখছ না মা পাখিটি কেমন পাগল হয়ে তোমার মাথার ওপর ওড়াউড়ি করছে, নিজের জীবনের মায়া পর্যন্ত নেই! রাসুলুল্লাহর (সা.) কথায় ওই বালক ছানা দুটিকে পাখির বাসায় রেখে এলো। ছানা দুটিকে পেয়ে মা পাখিটি বাচ্চা দুটিকে অনেক আদর-সোহাগ করল, তা দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) খুব খুশি হলেন। (মেশকাত)

অহেতুক পশুপাখির পেছনে লেগে থাকা, অযথা এগুলোকে শিকার করা ইসলামে নিন্দনীয়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কোনো প্রাণীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ো না।’ (মুসলিম : ১৯৫৭)। আরও বলেন, ‘এসব বাকশক্তিহীন প্রাণীর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।’ (আবু দাউদ : ২৫৪৮)। নবী (সা.) গর্তস্থ কীটপতঙ্গদের জীবন রক্ষার নিমিত্তে গর্তে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। কারণ গর্তে পিঁপড়া ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ থাকে। তারা মারা যেতে পারে (কষ্ট পেতে পারে)। (আবু দাউদ : ২৯)। পশুপাখির প্রতি এমন দয়া-মায়ার প্রেক্ষিতেই নবী (সা.)-কে শুধু মানুষের নবী না বলে ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ তথা ‘বিশ^বাসীর জন্য রহমত’ অভিধায় ভূষিত করা হয়েছে। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, দুনিয়ার বুকে যদি কোনো পশু অন্য পশুকে আঘাত করে আর আঘাতপ্রাপ্ত পশুটি প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ না পায় তাহলে দুটো পশুকেই হাশরের ময়দানে উপস্থিত করানো হবে এবং অত্যাচারিত পশুটিকে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে। বাদ যাবে না অত্যাচারী মানুষও। একবার ভাবুন, পশুরা প্রতিশোধ নিচ্ছে মানুষের ওপর, তখন কী ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে তা সহজেই বোঝা যায়। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তুমি যদি কারও ওপর দয়া করো তাহলে তোমার ওপরও দয়া করা হবে।’ (মুসলিম : ২৩১৮)

মোদ্দাকথা, অসুস্থ পশুপাখির সেবা করা, তাদের আশ্রয় প্রদান করা, অভুক্ত পশু-পাখিকে খাওয়ানো অনেক সওয়াবের কাজ। সুতরাং আশ্রয়প্রার্থী কোনো পাখিকে শিকার করে রসনাতৃপ্ত করা যে জঘন্যতম অপরাধ- এটা আর নতুন করে বলার অবকাশ রাখে না। এভাবে পশুপাখি শিকার, ভোজন, ক্রয়-বিক্রয় ইসলামের শিক্ষার বিপরীতও বটে। বহির্বিশে^ দেখা যায়; নির্ধারিতভাবে পশু-পাখিদের জন্য পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করা থাকে। অবুঝ প্রাণীদের প্রতি সদয় দৃষ্টি রাখতে হবে আমাদের।

লেখক: ইমাম, মসজিদ আল আনাস (রা.), জিজান, সৌদি আরব




http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]