ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২ ৪ ভাদ্র ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ : অনিয়মে ব্যয় কমল ৫৮ কোটি টাকা
এম আর মাসফি
প্রকাশ: শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:২৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 444

স্বাস্থ্য খাত মানেই যেন অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়াখানা। এ খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে সবসময়ই যেন থাকে ধীরগতি আর অনিয়ম। তেমনি চাঁদপুরে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পের শুরুতেই অনিয়ম উঠে এসেছে। 

অন্যদিকে ব্যয় বেশি ধরায় পরিকল্পনা কমিশনের চাপে ব্যয় কমেছে ৫৮ কোটি টাকা। আবার নতুন করে যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে তাতেও বেশ কিছু খাতে ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ, যা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ফের সংশোধন করে ডিপিপি পাঠানোর জন্য বলেছে কমিশন। 

২০১৮ সাল থেকে চলছে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের প্রস্তাবনা। যন্ত্রপাতি কেনার জন্য দেওয়া মূল্য বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন এবং তার পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রস্তাবনায় নেই। জনবল নির্ধারণেও নেওয়া হয়নি অর্থ বিভাগের অনুমোদন। এক বছর পর ব্যয় বাড়িয়ে সংশোধিত ডিপিপি পাঠানো হয়েছে বলে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগ থেকে জানা গেছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন শিরোনামে মোট ১ হাজার ২৫১ কোটি ১০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হলে এর ওপর ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। এরপর আরও দুইবার পিইসি সভায় সংশোধনী দেওয়ার পর এবার মোট ১ হাজার ১৯৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনা থেকে জানা গেছে, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ইউনিটপ্রতি মূল্যে অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়েছে। 

যন্ত্রপাতিগুলো হলো- নেবুলাইজার মেশিন, পিক ফ্লো মিটার, গ্লুকোমিটার, কার্ডিয়াক মনিটর ডেফ্রিবিলাটরসহ, ইসিজি মেশিন চ্যানেল-১২, রোগীর এক্সামিনেশন টেবিল, ভিউ বক্স, এক্স-রে ডাবল, পালস অক্সিমিটার, ট্রলি, মেডিসিন। ফুল সাচিবিক টেবিল ৫৩ হাজার, ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা। 

হাসপাতালের জন্য সমন্বিত তালিকায় পৃথকভাবে প্রস্তাব করা সত্ত্বেও গাইনি ও অবস বিভাগের জন্য ২টি হুইল চেয়ার ও ১০টি পালস অক্সিমিটার, নিউরোলজি বিভাগের জন্য একটি ইনফিউশন পাম্প এবং নার্সিং কলেজের জন্য ২০টি বিপি মেশিন ও ২২টি স্টেথোস্কোপের সংস্থান রাখা হয়েছে। সমন্বিত তালিকা থেকে দেখা যায়, হাসপাতালের জন্য কোনো হসপিটাল বেডের সংস্থান রাখা হয়নি। কোনো বিভাগের জন্য স্টেথোস্কোপের প্রস্তাব করা হয়নি, যা হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

খরচের বিভাজন থেকে দেখা যায়, হাসপাতালের আসবাবপত্রের আওতায় সোফাসেট ৫২ হাজার থেকে এখন ৭০ হাজার টাকা, কনফারেন্স টেবিল ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, মিট সেফ ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজের আসবাবপত্রের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। ইমার্জেন্সি বা রিসুসিটেশন কার্ট এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা, ডিজিটাল এক্স-রে ৭৫ লাখ থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা, হাই গ্রেড ডিজিটাল মেমোগ্রাফি মেশিন ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম প্রধান বলছেন, প্রকল্পে জনবল সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের সুপারিশে আউট সোর্সিং খাতে ৩ জনের সংস্থান রয়েছে; কিন্তু এখানে ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে ৫ জনের। সর্বশেষ পিইসি সভায় উপস্থাপিত ডিপিপি অপেক্ষা ব্যয় ২৪ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন পরিকল্পনা বিভাগের এসইসি-একনেক ও সমন্বয় অনু বিভাগের ফরম্যাট অনুযায়ী যথাযথ হয়নি।

কমিশন বলছে, পরামর্শক খাতে ক্রয় পদ্ধতি হিসেবে ফিক্সড বাজেট উল্লেখ করা হয়েছে, যা কোনো ক্রয় পদ্ধতির আওতায় পড়ে না। দরপত্র আহ্বান, চুক্তি স্বাক্ষর ও সম্পাদনের তারিখ প্রকল্পের প্রস্তাবিত বাস্তবায়নকালের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হালনাগাদ করতে হবে।

ব্যয় বেড়েছে যেসব খাতে- হাসপাতালের আসবাবপত্রের আওতায় সোফাসেট ৫২ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা হয়েছে, কনফারেন্স টেবিল ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা হয়েছে, স্টিলের আলমিরা ১৯ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, বুক শেলফ ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা ও মিটসেফ ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা হয়েছে। 

প্রকল্পটিতে নতুন করে বিভাগ যেমন- মেডিসিন, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, অর্থোপেডিক, ইউরোলজি, ডার্মাটোলজি, সার্জারি, গাইনি অ্যান্ড অবস ইত্যাদির জন্য নতুন যন্ত্রপাতি প্রস্তাব করা হয়েছে। 

বেশ কিছু যন্ত্রপাতি যেমন- ইমার্জেন্সি/রিকুজিশন চার্টে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১০০০ এমএ ডিজিটাল আর/এফ এক্স-রে ৭৫ লাখ থেকে টাকা ২ কোটি ২০ লাখ টাকা। হাইগ্রেড ডিজিটাল মেমোগ্রাফি মেশিনে ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। 

প্রকল্পের প্রস্তাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, চাঁদপুর চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জনবহুল জেলা। তারপরও চাঁদপুরবাসী স্বাস্থ্য সেবার জন্য নোয়াখালী জেলার টারশিয়ারি লেভেল হাসপাতালের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চাঁদপুরের নবজাতক মৃত্যুর হার ২৫ দশমিক ৫ এবং ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। পাশাপাশি এ জেলার রোগ ও দুর্যোগ সংক্রান্ত কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধীর হার শতকরা ১২ দশমিক ২ শতাংশ। 

চাঁদপুর জেলার স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয়, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, আসবাবপত্র সংগ্রহ, যানবাহন ক্রয়, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ক্রয়, প্রশিক্ষণ ও জনবল নিয়োগ করা হবে।

ফের প্রস্তাবনার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (স্বাস্থ্য উইং) মো. আবু ইউসুফ মিয়া সময়ের আলোকে বলেন, তারা নতুন করে সংশোধন করে প্রকল্পটি আবারও পাঠিয়েছে। এখন যে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে তাতে ব্যয় ঠিক আছে। 

কয়েকটি খাতে আগের চেয়ে ব্যয় বেশি ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা ওই খাতগুলোতে আগে কম ধরেছিল, এখন যে ব্যয় ধরেছে সেটা ঠিক আছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি কিছু অবজারভেশন থাকলে সেগুলো দিয়ে জারি হয়ে যাবে। এরপর তারা ডিপিপি পাঠালেই সেটা একনেকে যাবে।


আরও সংবাদ   বিষয়:  চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]