ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

সড়কে পিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন
সাইফুল ইসলাম
প্রকাশ: রোববার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 91

মাহাদী হাসান লিমন (২১)। গ্রিন ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু সড়কে লরির চাকায় পিষ্ট হয়েছে সেই স্বপ্ন। লেখাপড়ায় মেধাবী ছিলেন তিনি। এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল ছিল তার। শুক্রবার রাতে ধানমন্ডি এলাকা থেকে উত্তরার নিজ বাসায় যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থানার পদ্মা অয়েল পাম্পের সামনে লরির ধাক্কায় নিহত হন লিমন। ওই ঘটনায় লরিটি আটক করা হলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে।

লিমনদের বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার দমদমা গ্রামে। বড় বোন ও ছোট এক ভাই রয়েছে তার। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে কাঁদতে কাঁদতে লিমনের বাবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোফাজ্জেল হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, শুক্রবার রাতে ধানমন্ডি খালার বাসা থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তার উত্তরা বাসায় যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনায় পড়ে সে। বেপরোয়া একটি লরি আমার ছেলের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে মানুষ করেছিলাম। তার জীবনটা এখানেই থেমে গেল। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের তা বোঝানো যাবে না।

তিনি আরও বলেন, লিমনের মা মোসলেমা খানম ঢাকায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসার জন্য গাড়িতে ওঠে। মাকে রিসিভ করতেই রাতে বাসায় যাচ্ছিল ছেলে। কিন্তু দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে গ্রামে। বেঁচে থাকতে আর ছেলের সঙ্গে দেখা হলো না মায়ের। 

মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, আমি সারাটা জীবন কষ্ট করেছি। ছেলের সুখের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছি। উত্তরা দিয়ে মিরপুরে ইউনিভার্সিটিতে আসতে কষ্ট হবে তাই বছরখানেক আগে অবসরের টাকা দিয়ে কিনে দিয়েছিলাম মোটরসাইকেল। সেই মোটরসাইকেলই লিমনের মৃত্যুর কারণ হলো। এ ছাড়াও গত সপ্তাহে জমি বন্ধক রেখে ৪০ হাজার টাকা দিয়েছি লেখাপড়ার খরচ বাবদ। লিমন শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী থাকায় স্বপ্ন ছিল বের হয়ে চাকরি করবে। পরে আমার স্বপ্ন পূরণ হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ লাশবাহী গাড়িতে করে বাড়ির পথে। 

নিহত লিমনের খালাতো ভাই মারুফ হাসান সময়ের আলোকে বলেন, লিমন মেধাবী ও ভালো মনের মানুষ ছিল। ওর পছন্দগুলো ছিল অন্য রকম। সেদিক থেকেই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসা। ওর ইচ্ছা ছিল দেশের বাইরে যাবে, বড় চাকরি করবে। বাবার পাওনা পরিশোধ করবে। কিন্তু তা আর হলো না। 

তিনি আরও বলেন, লিমন ক্রিকেট খুব ভালো খেলত। এক সময়ে ইচ্ছা ছিল সে বড় ক্রিকেটার হবে। কিন্তু খেলতে গিয়ে এক দুর্ঘটনায় তার হাত ভেঙে যায়। তারপরও ভালো খেলত। বিভিন্ন জেলা লিগে খেলত। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছেলে হারা বাবা মোফাজ্জেল বুকভরা কষ্ট নিয়ে মৃতদেহের পাশে বসে আছেন। তার স্বজনদের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। লিমনের মৃতদেহ গোসল করানো হচ্ছে, কাফনের কাপড় পরানো হচ্ছে। ফেসবুকে দেখা যায়, লিমন জুনিয়র ক্রিকেট ক্লাবে খেলতেন। এ ছাড়াও ঘুরতে খুব পছন্দ করতেন তিনি। সবশেষ বাড়ি যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুতে বসে ভিডিও ও ছবি তুলেছিলেন লিমন। আর ক্যাপশনে লিখেছিল- তেমন কিছু না, গ্রুপের প্রিয়জনদের না জানিয়ে বাড়ি যাচ্ছি, সারপ্রাইজ দিতে। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সময়ের আলোকে বলেন, শিক্ষার্থী লিমন অনেক পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। ওই সময় পেছন থেকে এক লরি এসে তাকে চাপা দিয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কাছে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বিশ^বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড থেকে লিমনের পরিচয় শনাক্ত করে খবর দেওয়া হয়েছিল স্বজনদের। 

বিমানবন্দর থানার এসআই আসাদুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর আমরা গণমাধ্যমে খবর দেখে মৃতদেহ ঢামেকে নিয়ে আসি। পরে তার আইডি কার্ড থেকে পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারকে খবর দিলে তারা হাসপাতালে আসে। লিমনের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। 

তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় নিহত লিমনের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছেন। লরিটি আমরা আটক করেছি। চালক ও হেলপার পালিয়েছে। আমরা তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  সড়ক দুর্ঘটনা   শিক্ষার্থী নিহত   নিরাপদ সড়ক চাই  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]