ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

চট্টগ্রামে অরক্ষিত রেলক্রসিং, বাড়ছে প্রাণহানি
ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: রোববার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ৯:১২ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 170

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারি, নাজিরহাট ও ঢাকা রুটে চলাচল করে রেল। এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম হচ্ছে- চট্টগ্রাম-ঢাকা রুট। তবু তেমন লাভের মুখ দেখেনি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। বরং নানা সমস্যায় জর্জরিত রেলের এই বিভাগ। 

এতে প্রায়ই ঘটে রেলক্রসিং দুর্ঘটনা। শনিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের খুলশী থানার ঝাউতলা রেলক্রসিংয়ে ডেমু ট্রেনের ধাক্কায় এক ট্রাফিক পুলিশসহ বাস ও সিএনজি অটোরিকশার তিনজন মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। অভিযোগ উঠেছে, রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান আলমগীর ভূঁইয়া রেল আসার প্রায় ২০ মিনিট আগে একপাশের ব্যারিয়ার নামিয়ে দিয়ে চা পান করতে চলে যান। অন্য পাশের ব্যারিয়ার খোলা পেয়ে রেললাইনের কাছাকাছি থাকা সিএনজি অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা টেম্পো বাসের ধাক্কায় রেললাইনের ওপরে উঠে যায়। 

এ সময় নাজিরহাট থেকে আসা ডেমু ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দায়িত্বরত সিএমপির উত্তর বিভাগের কনস্টেবল মনির হোসেন (৪০), ঢালি কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী সৈয়দ বাহাউদ্দিন আহমেদ (৩০) ও সাতরাজ শাহীন (১৯)। আহত হন আরও ৮ জন। তারা হলেন- আবুল হোসেন (৬৫) জমির হোসেন (৪৮), শহীদুল ইসলাম (৪০), জয়নাল (২৬), জোবাইদা (২০), শামীমা (১১), মোহাম্মদ (১০) ও আদনান (৭)। এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন গেটম্যানের অবহেলার কথা তুলে ধরেন।
 
তিনি বলেন, এ কারণে পূর্বাঞ্চলের রেলক্রসিংগুলোয় দুর্ঘটনা বাড়ছে। তবে এ বিষয়ে সমস্যা খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ গেটে ২৪ ঘণ্টায় দায়িত্ব পালনের কথা ৩ জন গেটম্যানের। আলমগীর ভূঁইয়া ছাড়াও এ গেটে ডিউটিতে থাকেন গেটম্যান মাকসুদ ও আজাদ। কিন্তু ব্যস্ততম এ গেটে প্রায় সময়ই ব্যারিয়ার গেট না ফেলে হাতের ইশারায় ট্রেন আসার সঙ্কেত দেওয়া হয়।

তা ছাড়া আলমগীর সবসময় ট্রেন এলে গেটের এক পাশ বন্ধ করত, আরেক পাশ খোলা রাখত। পাশাপাশি সে আশপাশে থাকা বস্তির ছেলেদের ৫ থেকে ১০ টাকা দিয়ে গেট খোলা বা লাগানোর কাজ করাত। তার দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছুদিন আগেও একটি এসি বাসে থাকা ৩২ জন যাত্রী অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।

সূত্রমতে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতায় শুধু চট্টগ্রামেই ১৫০ রেলক্রসিং রয়েছে। এ ছাড়া অন্তত আরও ৩০০ অবৈধ রেলগেট রয়েছে। যেখানে ন্যূনতম সতর্কতাও নেই। এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, রেলক্রসিংগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় জনবল পূর্বাঞ্চলে নেই। এখানে গেটকিপার প্রয়োজন ২৪২ জন। বিপরীতে স্থায়ী গেটম্যান আছে ৪৫ জন। অস্থায়ী গেটম্যান আছে ৪৫ জন। ঘাটতি রয়েছে ১৫২ জনের। 

অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো : অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে তিনটি রেলরুটে হাতেগোনা কয়েকটি ক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকলেও তাদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে গাফিলতির অভিযোগ। ফলে রেল দুর্ঘটনা কপাল লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মিরসরাই উপজেলার ৩০ কিলোমিটার জুড়ে ৭০ থেকে ৮০টি রেলক্রসিংই যেন মৃত্যুফাঁদ। মিরসরাইয়ের ধুমঘাট রেল সেতু থেকে দক্ষিণের বারৈয়াঢালা পর্যন্ত এলাকায় গড়ে উঠেছে অন্তত ৫০টি অবৈধ রেলক্রসিং। 

চোরাই কাঠ ও পণ্য পরিবহনের স্বার্থে চোরাকারবারীরা এসব ক্রসিং তৈরি করেছে। এ ছাড়া বৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোর মধ্যে বারইয়াহাট, বিএসআরএম গেট ও মহামায়া ছাড়া বাকি চারটিতে কখনও গেটম্যান নিয়োজিত থাকে না বলে জানান স্থানীয়রা। 

চট্টগ্রাম-দোহাজারি রেলপথের ১০টি পয়েন্টে অরক্ষিত রেলক্রসিং বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এখানে কোনো গেটম্যান নেই। ফলে এ রেলক্রসিংগুলোয় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। রেলক্রসিংগুলোর মধ্যে রয়েছে গোমদণ্ডী রেলস্টেশনের পরে উপজেলা সড়ক, বেঙ্গুরা রেলস্টেশনের পরে সারোয়াতলী সড়ক, পটিয়া ধলঘাট রেলস্টেশনের পরে ধলঘাট ক্যাম্প ও চরকানাই সড়ক। হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রেলপথে ১৫ থেকে ২০টি বৈধ-অবৈধ রেলক্রসিংয়ের মধ্যে মাত্র ২টিতে জনবল রয়েছে। বাকি গেটগুলোয় কোনো জনবল নেই। হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট লাইনে দৈনিক ৮টি ট্রেন আসা-যাওয়া করে। 

স্থানীয়দের মতে, লাইনের বেশিরভাগ লেভেল ক্রসিংয়ের আশপাশে রয়েছে অবৈধ স্থাপনা। ফলে ট্রেন আসছে কিনা তা দেখা বা টের পাওয়া যায় না। বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনের দূরত্ব সাড়ে ২০ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই রেললাইনে ২১টি পয়েন্টে লেভেল ক্রসিং থাকলেও সবগুলোয় নেই গেটম্যান। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া সীতাকুণ্ডে বড়দারোগারহাট থেকে সলিমপুর পর্যন্ত সমগ্র উপজেলার মধ্যেই রেলপথ রয়েছে। যেখানে অগণিত রেলক্রসিং অরক্ষিত। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে নিয়মিত বেশ কয়েকটি এক্সপ্রেস ট্রেন, লোকাল ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। 

এ রেলপথের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে রয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি, শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও সরকারি ইকোপার্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফলে সাধারণ মানুষসহ অসংখ্য যানবাহন রেললাইনের উভয় পাশে আসা-যাওয়া করে। এতে বহু রেলক্রসিংয়ের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্রসিংয়েই গেটম্যান নেই বলে জানান স্থানীয়রা।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  অরক্ষিত রেলক্রসিং   রেল দুর্ঘটনা  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]